বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষদিনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে কাজী নজরুল ইসলামের গীতিনাট্য মধুমালা অবলম্বনে ‘মধুমালা’ যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মে) রাত ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গাহি সাম্যের গান’ মুক্তমঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক হীরক মুশফিকের নির্দেশনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিনয় করেন।
যাত্রাপালাটিতে মদন কুমারের অভিনয় করেন ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ (এফএমএস) বিভাগের শিক্ষক ও মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক। তার বিপরীতে মধুমালা চরিত্রে অভিনয় করেন একই বিভাগের শিক্ষিকা মাশকুরা রহমান রিদম।
এছাড়া অন্যান্য প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ও প্রক্টর ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, সঙ্গীত বিভাগের শিক্ষক ড. জাহিদুল কবীর এবং তন্বী সাহা, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. মার্জিয়া আক্তার, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক সোহেল রানা ও আসলাম মাহমুদ, চারুকলা বিভাগের শিক্ষক মাসুম হাওলাদার, এফএমএস বিভাগের শিক্ষক তুহিনুর রহমান (তুহিন অবন্ত), নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষক আল জাবির ও মেহেদী তানজীর, নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আসিফ ইকবাল আরিফ ও স্বপ্না পাপুল, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নাহিদুল ইসলাম, পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের জাহিদুল ইসলাম, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক সাজন সাহা সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
নির্দেশনায় থাকা হীরক মুশফিক বলেন, ‘একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রজন্মের সাথে নিজস্ব সংস্কৃতির মেলবন্ধনের সেই দায় থেকেই আমাদের নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দের এই অংশগ্রহণ। আমি আপ্লুত এমন একটি কাজে যুক্ত থাকতে পেরে। মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর স্যারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই সাথে প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এই মেলবন্ধন নিশ্চয়ই ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবে৷’
এসময় যাত্রাপালা দেখার জন্য ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কমকর্তা-কর্মচারী সহ ক্যাম্পাসের বাহিরের শত-শত দর্শনার্থী উপস্থিত হয়।
উল্লেখ্য, মধুমালা নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য। নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ১৯৬০ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে নাটকটি রচিত হয়েছে। মদনকুমারের স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা মধুমালা, আর তাকে খুঁজতে গিয়ে প্রণয়ে আবদ্ধ কাঞ্চনমালার মধ্যে ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ও মধুমালার ট্র্যাজিক পরিণতি নিয়ে এই নাটক।

সবুজ প্রকৃতিতে বেগুনি জারুলের হাতছানি