অবৈধ ঘোষণা হলেও রাজশাহীতে চলছে অসংখ্য ক্লিনিক

আপডেট : ০৫ জুন ২০২২, ০৬:০০

রাজশাহীতে সিভিল সার্জনের তালিকায় বন্ধ উল্লেখ করা ক্লিনিকগুলো বাস্তবে চালু রয়েছে। সম্প্রতি নিবন্ধন না থাকার অভিযোগে উপজেলা পর্যায়ে ৪০টি এবং মহানগরীর ২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের ঘোষণা দেয় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়। গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবৈধও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান চালু দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে বাঘা উপজেলায়। নিবন্ধন না থাকার দায়ে এই উপজেলার ১১টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের কথা বলেছে সিভিল সার্জনের কার্যালয়। এগুলো হচ্ছে- বাঘা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মুঞ্জু ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাহমুদ ডায়াগনস্টিক এন্ড ক্লিনিক, উপসম মেডিকেল সেন্টার এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হেলথ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নাদিয়া ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফারিহা খেয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার, খেয়াল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও আল-মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার। তবে বাস্তবে এসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একটিও বন্ধ হয়নি। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানে কোন অভিযান চালানো হয়নি বলেও দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

সিভিল সার্জনের তালিকা ধরে গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার অনুসন্ধানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। ওইসব প্রতিষ্ঠানে কোনো চিকিৎসক দেখা যায়নি। কয়েকজন নার্স ও প্যারামেডিক দিয়েই চলছিল কার্যক্রম। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকার নিউরো কেয়ার এবং মেডিলে কলেজ গেটের সামনে শাহ্ মখদুম ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের কথা বলা হলেও উভয় প্রতিষ্ঠান শুক্রবারও খোলা ছিল।

নিবন্ধন না থাকার দায়ে বাগমারা উপজেলার ৮টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করা হয়। কিন্তু গত শুক্রবারও এই তালিকার কমপক্ষে ৬টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম চলেছে। সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ বলা হলেও মালিকেরা বৈধ দাবি করে চালু রেখেছেন। বাগমারা উপজেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোবাইদুর রহমান বলেন, ‘উপজেলার অবৈধ ও বিতর্কিত অনেক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়নি। অথচ কয়েকটি ভালো মানের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ তবে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা গোলাম রাব্বানী সিভিল সার্জন ঘোষিত ক্লিনিকগুলো বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করেন।

এদিকে সিভিল সার্জনের বন্ধের ঘোষণায় থাকা তানোরের প্রাইম ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চারঘাটের বি.এম ক্লিনিক, নিলিমা ক্লিনিক, মিম কমিউনিটি হাসপাতাল, পবা উপজেলার লাইফ কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক, সততা ফার্মেসী এন্ড হেলথ সার্ভিস, সিবানী হাসপাতাল, মনোয়ার লাইফ সাপোর্ট ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সুফিয়া নার্সিং হোম ও মডার্ণ আই হাসপাতালও চালু রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক দাবি করেন, যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো বন্ধই আছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়ার পর তিনি বলেন, এগুলোর বিরুদ্ধে আবার অভিযান চালানো হবে।

ইত্তেফাক/ ইআ