জঘন্য!

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৩২

পঞ্চগড়ের বোদায় শত্রুতা করে আবুল কাশেম নামে এক বর্গাচাষির এক একর জমির ১৫ হাজার বাঁধাকপির গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ঐ চাষি। মঙ্গলবার রাতে বোদা উপজেলার চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের লাঠুয়াপাড়া এলাকার মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মানুষের প্রতি শত্রুতা করে ফসলের খেত কেটে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকসহ জনপ্রতিনিধিরা। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত চাষি। 

ক্ষতিগ্রস্ত চাষি আবুল কাশেম জানান, ‘কয়েক বছর ধরে বর্গা নিয়ে এক একর জমিতে বাঁধাকপির চাষ করে আসছেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কঠোর পরিশ্রম করে বাঁধাকপির গাছ বড় করেছেন। গতকাল বুধবার সকালে খেতে গিয়ে দেখেন কে বা কারা বাঁধাকপির গাছগুলো কেটে দিয়েছে। চারা, সার কীটনাশকসহ বাঁধাকপির চাষাবাদ করতে লাখ দুয়েক টাকা ব্যয় হয়েছে তার। পুরো খেতের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার স্বপ্ন নষ্ট করেছে দুর্বৃত্তরা। আশা ছিল, এ বছর খেত থেকে ৭/৮ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করব। কিন্তু আমার সব শেষ হয়ে গেছে। কীভাবে আমার দেনা পরিশোধ করব?’ যারা তার  সঙ্গে শত্রুতা করে ফসলের গাছ কেটে দিয়েছে, তাদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ চান ক্ষতিগ্রস্ত ঐ চাষি। 

জমির মালিক আজহারুল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘আবুল কাশেম আমার জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। প্রতি বছরের মতো এবারও বাঁধাকপি চাষ করেছেন। রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা ১৫ হাজার গাছ কেটে দিয়েছে। মানুষের সঙ্গে শত্রুতা থাকতে পারে, তাই বলে ফসলের খেত কেটে ফেলবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ 

চন্দনবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত চাষির খেত পরিদর্শন করেছি। যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা নির্মম ও বর্বরতার কাজ করেছে। বিষয়টি কৃষি কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করেছি।’

বোদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আল মামুন অর রশিদ বলেন, ‘আমি ক্ষতিগ্রস্ত খেত পরিদর্শন করেছি। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এমনটি ঘটেছে। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। আমরা বিষয়টির তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করব।’ 

বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সোলেমান আলী অভিযোগপ্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে বলেছি। পুলিশকেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিকে প্রণোদনাসহ আপত্কালীন সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেব।’

ইত্তেফাক/ইআ