শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

দুই খুদে সাংবাদিকের গল্প

সাংবাদিক বলতে অনেকেই মাইক্রোফোন কিংবা ক্যামেরা হাতে তরুণ বা বয়স্ক কাউকে বোঝেন। এ ধারণা যে রীতিমতো সেকেলে, তা প্রমাণ করছে ইদানীংকালের শিশু সাংবাদিক বা চাইল্ড রিপোর্টাররা। একাগ্রতা, প্রচেষ্টা ও পেশাদারি আচরণ দিয়ে তারাও দারুণ মেধার সাক্ষর রাখছে। এমনই দু’জন শিশু সাংবাদিক সিজদা ও ইফতি। তাদের সাথে কথা বলেছেন তানভীর তানিম

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২২, ১৫:২৭

সুবহা সাফায়েত সিজদা
আর দশটা শিশু যেখানে খেলাধুলা, কার্টুন-গেমস নিয়েই বেশি ব্যস্ত, সেখানে সিজদার আগ্রহের সিংহভাগ জুড়ে শেখা এবং শেখানো। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক সচেতনামূলক ভিডিও তৈরি করে সর্বমহলের প্রশংসা কুড়াচ্ছে এই শিশু। তবে এর সূচনা হয়েছিল নিতান্তই সাধারণভাবে। অন্যান্য দিনের মতো বাবা মির্জা পলাশ এর সঙ্গে সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশের গেট দিয়ে যাচ্ছিল সিজদা। প্রচুর নোংরা, ময়লা-আবর্জনা আর বর্জ্য পদার্থের ছড়াছড়ি ছিল স্থানটি জুড়ে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে খুবই 'সিরিয়াস' সিজদার কাছে ব্যাপারটি স্বাভাবিক ঠেকল না। তার মনে হলো, 'এখানে তো এসব থাকা উচিত নয়। এরকম নোংরাই-বা কেন? এখানে মন্ত্রী-এমপিরা আসেন, ল-মেকাররা আসেন।'

সুবহা সাফায়েত সিজদা

ছোট্ট সিজদার এই কৌতুহল ও প্রশ্নবাণ স্পর্শ করল তার বাবাকে। পুরো বিষয়টা তিনি মোবাইলে ধারণ করলেন। এরপর আপলোড করে দিলেন নিজের ফেসবুক পেজে। মুহূর্তে ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। এমনকি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলামেরও চোখে পড়ে সেটি। পরেরদিন ভোরের সূর্য যখন কিরণ ছড়িয়ে তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে, তখন মেয়র মহোদয়ের থেকে শুভেচ্ছা বার্তা পেলেন সিজদার বাবা। জানলেন, ইতোমধ্যে ৩০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর একটি দল জায়গাটা পরিষ্কার করে দিয়েছে। এভাবে সমাজের একজন সচেতন মানুষ তথা সমাজকর্মী হিসেবে উত্থান ঘটে সিজদার।

যেকোনো কিছু নিজের মতো করে উপস্থাপন করতে ভালোবাসে সিজদা। তাছাড়া ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া এ শিশু ইংরেজিতেও বেশ পটু। তাই শুরুর দিকে বিভিন্ন ইংরেজি বই থেকে কুরআনের আয়াত, হাদিসের ব্যাখ্যা সংবলিত বিষয়ের উপর ভিডিও তৈরি করত সে। এসব কন্টেন্টই এক সময় তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়। পরবর্তীতে আরটিভি, চ্যানেল আই সহ বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় মিডিয়াতে দেখা যায় তাকে।

সিজদার পুরো নাম সুবহা সাফায়েত সিজদা। সে লেখাপড়া করছে লর্ডস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের থার্ড গ্রেডে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর জীবনী অনুসরণ করে ভালো মানুষ হতে চায়। সবকিছুকে ছাপিয়ে তার পছন্দের কাজ বই পড়া। সেই সাথে শিখছে ছবি আঁকা, রোবটিক্স ও কোডিং এর মতো জটিল বিষয়।

 


কে.এম. ইফতেশাম ইফতি

কোভিডকালে নিজেকে পাল্টে একাগ্রতা-শ্রম-ইচ্ছাশক্তির বলে নতুন পরিচয়ে নিয়ে গেছে যারা, কে.এম. ইফতেশাম ইফতি তাদের অন্যতম। ২০২০ এর ১৭ মার্চ দেশের সব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের দোর বন্ধ হয়ে যায়।  আর দশজন শিশু-কিশোরের মতো, স্বাভাবিকভাবে এ খবর পুলকিত করে ইফতিকে। যদিও অল্প দিনেই তার ঘোর ভাঙে। ঘরবন্দি জীবনে চরম একঘেয়েমিতা নেমে আসে তখন। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রোডাক্টিভ কিছুতে ব্যস্ত করতে, সে অনলাইন কাজের জগতে প্রবেশ করে।

কে.এম. ইফতেশাম ইফতি

ইফতি বর্তমানে কাজ করছে বিডিনিউজ২৪ এর হ্যালো সেকশনে। সেখানে শিশু সাংবাদিক হিসেবে লেখালেখি, ভিডিও রিপোর্টিং-এর সাথে যুক্ত আছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনসিআরসি (UNCRC) এবং ক্রিকেট বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম টাইগারক্রিক এর সোশ্যাল মিডিয়া এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত রয়েছে সে।

ইফতি ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। লেখালেখির সাথে ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজও নিয়মিত করে থাকে। স্বপ্ন দেখে চিকিৎসক হওয়ার। পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিতে চায় সে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ইত্তেফাক-এনএনও লিডার্স সামিট সোমবার

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

বাজেট ২০২২-২৩

তরুণরা যা ভাবছেন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ

চা কিনলে ফ্রি বই পড়ার সুযোগ

নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গনের ‘মিলন স্যার’ 

শিশুদের জন্য অনন্তার ‘টড-লার্ন’