রানা প্লাজা ধসের ৯ বছর: চোখের জলে নিহত ও নিখোঁজদের স্মরণ

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২২, ১২:১৯

সাভারের রানা প্লাজার ট্র্যাজেডির ৯ বছর পূর্ণ হয়েছে রবিবার (২৪ এপ্রিল)। প্রতি বছরের মতো এবারও রানা প্লাজার মৃত্যুকূপের সামনে এসেছিলেন স্বজন হারানো শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা। ৯ বছর পূর্বে এ দিনে সাভার বাসস্ট্যান্ডের বহুতল ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। দিনটি উপলক্ষে প্রতিবাদী সমাবেশ, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়েছে। দোষীদের শাস্তির দাবি করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানের দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা।

দিবসটি উপলক্ষে ৫৪টি গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন নিয়ে গঠিত গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে সকাল ১০টায় রানা প্লাজার নির্মিত অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভের সামনে একটি শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজিত সমাবেশে গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সাভার-আশুলিয়া, ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন—শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, শ্রমিক নেতা নাহিদুল হাসান নয়ন, শামীম খান, কামরুন নাহার প্রমুখ। এর আগে রানাপ্লাজা ভবন ধসের নবম বছরে সকাল ৯টায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট, জি-স্কপ, শ্রমিক নিরাপত্তা ফোরামের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র কুমার দাস। 

সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, ২৪ এপ্রিলকে শোক দিবস ঘোষণা করে হতাহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, শ্রমিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সোহেল রানাসহ দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে হবে। 

শ্রদ্ধা জানাতে আসা ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা জানান, গত বছর আহত শ্রমিক খালেদা বেগম বিনা চিকিৎসায় মারা যায়। তার আগে আহত শ্রমিক জুয়েল ও তার স্ত্রী মারা যায়। কিন্তু টাকার অভাবে তাদের লাশটি গ্রামের বাড়িতে নিতেও বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। রানা প্লাজা ধসে আহত হনুফা বেগম এসেছিলেন নিজের দাবি এবং অধিকার আদায়ের জন্য। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ৯ বছর পূর্ণ হলো তবুও আমার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পেলাম না। টাকার অভাবে নিজের চিকিৎসা করাতে পারছি না, ওষুধ কিনে খেতে পারছি না। রানা প্লাজার পঞ্চম তলায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন নিলুফা বেগম।

ইত্তেফাক/এমএএম