বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিএসএমএমইউয়ে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:৩৩

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন নবনির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল আজ বুধবার উদ্বোধন করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭৫০ শয্যার এই হাসপাতাল উদ্বোধন করবেন। 

দেশে প্রথম বারের মতো রোবোটিক অপারেশন ও জিন থেরাপির ব্যবস্থা চালু হচ্ছে এই হাসপাতালে। রোবোটিক সার্জারি হলো একটি রোবট-সহায়তা অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যা ডাক্তারদের একটি রোবোটিক হাতের সঙ্গে সংযুক্ত খুব ছোট সরঞ্জাম ব্যবহার করে অস্ত্রোপচার করতে দেয়। রোবোটিক সার্জারির ঝুঁকি ও জটিলতা খুবই কম। এটি একটি ন্যূনতম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যা ছোট ছেদের মাধ্যমে করা যেতে পারে এবং সার্জন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। করোনারি আর্টারি বাইপাস, ক্যানসারের চিকিৎসা, গলব্লাডার অপসারণ, নিতম্ব প্রতিস্থাপন, হিস্টেরেক্টমি, নেফ্রেক্টমি, মিট্রাল ভালভ মেরামত, পাইলোপ্লাস্টি, পাইলোরোপ্লাস্টি, রেডিকাল প্রোস্টেটেক্টমি, রেডিকাল সিস্টেক্টমি ও টিউবাল লাইগেশন চিকিৎসাসেবা রোবোটিক অপারেশনের মাধ্যমে করা যায়। অন্যদিকে জীবের ক্ষতিকারক জিনকে অপসারণ করে সুস্থ জিন প্রতিস্থাপনকে জিন থেরাপি বলে। কিছু মারাত্মক রোগ যেমন ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হিমোফিলিয়া এবং এইডস রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপির মাধ্যমে রোগীরা সুস্থ হয়ে যান। এছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা ও অপারেশনের ব্যবস্থা থাকছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে। 

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, হাতের কাছে এই হাসপাতালে ধনী-দরিদ্র সবাই পাবেন বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা। ধনীরা স্বল্পমূল্যে এবং দরিদ্রদের বিনামূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে। দরিদ্রদের জন্য গঠিত কল্যাণ ফান্ডে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুদান দেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।  এদেশে ধনী-গরিবসহ সব শ্রেণির মানুষ যাতে হাতের কাছেই আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসাসেবা পান সেই লক্ষ্যে তিনি এই হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। যাতে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে না হয়। অপরদিকে চিকিৎসার জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি ডলার বিদেশে ব্যয় করতে হয়। কিন্তু সেটা এখন আর প্রয়োজন হবে না। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন সেবা নেবে ৫ থেকে ৮ হাজার রোগী। তাদের জন্য মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করতে ৩০০ চিকিত্কসহ মোট ১ হাজার ৫০০ জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে। রেফার্ডভিত্তিক এই হাসপাতালে শুরু হয়েছে নিয়োগ কার্যক্রম। এরই মধ্যে ৪৬ জন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন আরও ১৪০ জন। উন্নত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি উন্নত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের দিগন্ত প্রসারিত হবে। বোনম্যারো, কিডনি ও লিভার ট্রান্সপ্লান্টের সুবিধা থাকবে এই হাসপাতালে। এ লক্ষ্যে ৮০ জন চিকিৎসক, ৩০ জন নার্স ও ১০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৬১০ জন স্বাস্থ্যকর্মীকেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হাসপাতালটির কার্যক্রম চলবে ছয়টি বিশেষায়িত সেন্টারের মাধ্যমে। কার্যক্রম চালু হলে এসব সেন্টারে দুই বছরের জন্য নিয়োজিত থাকবেন ছয় জন কোরিয়ান ইঞ্জিনিয়ার ও ৫০ জন কোরিয়ান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। এদেশীয় জনবলকে প্রশিক্ষিত করতে তারা ভূমিকা রাখবেন। এছাড়া সেবাখাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা আমাদের দেশীয় জনশক্তিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে এই হাসপাতালে নিয়োগ করা যায় কি না সে বিষয়েও পরিকল্পনা চলছে।

 

ইত্তেফাক/ইআ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন