শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

একযুগ ধরে দিচ্ছেন চিকিৎসা

১৫ দিনের কোর্স করে তিনি  মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ!

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৩৪

বিভিন্ন বয়সি শিশু নিয়ে ১২ থেকে ১৫ জন মা এসেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে। এই চিকিৎসকের কাছে শুধু যে মা-শিশু এসেছেন এমন নয়। কোমর ব্যথা, হাঁটু ব্যথা, বুকের ব্যথাসহ নানা রোগ নিয়ে এসেছেন বিভিন্ন বয়সি নারী-পুরুষও। তাদের চিকিৎসা দিচ্ছেন মাধ্যমিক পাশ করা কথিত মা ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ নাজমুল হাসান। নিজের নামের পাশে বিভিন্ন ডিগ্রি ব্যবহার করে এক যুগ ধরে চিকিৎসার নামে এভাবেই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছেন তিনি। গুরুদাসপুর পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজারে সরকার ফার্মেসি নামের দুটি কক্ষ তার চিকিৎসালয়। কথিত এই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র থেকে জানা গেছে, সিপিটি (ঢাকা) ও ডিএমএফ (নাটোর) নামের ১৫ দিন মেয়াদি কোর্স করেছেন তিনি।

তবে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এমবিবিএসে উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ সিপিটি ও ডিএমএফ কোর্স করতে পারবেন না। তাছাড়া চিকিৎসাশাস্ত্রে ১৫ দিনের সিপিটি ও ডিএমএফ নামের কোর্স নেই।

স্থানীয়রা জানায়, মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা শুরু করেছিলেন নাজমুল হাসান। এরপর থেকে আশপাশের মানুষ তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে জানে। সেই সুবাদে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ প্রতিদিন ভিড় জমায় নাজমুলের চেম্বারে। চিকিৎসা ফি নেওয়ার পাশপাশি বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কমিশনও নেন তিনি।

গতকাল কথিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নাজমুল হাসানের চেম্বারে গিয়ে দেখা গেছে শিশুদের নিউমোনিয়া, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়াসহ যাবতীয় রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন তিনি। আবার রোগীর লোকজন তার ব্যবস্থাপত্রের ওষুধ কিনছেন তারই ফার্মেসি থেকে।

স্থানীয় মেহেদী হাসান বলেন, ভোক্তা অধিকার, উপজেলা প্রশাসন, মোবাইল কোর্ট এমনকি সরকারি গাড়ি দেখলেই চেম্বার বন্ধ করে লুকিয়ে যান নাজমুল হাসান।

এ বিষয়ে নাজমুল হাসান ইত্তেফাককে জানান, একটি আলিয়া মাদরাসা থেকে মাধ্যমিক পাশের পর ঢাকা শিশু হাসপাতাল থেকে মা ও শিশু রোগের ওপর ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন তিনি। এছাড়া নাটোর থেকে ডিএমএফ, ঢাকা থেকে সিপিটি কোর্সও সম্পন্ন করে তিনি চিকিৎসা দিচ্ছেন। এছাড়া গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে স্থানীয় এমবিবিএস চিকিৎসকদের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসা দেন তিনি।  তিনি বলেন, ‘আমি তো একাই না। আরো অনেকে শর্ট কোর্স করে সব ধরনের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন।’

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মুজাহিদুল ইসলাম জানান, ১৫ দিনের সংক্ষিপ্ত কোর্স করে তিনি মা ও শিশু বিশেষজ্ঞ হয়ে চিকিৎসা দিতে পারেন না। দ্রুত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/ইআ