শুক্রবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৩, ১৩ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বিশ্বসেরা উদীয়মান নেতৃত্বের তালিকায় রাফিয়া

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০৪:২৫

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসপায়ার ইনস্টিটিউটের ‘অ্যাসপায়ার লিডারস প্রোগ্রামে’ ৫৮টি দেশের শিক্ষার্থীদের পেছনে ফেলে সেরা ৩৩৭ জন তরুণের মাঝে স্থান করে নিয়েছেন বাংলাদেশের রাফিয়া আক্তার মিম। তিনি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের শিক্ষার্থী।

গত ছয় মাস ধরে চলা এই প্রোগ্রামে পাঁচটি ধাপ অতিক্রম করে ফাইনাল স্টেজে ওঠেছেন রাফিয়া। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাসপায়ার ইনস্টিটিউট সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে এ প্রোগ্রামটি পরিচালনা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণদের আগামীর নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তুলে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রাফিয়া আক্তার মিম নারীর উন্নয়ন, শিক্ষা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, শিশুশ্রম, নারী-পুরুষ সমতা তৈরিতে সচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত। যুক্ত আছেন তরুণদের সংগঠন ‘ইভোলিউশন ৩৬০’-তে। এছাড়া সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন ক্যাম্পেইন ও প্রজেক্ট— যেমন লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে যুব উন্নয়ন কর্মশালা, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, রাস্তা ও গণপরিবহনে নারীদের যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রচারণা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিশুশ্রম এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সেমিনারসহ বেশকিছু প্রজেক্টে সাফল্যের সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন রাফিয়া। ‘লার্ন অ্যান্ড গ্রো’ নামের একটি সংস্থার মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান তিনি।

জাতিসংঘের ইউএন উইমেন, ইউনিসেফ এবং ভারতের ইউএন ভলান্টিয়ারের বিভিন্ন ক্যাম্পেইনেও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন রাফিয়া।

তিনি জানান, অ্যাসপায়ার লিডারস প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের হাজারো শিক্ষার্থী আবেদন করে। বিভিন্ন ধাপ পার করে মূল পর্বের জন্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ মিলেছে। লিডারশিপ, একাডেমিক এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক বেশকিছু প্রশিক্ষণ এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাছাড়া হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কোর্স ও বিশ্বমানের শিক্ষাবিদদের ক্লাসে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

রাফিয়া বর্তমানে ‘অ্যাস্পায়ার অ্যালামনাই’ হিসেবে সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখেন।

রাফিয়া বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, চেষ্টা করলে যেকোনো কাজে সফলতা আসে। বৈশ্বিক একটি প্ল্যাটফর্মে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে আমি উপলব্ধি করেছি, আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। কিন্তু এর বিপরীতে প্রবল সম্ভাবনাও রয়েছে। তরুণরা ইতিবাচক চিন্তা ও সৃজনশীল উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এলে সকলের জন্য সুন্দর সমাজ তথা সুন্দর পৃথিবী বিনির্মাণ সম্ভব।’

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন