বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

এ কেমন শত্রুতা!

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২২, ০২:০৫

পঞ্চগড়ে চা বাগানের শেড ট্রি হিসেবে লাগানো পেপে, সুপারি, নারিকেল ও মেহগনির প্রায় ৫ হাজার গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুবৃ‌র্ত্তরা। কে বা কারা গাছের সঙ্গে শত্রুতা করে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। চা বাগানের গাছ কেটে ফেলায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন চা বাগান মালিক। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলার সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটিয়াপাড়া এলাকার সিদ্দিকী টি এস্টেটে এ ঘটনাটি ঘটে।

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাসিন্দা আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান সিদ্দিকী ঐ এলাকায় প্রায় ২২ একর জমির চা বাগানে ভেতরে শেড ট্রি হিসেবে পেঁপে, সুপারি, পেঁয়ারা, মেহগনি, নারিকেল ও আমের বাগান করেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে দুর্বৃত্তরা ঐ বাগানের পেঁপে, সুপারি, নারিকেল ও মেহগনির প্রায় ৬ হাজার গাছ নির্বিচারে কেটে দেন। শুক্রবার সকালে চা বাগানে পাতা তুলতে এসে বাগানের এ দৃশ্য দেখে বিষয়টি বাগানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার আনিছুর রহমান আনিছকে জানান। গাছ কাটার খবর পেয়ে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত বাগান পরিদর্শন করেছেন। এসময় স্নানীয়রা ও বাগানের ম্যানেজার দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

ঐ বাগানের ম্যানেজার আনিছুর রহমান আনিছ জানান, শুক্রবার চা বাগান প্লাকিং করতে চা শ্রমিকরা বিষয়টি দেখতে পায়। তারা গাছ কর্তনের বিষয়টি আমাকে জানালে আমি বিষয়টি মালিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পঞ্চগড় সদর থানায় জানাই। বাগানের প্রায় কয়েক হাজার গাছ কেটে ফেলেছে বলে তিনি জানান।

আমেরিকা প্রবাসী মিজানুর রহমান সিদ্দিকী মোবাইল ফোনে জানান, বিদেশে থেকে যা আয় করেছি তা দিয়ে চা বাগানটি গড়ে তুলেছি। বাগানটিই আমার একমাত্র সম্পদ ও স্বপ্ন। বাগানে প্রায় ৬ হাজার পেঁপে, নারিকেল, সুপারী, আম ও মেহগনির গাছ লাগিয়েছি। দুর্বৃত্তরা আমার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, এ ঘটনায় কারা জড়িত তাদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

পঞ্চগড় জেলা পরিষদের প্রশাসক আনোয়ার সাদাত সম্রাট জানান, একজন প্রবাসী কষ্টের টাকায় গ্রামে একটি বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানের গাছ কেটে ফেলার ঘটনাটি দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসন এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।

ইত্তেফাক/ইআ