রংপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদ বাজার। ঢল নেমেছে ক্রেতার। করোনার থাবায় গত দু’বছর রমজানে ব্যবসা করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যত বন্ধ ছিল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা। এই ঈদ মৌসুমে করোনা সংক্রমণ কমে আশায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন রংপুরের সকল স্তরের ব্যবসায়ীরা।
রবিবার রংপুর নগরীর ছালেক মার্কেট, জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্স, গোলাম মোস্তফা সুপার মার্কেট, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, হাড়িপট্টি রোড, তালতলা রোড সহ বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি দোকানে কেনাকাটার উৎসব মুখর পরিবেশ। অনেক ব্যবসায়ী রোজার আগে ও শুরুতেই বিভিন্ন মোকাম থেকে মালামাল কিনে দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন। বাহারি রঙের কাপড় শোভা পাচ্ছে দোকান গুলোতে। আবার কেউ কেউ নতুন কাপড় কিনতে অবস্থান করছেন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে।
নগরীর ছালেক মার্কেটের ‘সিনথিয়া গার্মেন্টস’র মালিক সনি আহমেদ জানান, করোনার কারণে ২০২০ সালের রমজান মাসে পুরোপুরি দোকান বন্ধ ছিল। ২০২১ সালে রমজানের শেষ দিকে কিছুদিন দোকান খোলা থাকলেও আশানুরূপ ব্যবসা হয়নি। তবে এবার করোনা সংক্রমণ কমে আসায় গত দুই বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। রোজা শুরুর আগেই তিনি দোকানে নতুন পোশাক তুলেছেন এবং আরও মোকাম থেকে পোশাক আনার কথা ভাবছেন বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
নগরীর হাড়িপট্টি রোডের ‘জননী বস্ত্রালয়’র মালিক এনামুল হক জানান, রোজার শুরুর দিকে বেডশিট, পর্দার কাপড়, তোয়ালে সহ প্রয়োজনীয় কিছু মালামাল কিনেছেন। তিনি পাবনা ও কুষ্টিয়ার মোকাম শাড়ি,লুঙ্গি কিনে এনেছেন। এবার ব্যবসা ভালো হবে বলে তিনি আশা, করছেন।
জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের ‘তাঁত ঘর’র মালিক ফারুক হোসেন জানান, ইতোমধ্যে বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি দোকানে সাজিয়ে রেখেছেন। প্রয়োজনে আরও শাড়ি কেনার জন্য তিনি প্রস্ততি নিচ্ছেন।
হাড়িপট্টি রোডে ফরহাদ ক্লথ স্টোরে গিয়ে দেখা যায়, ওই দোকানের মালিক ফরহাদ হোসেন পাইকারি বাজার থেকে লুঙ্গি কিনতে শনিবার দুপুরে পাবনার শাহজাদপুরে গেছেন। ফরহাদের বড় ভাই ফারুক হোসেন জানান, করোনার আগে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তার দোকানে প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার লুঙ্গি বিক্রি হতো। করোনার ধকল কাটিয়ে এবার আরও বেশি বিক্রি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রংপুর কারমাইকেল কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাসকিয়া ইসলাম বলেন, রোজা শুরুর পরপরই তিনি পছন্দের একটা থ্রিপিস কিনেছেন। আবার মার্কেট ঘুরে একটি বা দুটি থ্রিপিস কেনার ইচ্ছা আছে তার।
জেলা পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইমরান মেহেদী জানান, গত দু’বছর ঈদে কিছু কেনেননি। এবার পাঞ্জাবি ও জিন্স প্যান্ট কিনবেন। এ জন্য সুযোগ পেলেই বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখছেন।
নগরীর বিভিন্ন মার্কেটের মতই নিম্ন আয়ের ফুপাতের দোকান গুলোতে ভিড় জমেছে। ফুটপাতের গেঞ্জি বিক্রেতা ইসুফ আলী বলেন, এবার আমরা বিক্রি করে কুল পাচ্ছিনা। রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার টিটু বলেন, দেশে এখন বড় ধরনের কোনো মহামারি নেই। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও সন্তোষ জনক। সবদিক বিবেচনায় বিগত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা ভালোই হবে বলে আশা করি।

