নাটোরের গুরুদাসপুরে এক দিনমজুরকে বাড়ি থেকে তুলে এনে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গুরুদাসপুর পৌরসদরের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও দিনমজুর সাজেদুল ইসলামকে (৩২) গত ১৭ জুন রাতে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরদিন তাকে চলতি বছরের ১৮ মার্চ দায়ের হওয়া একটি সেচপাম্প চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) ভুক্তভোগীর স্ত্রী আদরী বেগম গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, জমিজমা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তিনি আগে থানায় একটি অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে ধারণা করলেও পুলিশ তার স্বামীকে থানায় নিয়ে গিয়ে পরে চুরির মামলায় আসামি করে।
আদরী বেগমের ভাষ্য, কোন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার স্বামীকে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি দাবি করেন, সাজেদুল নির্দোষ এবং তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সুষ্ঠু তদন্ত ও স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগি সাজেদুল চুরির মিথ্য মামলায় হাজতবাসের কথা স্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি মিডিয়ার কাছে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছেন না।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একটি সূত্রের দাবি, সেচপাম্প চুরির মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথমদিকে সাজেদুলকে আসামি করতে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু পরে ওসির চাপে তিনি বাধ্য হন। এছাড়া থানার ভেতর পুলিশের সামনে নারীকে মারধর, মাদক ও নারীসহ আটক যুবদল নেতাকে সাধারণ মামলা দেওয়াসহ নানা ধরণের অভিযোগ রয়েছে ওসি মনজুরুলের বিরুদ্ধে। সবশেষ পুলিশের এসব অন্যয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সম্প্রতি ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধনও করেছে আনন্দনগর গ্রামবাসী। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী সাজেদুলকে এএসআই মোতালেব থানায় এনেছে জানিয়ে চুরি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম মোবাইল ফোনে ইত্তেফাককে বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে সাজেদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তদন্ত করে নির্দোষ প্রমাণ হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নাম বাদ দেওয়া হবে।
গুরুদাসপুর থানার এএসআই আবদুল মোতালেব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এ ব্যপারে কিছুই জানেন না। বিষয়টি নিয়ে তিনি সামনাসামনি কথা বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, সাজেদুল ইসলাম মাদকাসক্ত। তবে চুরির মামলায় তাকে আসামি করার বিষয়ে তিনি সামনাসামনি কথা বলতে আগ্রহী।
নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, ভুক্তভোগীর স্ত্রীর লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ বলেন, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে সাজেদুল ইসলাম নির্দোষ, তাহলে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

