মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জয়পুরহাটে বৃষ্টিতে পচছে ধান, কাটা হয়েছে ৫০ শতাংশ

আপডেট : ১৮ মে ২০২২, ১১:২৩

বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে জয়পুরহাটের কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ধান কাটা-মাড়াই করতে অনেকটা হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ঈদের পর থেকে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জয়পুরহাটে ২০২১-২০২২ নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় ৬৯ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে। ঝড়ের কারণে ধানগাছগুলো মাটিতে হেলে পড়েছে। চলছে ভারী বৃষ্টিপাত। ফলে পানিতে ডুবে থাকা ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে বাঁচতে দ্রুত কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সবাই।

এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে টুকটাক ধান কাটা আরম্ভ হলেও ঈদের পর মে মাসের শুরু থেকে পুরোদমে কাটা-মাড়াই শুরু হয়েছে। শ্রমিকের চাহিদা মেটাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ কর্মসূচির আওতায় জেলায় এবার ২৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলায় ৫০ ভাগ বোরো ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বোরো  ধান পেকে সোনালি বর্ণ ধারণ করা  শীষগুলো হেলে পড়েছে জমিতে। ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় বোরো ধান পানিতে ডুবে রয়েছে। এতে প্রায় ২১৩ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পাঁচবিবি উপজেলার বড়মানিক এলাকার কৃষানি নুর জাহান ও সেলিনা পারভিন জানান, ভেজা ধান সেদ্ধ করে না শুকালে ঘরে রাখা যায় না। সে করণে একটু রোদ উঠলেই ফাঁকা মাঠে ধান শুকানোর চেষ্টা করছেন।

একই এলাকার কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। বৃষ্টিতে ধান ভিজে যাওয়ায় দামও কিছুটা কমেছে। প্রকার ভেদে সাড়ে ৮০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকা মণ ধান বিক্রি হচ্ছে বর্তমান বাজারে। বৃষ্টির আগে বাজারে ১ হাজার টাকা মণ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জেলায় লেবারের সংকট মোকাবিলায় ২৪টি কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে মাড়াই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ধান গাছ পড়ে যাওয়ায় কম্বাইন্ড হারভেস্টার দিয়ে অধিকাংশ জমির ধান কাটতে সমস্যা হচ্ছে আবার ধান কাটার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে শ্রমিকরা আসলেও পানিতে ডুবে থাকা ধান দ্রুত কাটা-মাড়াই কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, আবহাওয়া কিছুটা বৈরি চলছে। ভেজা ধান ঘরে রাখাও সমস্যা। সেদ্ধ করা ধান শুকানোর পর ঘরে রাখা যাবে। সে কারণে কৃষকদের পাশাপাশি কৃষানিরাও একটু সুযোগ পেলেই ফাঁকা স্থানে ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জ্ঞান প্রিয় বিদুর্শী চাকমা বলেন, ‘জয়পুরহাট জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ৯ হাজার ১৪৭ মেট্রিক টন ধান এবং ২১ হাজার ১২৭ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে এবার ধান ২৭ টাকা কেজি এবং চাল ৪০ টাকা কেজি দরে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ইত্তেফাক/এএইচ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

সুনামগঞ্জে পানি কমলেও ভেঙে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা

নেত্রকোনায় দেখা মিললো ৪ কেজি ওজনের লেবুর!

বিশেষ সংবাদ

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ব্যস্ত রাজবাড়ীর কামার পল্লী

বাঘায় তৈরি করা হচ্ছে পলি হাউজ, শীতের সবজি মিলবে গরমে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বিশেষ সংবাদ

নাটোরে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচাকেনা

বিশেষ সংবাদ

সিলেটে বন্যা: পুনর্গঠনই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

বিশেষ সংবাদ

দৌলতদিয়া ঘাটে স্বস্তির পারাপার, নেই যানবাহনের চাপ

বিশেষ সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে অগ্নি-ঝুঁকিতে ৩৪ শিল্পকারখানা