'পৌষী'- হাল ফ্যাশনের পোশাকের সেরা সম্ভারের জন্য ‘পৌষী’ এখন ফ্যাশন সচেতন তরুণীদের কাছে বেশ পরিচিত ৷ সেরা ডিজাইনের ফরমাল আউটফিটের জন্য কর্পোরেট মেয়েদের প্রথম পছন্দ ‘পৌষী’। মাহিয়া নিনান পৌষীর উদ্যোগ ‘পৌষী’ অল্প সময়েই আস্হা অর্জন করেছে অনলাইন কেনাকাটায়।
‘পৌষী’-র শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে সৃজনশীল এই তরুণী আমাদের জানান, ফ্যাশন ডিজাইনের জগতে তিনি আসবেন এবং এটি নিয়ে কাজ করবেন এমন কোনো ভাবনা তার মধ্যে ছিল না। বরং তার আগ্রহ ছিল ফটোগ্রাফিতে। শখের বসেই একদিন নিজের ডিজাইন করা কিছু পোশাকের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন তিনি৷ তখন সবাই খুব আগ্রহ দেখায় তার ডিজাইনগুলোর প্রতি এবং খুব অল্প সময়েই সবগুলো পোষাক সোল্ড আউট হয়ে যায়। এই ব্যাপারটিই মাত্র ১৯ বছরের পৌষীকে অনুপ্রাণিত করে এত বড় উদ্যোগ নিতে।
শুরুতে পরিবারের সাপোর্ট ছিল কি-না জানতে চাইলে পৌষী জানান, একদম শুরু থেকেই আমার বাবার সাপোর্ট ছিল প্রচণ্ডভাবে। এরপর বাবা যখন দেখলেন যে তার মাত্র ১৯ বছর বয়সী মেয়ে নিজে আয় করছে নিজের উদ্যোগ থেকে তখন তিনিই হয়ে উঠেন পৌষীর সবচেয়ে বড় সাপোর্ট সিস্টেম।
পৌষীর এই পুরো যাত্রায় তার বাবার পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ মাহিয়া নিনান৷ তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'প্রথম পেইড অর্ডার থেকে শুরু করে, প্রথম ইনভেস্টমেন্ট, বনানীতে আউটলেটের জন্য পার্টনার খুঁজে পাওয়া এসবই সম্ভব হয়েছে স্যোশাল মিডিয়ার কল্যাণে। ' এমনকি ফেসবুকের মাধ্যমেই পৌষীর ডিজাইন পৌঁছে যায় বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে সুদূর ইতালিতে৷ শুধু দেশ নয়, দেশের বাইরের ব্যাপক প্রশংসিত হয় পৌষীর সৃষ্টি।
মাহিয়া নিনান জানান, পৌষীর অভিনব দিক হলো পৌষী কাজ করছে প্লাস সাইজ ফ্যাশন নিয়ে। প্লাস সাইজের পোশাক নিয়ে প্রায়ই বিড়ম্বনায় পড়তে হয় নারীদের, পৌষী এ সমস্যার যেন সহজ সমাধান এনেছে৷ পোশাকের রং এবং সাইজ কাস্টমাইজ করার অপশন রয়েছে এখানে। মাহিয়া মনে করেন তার পোশাক সবাই পরতে পারলেই যেন তার নকশার সার্থকতা৷ আর এর সাথে রয়েছে সঠিক মেজারমেন্ট এর নিশ্চয়তা। পৌষী-র টেইলারিং সার্ভিসও ব্যাপক প্রশংসনীয়। এ কারণগুলোই পৌষী-কে করেছে অনন্য।
'পৌষী' জনপ্রিয়তার পেছনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফ্যাশন মানেই হলো সময়ের সাথে পাল্লা দেওয়া। একসময় ফরমাল আউটফিট বলতেই আমাদের মনে হতো খুব বোরিং একরঙা কর্পোরেট লুক। আমরা সে ধারণায় পরিবর্তন এনেছি, ফিউশনধর্মী এথনিক ধাঁচের ফরমাল পোশাকই আমাদের নতুনত্বের পরিচায়ক৷ আমাদের ফেব্রিকের কোয়ালিটি আর রং তরুণীদের সবচেয়ে আকর্ষণ করে। " বর্তমানে পৌষীর ফেসবুক পেজে প্রায় পঞ্চাশ হাজার ফলোয়ার সংযুক্ত আছেন। ইনফ্লুয়েন্সার থেকে ব্লগার, গৃহিণী থেকে কর্পোরেট নারী সবার আস্থা অর্জন করেছে পৌষী।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'পৌষী'কে দেশের বাইরে প্রতিষ্ঠিত করতে চান মাহিয়া নিনান । এছাড়াও তিনি মনে করেন প্রতিটি মেয়ে সাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন। ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে তিনি যেমন নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন, একই সাথে প্রান্তিক মেয়েদের কর্মসংস্থান তৈরিতেও তিনি কাজ করতে চান।
