ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হঠাৎ একদিন

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২২, ১০:৩৬

কোনো রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নাম যখন আসে তখনই তার নিরাপত্তা বেষ্টনীর কথাই মাথায় আসে। আর সেটা যদি এশিয়ার কোন দেশের প্রেসিডেন্ট হয় কিংবা প্রধানমন্ত্রী হয় তাহলে তো কথাই নেই। আধ ঘণ্টা আগেই পুরো রাস্তা ফাঁকা করে জনদুর্ভোগ তৈরি করা, অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অসংখ্য গাড়ীর বহর নিয়ে চলা ফেরা করা সাধারণত এই চিত্রই চোখে পড়ে কিংবা দেখা যায়।

প্রায়শই আমরা ইউরোপ, আমেরিকা কিংবা কানাডার রাষ্ট্রপ্রধানদের দেখি সাধারণ মানুষের সাথে হাত মেলাতে, কফি খেতে, গল্প করতে, সেলফি তুলতে। আর এইসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় মূর্তের মধ্যেই। বিশেষ করে আমরা বাংলাদেশীরা এগুলো নিয়ে আবার ট্রলও করি আমাদের দেশের পাতি নেতারাও প্রটোকল নিয়ে চলা ফেরা করেন।

প্রায়ই দেখা যায় ঢাকার মেয়ররাও যখন বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে যান সাথে বিশাল কর্মী বাহিনী, নিরাপত্তা বাহিনী দলীয় লোকের বহর তো আছেই, স্লোগানে স্লোগানে, গাড়ী কিংবা মোটর বাইকের হরণে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে তোলেন।

কিন্তু ইউরোপ বা পশ্চিমা বিশ্বের রাষ্ট্রের মেয়ররা বিকালে পার্কে যদি হাটতেও বের হন কিংবা মার্কেটে বাজার করতেও যান পাশ দিয়ে কেউ হেটে গেলেও কোন সাড়া শব্দ হয় না। কারণ একটা কথা তো সত্য উন্নত রাষ্ট্র শুধু মাত্র কথাই উন্নত নয় আচার ব্যবহার চাল চলন চিন্তা মনন সব কিছুতেই উন্নত।

বিশ্বের যে’কটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্র আছে তার মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম। আর এই রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও অনেক ক্ষমতার অধিকারী। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকট এলে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের ভূমিকা নজরে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধ বন্ধে যে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন তা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে যদিও যুদ্ধ এখনো চলছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জনসম্মুখে কয়েকবার অপদস্থ হওয়ার পরও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে, কাছাকাছি যেতে পছন্দ করে। তার নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙ্গে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেন, হাত মেলান।

প্যারিস ২০ এরিয়ার সিটি মেয়র অফিসে মেয়রদের এক সম্মেলনে যোগ দিতে যথাসময়ের এক ঘণ্টা আগেই আসেন। উদ্দেশ্য সেই এলাকায় হেটে হেটে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে কথা বলা। এটা অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। ভিন দেশিদের সুখ-দুঃখ খোজ খবর নেওয়া।

আমার অফিসও একই এলাকায়। পরিচিত এক বড় ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বের হয়েছি একটু ঘোরাঘুরি করার উদ্দেশ্যে, দূর থেকে মনে হচ্ছে কোনো সেলিব্রেটি এসেছেন সবাই যার যার মতো সেলফি তুলছেন। বড় ভাইকে বললাম চলেন কাছে গিয়ে দেখি। উনি বললেন না, কে এসেছে আমরা গিয়ে কি করবো? আমি বললাম না, চলেন গিয়ে দেখে আসি। কাছে যেতেই মনে হলো আরে এটা তো ফ্রান্সের প্রেডিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে লাইভ দিতে লাগলাম, একটু কাছে যেতে মনো হলো আরও কাছে যেতে পারবো মনে হয়। ভয়ডরহীন ভাবে কাছে গিয়ে বললাম মি. প্রেসিডেন্ট আই এম ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ, জার্নালিস্ট ফরম বাংলাদেশ। তিনি উত্তর দিলেন হাউ আর ইউ। আমি বললাম উই বাংলাদেশি লাভ ইউ। তিনি বললেন থ্যাংক ইউ সো মাচ। তারপর ছবি তুলতে চাইলাম তিনি আমার সঙ্গে একটা সেলফি তুললেন। অদ্ভুত একটা অনুভূতি।

যেদেশে ১২ বছর ধরে আছি সে দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এভাবে রাস্তায় দেখা হবে আর সেলফি তুলবো এটা কখনোই ভাবি নি। আর এভাবেই দেখা হলো ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একদিন।

লেখক: ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ, সাংবাদিক, প্যারিস, ফ্রান্স।

ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ