আমিরাতের ঐতিহাসিক জয়

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২২, ০২:৪০

শেষ ওভারের চতুর্থ বলে ডেভিড ভিসা আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্সবে মেতে উঠলেন গ্যালারিতে থাকা দুই নেদারল্যান্ডস সমর্থক। যদিও ডাচ ক্রিকেটাররা শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে অনেক আগেই টিম হোটেলের পথে রওনা দিয়েছে। তবে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে কি না তা জানতে চোখ ছিল নামিবিয়া-আরব আমিরাত ম্যাচের ওপর।

নামিবিয়া জিতলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হতো। কিন্তু টি-২০ বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়ে নেদারল্যান্ডসকে অস্ট্রেলিয়াতে আরো কিছুদিন থাকার সুযোগ করে দিল আমিরাত। এবার রূপকথার গল্পটা বেশি দূর টানতে পারল না নামিবিয়া।

আমিরাতের ৭ রানের ঐতিহাসিক জয়ের পর ডাচদের উচ্ছ্বাস ছিল বাধনহারা। কেননা গ্রুপ ‘এ’ থেকে সুপার টুয়েলভে শ্রীলঙ্কার সঙ্গী তারা। তবে দিনটি ছিল লঙ্কানদের জন্য স্বস্তির। এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অপ্রত্যাশিতভাবে হেরে যায় তারা। সুপার টুয়েলভ খেলার সম্ভাবনা অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছিল তখন।

তবে আরব আমিরাত ও নেদারল্যান্ডসকে উড়িয়ে দিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচে দাসুন শানাকার দল। গতকাল জিলংয়ে ডাচদের হারায় ১৬ রানে। টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬২ রান করে তারা।  ৪৪ বলে সমান ৫ চার ও ছয়ে সর্বোচ্চ ৭৯ রান আসে ওপেনার কুশল মেন্ডিসের ব্যাট থেকে। জয়ের বাকি কাজটা করেন ৩ উইকেট নেওয়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও ২ উইকেট নেওয়া মাহিশ থিকশানা। তাদের স্পিন মায়াজালে ১৪৯ রানেই থামে ডাচরা। এক প্রান্তে আগলে রাখলেও বৃথা যায়  ম্যাক্স ও’ডাউডের ৭১ রানের।

কিন্তু টুর্নামেন্টে টিকে থাকার চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে। প্রথম দুই ম্যাচ জিতেও রানরেটের কারণে শীর্ষস্থান পোক্ত ছিল না নেদারল্যান্ডসের। শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে তাই তাকিয়ে থাকতে হয়েছিল নামিবিয়ার হারের দিকে। অসাধ্য সাধন করায় ধন্যবাদ প্রাপ্য আমিরাতের। ২০১৪ বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে খালি হাতে ফিরেছিল তারা। তবে এবার আগে বাড়ি ফিরলেও মুখে চওড়া হাসি থাকছে তাদের।

টস জিতে ৩ উইকেটে ১৪৮ রান তুলে আমিরাত। ৫০ রান করেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। জবাবে শুরু থেকেই ধুকছিল নামিবিয়া। তবে প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার পথে ছিলেন ডেভিড ভিসা (৫৫)। কিন্তু নিয়তি তাকে এবার ট্র্যাজিক হিরো বানাল। তাই প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিল নামিবিয়াকে।

তাদের সঙ্গী হলেও চিত্রটা বিপরীত আমিরাতের। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সিপি রিজওয়ান, ‘আমার খুবই খুশি লাগছে। বিশ্বকাপে আমিরাতের প্রথম জয়। নিঃসন্দেহে গর্বের মুহূর্ত, এখন আমরা আনন্দে বাড়ি ফিরতে পারব।’

ইত্তেফাক/জেডএইচডি