রোববার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৩, ১৪ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় না করেই টাকা উত্তোলন

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২২, ২১:৫৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আলী আজম তালুকদারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের গাড়িচালকের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় না করেই ‘ভুয়া বিল-ভাউচার’ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় না করেই অধ্যাপক আলী আজম অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন গাড়িচালকসহ সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ৭ জুলাই করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের আটজন গাড়িচালকের জন্য স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের জন্য উপাচার্য বরাবর ২৫ হাজার টাকা আগাম প্রদানের অনুরোধ জানান আলী আজম তালুকদার। সেখানে তিনি ছয় লিটার হ্যান্ড স্যানিটাইজারের দাম সাড়ে চার হাজার টাকা, ১৬টি পিপিই’র দাম ১৬ হাজার টাকা, ১৫টি মাস্কের দাম তিন হাজার টাকা ও ২০ জোড়া হ্যান্ডগ্লাভসের দাম দেড় হাজার টাকা ধরে ২৫ হাজার টাকার হিসাব দেখান।

এরপর আলী আজম তালুকদার গাড়িচালকদের জন্য হ্যান্ডস্যানিটাইজার, পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস ক্রয় বাবদ ২৩ হাজার ১২৫ টাকার ‘ভুয়া বিল-ভাউচার’ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের তোড়জোড় শুরু করেন। পরে গত বছরের ৩১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অধ্যাপক আলী আজম তালুকদারকে ২৩ হাজার ১২৫ টাকার চেক (চেক নম্বর- ০০৯৫২৩৮) প্রদান করেন। তবে করোনাকালীন সময়ে অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার গাড়িচালকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেননি বলে জানান পরিবহন অফিসের এক কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে গাড়িচালকদের কাছে জানতে চাইলে একাধিক গাড়িচালক স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী পাননি বলে জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গাড়িচালক ইত্তেফাককে বলেন, আলী আজম স্যার করোনার সময়ে হ্যান্ডস্যানিটাইজার, পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস দেননি। করোনার সময় সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার ক্রয় করেছি। স্যার আমাদেরকে হ্যান্ডস্যানিটাইজার, পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস প্রদানের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিলেন বলে শুনেছি। তবে আমাদেরকে এসবের কিছুই দেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে যতটা সম্ভব গাড়িচালকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছি। তবে পরিবহন অফিস থেকে তাদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী দিয়েছিল কিনা—তা জানিনা।

অভিযোগ আছে, ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসের জন্য মশার ঔষধ 'অ্যারোসল' ক্রয় সংক্রান্ত ‘ভূয়া ভাউচার’ দেখিয়ে ৭৬ হাজার ৮৬০ টাকা উত্তোলন করেন অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার। যদিও তিনি মাত্র ৮ হাজার ৭০০ টাকার অ্যারোসল ক্রয় করেন বলে জানান পরিবহন অফিসের এক কর্মকর্তা। তবে সম্প্রতি এ বিষয়টি আলোচনায় আসলে অধ্যাপক আলী আজম তালুকদার তড়িঘড়ি করে হিসাবের ত্রুটি দূর করার চেষ্টা করেছেন। পরিবহন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ মার্চ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে পরিবহন অফিসের জন্য মোট ২১টি অ্যারোসল ক্রয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নথিপত্র ইত্তেফাকের প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

এসব বিষয়ের পাশাপাশি অধ্যাপক আলী আজম তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষ ভবনের সীমানা প্রাচীর সংস্কার না করেই ‘ভুয়া বিল ও ভাউচার’ দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের তোড়জোড়, শহীদ সালাম-বরকত হলে ছাগল পালন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি ব্যবহার, আর্থিক সুবিধা নিয়ে পরিবহন অফিসে নিয়োগ দেওয়া ও পরিবহন অফিসে জনবলের সংকট দেখিয়ে নিয়োগে তড়িঘড়ি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক আলী আজমকে ফোন করা হলে তিনি মূল প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমি অনেক কাজ করি তো, এখন দেখতে হবে কোনটা কিভাবে করেছি। আমি যতোদূর জানি সব টাকা সঠিকভাবে খরচ করার কথা। আমি দু’দিন আগে স্যানিটাইজার কিনেছি কিন্তু অন্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয়ের কথা আছে কিনা সেটা দেখতে হবে।

গাড়িচালকদের সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার জানা মতে, সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে। সেগুলো গাড়িচালকদের ধাপে ধাপে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া আছে। দীর্ঘ বিরতির পর একসাথে ২১টি অ্যারোসল ক্রয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, এগুলো যদি ক্রয় করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন ক্রয় করা হয়েছে তার নথিপত্র আছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম