সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জলাবদ্ধতা ও আমাদের দায়

আপডেট : ২৩ জুন ২০২২, ০৯:১৫

বর্ষায় আমাদের কাছে অন্যতম প্রধান একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রামে এ সমস্যাটা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ সমস্যার সমাধান কোনোকালেই পায়নি এই দুই নগরীর বাসিন্দারা। যদি চট্টগ্রামের কথা বলতে হয় তাহলে বলা যায়, এই নগরের মানুষ এই জলাবদ্ধতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়র পালটায় তবে এ সমস্যার শেষ খুঁজে পাওয়া যায় না।

তবে আমরা প্রায় সময় এ সমস্যার জন্য মেয়র, প্রশাসন এমনকি সরকারকে দায় দিই। নানা ধরনের কথাবার্তা বলে গরম করি ফেসবুক। কিন্তু আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি এ সমস্যার জন্য আমরা নিজেরাই আসলে সবচে বেশি দায়ী।

বছরের পর বছর এ জলাবদ্ধতার সমস্যায় আমরা আমাদের কারণেই জর্জরিত হই। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অথচ এমনটা হওয়ার কথা নয়। তবুও হচ্ছে। কারণ আমাদের নালা, খালগুলো পলথিন, বোতল, আর প্লাস্টিকে ভরা। আমরা আমাদের ময়লা, আবর্জনাগুলো নিজেদের খামখেয়ালিপনায় সেখানেই ফেলে দিই। বাংলাদেশের এক জটিল সমস্যায় পরিণত হয়েছে জলাবদ্ধতা। অথচ এটা নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই।

লাইভ, টকশো, সেমিনার, আলোচনা, গোলটেবিল বৈঠক, প্রতিবেদন, লেখালেখি সব হয়। সবখানেই আমরা প্রশাসন, সিটি করপোরেশনকে এককভাবে দায় দিয়ে যাই। কিন্তু নিজেদের কথা একবারও বলি না। মূলত, আমরা সচেতন না বলেই আজ এই অবস্থা। যথাযথ নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আজকে আমাদের কাছে স্বস্তির বৃষ্টিটাও অস্বস্তির মনে হয়। আমাদের মানতে হবে নগরীতে জলাবদ্ধতা সমস্যার জন্য কতিপয় নাগরিকের অসচেতনতা ও নেতিবাচক কর্মকাণ্ডও দায়ী। খাল-জলাশয় দখলসহ পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ড্রেন, জলাশয়ে যত্রতত্র ফেলে এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি করা হয়। এজন্য নাগরিক অসচেতনতাই দায়ী।

তাই এ ক্ষেত্রে নাগরিক সচেতনতা মুখ্য বিষয় বলে আমি মনে করি। যদি আমরা নাগরিকগণ না শুধরাই, আমরা প্রশাসন থেকে ভালো কিছু আশা করতে পারি না। এবছরও টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, শুলকবহর, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, বাকলিয়া ডিসি রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, মোগলটুলি, ট্রাঙ্ক রোড, তালতলা, চান্দগাঁও আবাসিক, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, ফিরিঙ্গিবাজার, আলকরণ, বাকলিয়া আবদুল লতিফ হাটখোলা সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। প্রতি বছরই একই সমস্যার সম্মুখীন হয় চট্টগ্রামের সিংহভাগ জনগণ। কিন্তু এরপরেও নাগরিকগণ যেমন সচেতন হচ্ছে না তেমনি এই সমস্যার সমাধানে প্রশাসনের কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা দেখা যায় না।

সরকার, প্রশাসনের এই সমস্যা সমাধানে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে। এবং সেই প্রকল্প হতে হবে দৃশ্যমান। কারণ আজকাল বেশির ভাগ প্রকল্প শুরু হলেও শেষ হওয়ার কোনো খবর থাকে না। তাছাড়া দুর্নীতি তো আছেই। পাশাপাশি আমাদের জনসাধারণকেও এ সমস্যা সমাধানে বিরাট ভূমিকা রাখতে হবে। অবশ্য জনগণই পারে এ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে। কারণ এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টিতে আমাদেরও বড় একটা ভূমিকা রয়েছে। আমরাই ড্রেন, খালসহ বিভিন্ন স্থান ময়লায় ভরপুর করে রাখি। যার কারণে আমরা নিজেরাই এই জলাবদ্ধতার জালে আটকে যাই। তাই এ সমস্যার সমাধানে সবাইকেই একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখি। তা হলে দেখা যাবে যে, জলাবদ্ধতার সীমাহীন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। মনে রাখবেন জনসচেতনতাই পারে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।

লেখক: শিক্ষার্থী, ওমরগনি এমইএস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম

ইত্তেফাক/এসজেড

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শিক্ষা ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত হবে কবে? 

তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ বোঝা নয় 

পারিবারিক সংকটে বিপদে পড়ছে শিশুরা 

অর্থনীতিতে জ্বালানি মূল্যস্ফীতির প্রভাব

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা 

ডেঙ্গু প্রতিরোধে চাই সমন্বিত উদ্যোগ 

বইপড়ুয়া জাতির তালিকায় নাম নেই কেন?

আশার আলো ‘সৌরবিদ্যুৎ’