রোববার, ০৩ জুলাই ২০২২, ১৯ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মেডিকেলে ৫০তম ইভা, ডেন্টালে প্রথম

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ১৭:১৩

ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার প্রতি দারুণ সিরিয়াস নাসরিন সুলতানা ইভা। পড়তে চেয়েছিলেন ইংলিশ ভার্সনের স্কুল-কলেজে, কিন্তু নিজ জেলা শহরে এর সুবিধা না থাকায় এক প্রকার বাধ্য হয়েই ভর্তি হন বাংলা ভার্সনে। ইভা লেখাপড়া করেছেন মুন্সিগঞ্জের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-এ। সেখান থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। এরপর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষাতেও ছিলেন সপ্রতিভ।

২০২২ সালের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশের মধ্যে ৫০ তম স্থান অধিকার করেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছেন তিনি ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষায়। যেখানে অংশ নিয়েছিল প্রায় ৬৬ হাজার শিক্ষার্থী। ইভা সেই পরীক্ষাতে ভালো তো করলেনই, সাথে প্রথম হওয়ার গৌরব দেখালেন। 

ইভা তখন অষ্টম কি নবম শ্রেণিতে পড়েন। মেডিকেলে উত্তীর্ণ আপুদের উৎফুল্লতা, তাদের ঘিরে অন্যদের উৎসব-উন্মাদনা চোখের সামনে দেখতেন। সেই থেকে এ বিষয়গুলোর প্রতি ভালো লাগার শুরু তার। পড়ালেখার সময়ে কঠোর অধ্যবসায়, আর অবসরে কল্পনার রঙিন জগতে মেডিকেলের শিক্ষার্থী হিসেবে ঘুরে বেড়ানো ইভার জন্য তখন থেকে নিত্যদিনের ঘটনা। এভাবেই ভালো লাগা থেকে ভালো করার আকাঙ্ক্ষা; তৈরি হতে থাকে স্বপ্ন পূরণের এক মহা বন্দোবস্ত।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা, তাহলে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা কীভাবে হবে! এ নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। আবার, কোভিড পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হয়ে যায় দেশের সব স্কুল, কলেজ, কোচিং সেন্টার। তখন অনলাইনে নতুন শিক্ষা পদ্ধতির সাথে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছিল ইভার। তবে সব প্রতিবন্ধকতার মাঝেও তিনি ছিলেন শৃঙ্গের মতো দৃঢ়। এক মুহূর্তের জন্যও আত্মবিশ্বাস হারাননি, নিজের সাথে আপোষ করেননি কোনো বিষয়ে। ফলস্বরূপ, সাফল্যের হাসি।

৫ এপ্রিল প্রকাশিত হয় ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল। যেহেতু ভর্তি পরীক্ষা আশানুরূপ হয়েছিল, ভালো কোনো মেডিকেলেই যে সুযোগ পাচ্ছেন, তা আগে থেকে অনুমেয় ছিল। তাই বলে ৫০তম! এটি প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ছিল, জানালেন ইভা। এর ২২ দিন পর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা। এদিকে এ নিয়ে কোনো ভ্রুক্ষেপই নেই ইভার। কারণ, ততদিনে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। শেষমেশ মায়ের পীড়াপীড়িতে পরীক্ষা দিলেন, কোনো ধরনের প্রস্তুতি না নিয়েই। অথচ এ পরীক্ষাতে ইভা ছাড়িয়ে গেছেন আগের ইভাকেও। মেধার দ্যুতি ছড়িয়ে তিনি সারাদেশের মধ্যে অর্জন করেন প্রথম স্থান।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সুবিধার্থে ঢাকায় এসে বসবাস শুরু করেন ইভা, সঙ্গে তার বড়বোন। এ সময়টাতে মা-বাবার অভাব ঘুচানোর সব রকমের চেষ্টা করেছেন বড় বোন আইরিন সুলতানা। একইসাথে মা-বাবা, শিক্ষকদের সমর্থন ছায়ার মতো ছিল ইভার জীবনে। তাই এই সাফল্যের পেছনে তাদের অবদানের কথা ইভা স্মরণ করেন আত্মতৃপ্তির সঙ্গে। মেডিকেলে ৫০ তম এবং ডেন্টালে প্রথম হওয়ার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইত্তেফাককে তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে। এত এত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, তাদের মধ্যে এত ভালো একটা রেজাল্ট করতে পেরেছি, তার জন্য আমি আনন্দিত। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। বাবা-মা, শিক্ষকেরা যারা সবসময় আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় ছিলেন, তাদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

ইভার জন্ম মেহেরপুরের পিরোজপুরে। বাবা মো. ইউনুস আলী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিতের প্রভাষক, মা গৃহিনী। বাবার চাকরিসূত্রে ইভার শৈশব ও কৈশোর দুই-ই কেটেছে মুন্সিগঞ্জে। দুই বোনের মধ্যে ছোট ইভার পছন্দের কাজ ছবি আঁকা, বই পড়া, ভ্রমণ করা আর সেসবের ভিডিও ক্লিপস নিজের ইউটিউব চ্যানেলে (ইভা’স জোন) আপলোড করা।।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

পারিবারিক-মানবিক শিক্ষার অভাবেই শিক্ষক হত্যা-লাঞ্ছনা

ইত্তেফাক-এনএনও লিডার্স সামিট সোমবার

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বাজেট ২০২২-২৩

তরুণরা যা ভাবছেন

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ

চা কিনলে ফ্রি বই পড়ার সুযোগ

নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গনের ‘মিলন স্যার’