মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১৪ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

নাদিয়ার সাহসী উদ্যোগ ‘ন্যাপ্রিএফ.থ্রি’ 

আপডেট : ১৯ মে ২০২২, ২১:৩১

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী নাদিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা। পড়ছেন আইন বিষয় নিয়ে। শুধু লেখাপড়াতেই নিজেকে ব্যস্ত রাখতে চাননি বা রাখেননি। খুঁজে খুঁজে এমন একটা ইস্যু নিয়ে পা বাড়ালেন, যে পথে পা বাড়াতে ভাবতে হয় অন্তত ১০ বার। বলছিলাম যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ের কথা। বিশেষ করে মেয়েদের যৌন স্বাস্থ্য। কিন্তু আকাশ সমান সাহস নিয়ে মা যদি পাশে দাঁড়ান ঢাল হয়ে তাহলে সকল বাধাই তুচ্ছ করে এগিয়ে যাওয়া যায় নিশ্চিন্তে।

হ্যাঁ, নাদিয়ার সাহসী উদ্যোগে সার্বক্ষণিক পাশে আছেন দালাল বাজার এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মা আনোয়ারা বেগম। আর তাই হয়ত নাদিয়ার স্বপ্নের পরিধি বেড়ে গেছে অনেক। কারণ, আপাতত ছোট্ট পরিসরে কাজ করা মেয়েটা স্বপ্ন দেখেন, খুব শিগগিই তার এই কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়বে দেশব্যাপী।

মানুষ যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে। বিশেষ করে আমাদের সমাজের নারীরা। আর এজন্যই তিনি এ উদ্যোগের নাম দিয়েছেন ‘NapreF3’। যার ‘Nap’ অর্থ ঘুম, ‘Pre’ অর্থ পূর্ব এবং ‘F3’ (Free from Fence) অর্থ বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া। অর্থাৎ, কুসংস্কারের বেড়াজাল উপেক্ষা করে নারীকে পূর্বের ঘুমন্ত অবস্থা থেকে বের করে আনাই হচ্ছে ন্যাপ্রিএফ.থ্রি কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।

স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ

নাদিয়া সুলতানা প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমি একদিন লঞ্চে দুজন নারীর মধ্যে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে কথোপকথন শুনি। যাদের একজন ছিল অভাবী পরিবারের তরুণী। তাদের মাঝে যতটা কথাবার্তা হয় তাতে মনে হয়, সেই তরুণী যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে একদমই অজ্ঞ। বিশেষ করে পিরিয়ডকালীন বিষয়ে। তখন থেকেই আমার মাথায় এই বিষয়টা নিয়ে কিছু করা যায় কি-না এমন ভাবনা আসে। আর করোনায় যখন আমরা ঘর বন্দী হয়ে পড়লাম এবং হাতে অফুরন্ত সময় পেলাম— তখন মনে হলো, এখনি এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করার শ্রেষ্ঠ সময়। তাই নিজে নিজেই টাকা জমাতে শুরু করলাম এই কাজে পা বাড়াতে।

আমার এই পরিকল্পনার সাথে প্রথমদিকে আরও চার জন তরুণ-তরুণী যুক্ত হন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে কাজের জন্য তাদের অনেকেই ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সময় দিতে পারছিলেন না। আর এমন সময়ই মা এসে দাঁড়ালেন পাশে। আমরা মা মেয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি গরিব মেয়েদের বিনামূল্যে স্যানেটারি ন্যাপকিনের ব্যবস্থা করলাম নিজেদের অর্থায়নে। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। অবশ্য কখনো কেউ অর্থ দিয়ে সহায়তা করেন। আমাদের দলে ১৫ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের নন্দনপুর, দালাল বাজার, রায়পুরের ফ্যাক্টরি, চাঁদপুর লঞ্চঘাট এলাকা, কয়লাঘাট এলাকা এবং নেত্রকোনায় কাজ করছি। শিগগিরই বিভিন্ন এলাকায় আরও কিছু কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।’

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

বাজেট ২০২২-২৩

তরুণরা যা ভাবছেন

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

চা কিনলে ফ্রি বই পড়ার সুযোগ

নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গনের ‘মিলন স্যার’ 

শিশুদের জন্য অনন্তার ‘টড-লার্ন’

দেশের সর্বাধুনিক শিক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে শিখো’র পথচলা