রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কম খরচে মাছের খাদ্য তৈরির যন্ত্র ‘সাউ ফিড মিল-১’

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২২, ০২:২৭

প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস মাছ। কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন ও পুষ্টি সরবরাহে মাছের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লাভজনক মাছ চাষের জন্য অন্যতম শর্ত মানসম্মত খাবার। মাছ চাষে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ হয় খাবার সরবরাহে। মাছ চাষে লাভবান হওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে খাবারের খরচের ওপর। খামারি নিজেই কম খরচে মাছের খাদ্য তৈরি করতে পারবেন এমন যন্ত্র ‘সাউ ফিড মিল-১’ উদ্ভাবন করা হয়েছে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়্যাকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ফিশিং অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাসুদ রানা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের খাদ্য তৈরির যন্ত্র ‘সাউ ফিড মিল-১’ উদ্ভাবন করেছেন। এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, ‘মাছ চাষে খাবারের খরচ কমানোর পাশাপাশি খামারিরা যেন নিজের খামারের প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারেন, সেই লক্ষ্য সামনে রেখে এই গবেষণা শুরু করি। নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ মৎস্য খাদ্য। এখানে খামারি মাছের খাদ্যের কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিজেই খাদ্য উৎপাদন করবেন। সে ক্ষেত্রে খাদ্য যেমন নিরাপদ হবে, তেমনি ঐ খাদ্য প্রয়োগ করে উৎপাদিত মাছও নিরাপদ হবে।

উদ্ভাবিত যন্ত্রের বিশেষত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘একই যন্ত্র দিয়ে খামারি মাছের ভাসমান ও ডুবন্ত উভয় প্রকার খাদ্য তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি এটি দিয়ে শুন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার থেকে ৫ মিলিমিটার আকারের সব প্রজাতির মাছ ও চিংড়ির খাদ্য তৈরি করা যাবে। এখানে অ্যাডভান্সড মিলিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে ফলে এটি একটানা ১০-১২ ঘণ্টা খাদ্য উৎপাদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে ঘণ্টায় ৭০-৮০ কেজি খাবার উৎপাদন করা সম্ভব এবং প্রতি কেজি খাদ্য উৎপাদনে খরচ হবে ৩৮-৪০ টাকা, যা বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি ফিড মিল ৫৮-৬০ টাকায় ক্রয় করতে হয়।’ 

খামারি পর্যায়ে এই প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, ‘কোনো খামারি চাইলে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩-৪ লাখ টাকায় এমন যন্ত্র স্থাপন করতে পারবেন। আমার ডিপার্টমেন্টে এসে যোগাযোগ করলে পূর্ণ পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়ে সহযোগিতা করব।’ উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দিয়ে মাছের খাদ্যের পাশাপাশি হাঁস, মুরগি, কবুতরসহ অন্যান্য যেকোনো পাখির খাদ্যও তৈরি করা সম্ভব।

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন