সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

শিশুদের জন্য অনন্তার ‘টড-লার্ন’

আপডেট : ০১ জুন ২০২২, ২২:০৬

শিশুরা একটু অন্যরকম, তাদের চাহিদাগুলো আলাদা। তারা সেসবই করে বা করতে চায় যা তাদের পছন্দনীয়, এই ধারণাকে আমলে নিয়ে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছেন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অনন্তা। কাগজে-কলমে যার নাম টড লার্ন, অর্থাৎ খেলার ছলে পড়াশোনা। টড-লার্নের বিশেষ দিক হলো, এটি যুগোপযোগী; অর্থাৎ যেকোনো সময়ে সমানভাবে কার্যকর। যার দৃষ্টান্ত দেখা যায় কোভিড মহামারির সময়ে।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস, বৈশ্বিক মহামারি করোনায় পুরো বিশ্ব তখন কাঁপছে। চারিদিকে জরুরি অবস্হা, খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। এমতাবস্থায় ক্লাসরুম সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে শিশুদেরকে সময়োপযোগী শিক্ষা পদ্ধতি, টড-লার্নের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন অনন্তা কিবরিয়া খান। তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়েছি। শিশুদের জন্য সহায়ক, এমন অনেক শিখন পদ্ধতি সম্পর্কে আগেও জানতাম। এরপর মা হওয়ার পর আরও ঘাটাঘাটি করেছি; কীভাবে একটা শিশুকে গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্হার বাইরে এক থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যা, এ টু জেড পর্যন্ত বর্ণমালা ইত্যাদি শেখানো যায়, যাতে পুরো ব্যাপারটা তার মস্তিষ্কে থাকে। সেখান থেকেই টড-লার্নের আইডিয়া পাওয়া এবং এটি শুরু করা।’

যেকোনো উদ্যোগ বা কার্যক্রমের শুরুতে কিছু না কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকে, মানুষকে টড-লার্নমুখী করতে গিয়ে সেটি হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছেন অনন্তা। এজন্য অভিভাবকদের বোঝানো, আলাদা আলাদাভাবে তাদেরকে ম্যানেজ করার কাজ তাকে করতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘অধিকাংশ মা-ই মনে করেন, নিজের শিশু সন্তানের চাহিদা-প্রয়োজন তারাই ভালো জানেন। অনেকে জানেনও হয়তো। তবে মানুষ আসলে নতুন কিছু ফলো করতে চায় না।’

দুই থেকে আট বছর বয়সী যেকোনো স্বাভাবিক শিশু (শেখার উপযুক্ততা আছে যার) মাসিক নির্দিষ্ট চার্জের বিনিময়ে টড-লার্ন-এ অংশ নিতে পারে। এই শিখনব্যবস্থায় সপ্তাহভিত্তিক একটা প্যাকেজ থাকে। যার মধ্যে রয়েছে উইকলি এক্টিভিটি, অসংখ্য পাজল, শিশুদের পছন্দের ক্যারেক্টরসহ আরও অনেক কিছু। যা চর্চার মাধ্যমে শিশু নিজের অজান্তেই নতুন অনেক কিছু শিখে নেয়।

টড-লার্ন শুরুর পিছনে অনন্তার মূল অনুপ্রেরণা ছিল তার পাঁচ বছর বয়সী একমাত্র কন্যা। আগে যেখানে তার চিন্তা-ভাবনাগুলো ছিল সাধারণ ও একপেশে, সেখানে মা হওয়ার পর তিনি শিখেছেন কীভাবে একটা শিশুর জায়গা থেকে চিন্তা করা যায়, তাদের কাছে পৌঁছানো যায়। পরবর্তী সময়ে এই কাজটিই ধারাবাহিকভাবে করেছেন তিনি। যেখানে আছে একগাদা মধুর স্মৃতি, উপভোগ্য অনেক মুহূর্ত।

আলাপের এক পর্যায়ে অনন্তা বলছিলেন, ‘কিছু শিশু আছে যারা অনেক দেরিতে কথা বলতে শিখে। দেখা যায়, ২-৩ বা ৪ বছর বয়সেও দু’চারটা শব্দের বেশি বলতে পারছে না। আবার, এমনও শিশু পেয়েছি, ৮ বছর বয়সেও কথা বলছে না। কিছু শিশুর ডেভেলপমেন্ট ছিল অনেক স্লো, তাদের ইম্প্রুভমেন্ট আমার জন্য বড় একটা মোটিভেশন ছিল।’ তিনি বলেন, ‘তাদের মায়েরা সন্তুষ্ট ছিল। ফোন দিয়ে বলত, তাদের সন্তান এখন ওয়ান-ফাইভ গণনা করতে পারে। আমি খুশি ছিলাম যে, শিশুগুলোকে হেল্প করতে পেরেছি।’ কোভিডকালে শুরু হয়েছিল টড-লার্নের অগ্রযাত্রা।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ছয় দেশের চার শতাধিক তরুণের অংশগ্রহণে এসডিজি ইয়ুথ সামিট

বিক্রমপুরের জুবায়ের এখন অ্যামাজনের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার

এই সময়ের সফল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার

ইত্তেফাক-এনএনও লিডার্স সামিট সোমবার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে উদ্ভূত পরিবর্তন মোকাবিলার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন রাদওয়ান মুজিব

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে তাদের অনুভূতি

বাজেট ২০২২-২৩

তরুণরা যা ভাবছেন

ফোর্বসে সাত বাংলাদেশি তরুণ