রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পেলেন যারা

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে থাকা উদ্যমী তরুণদের উৎসাহিত করতে ২০১৫ সাল থেকে ইয়াং বাংলা আয়োজন করে আসছে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড। ষষ্ঠবারের মতো  আয়োজিত এবারের আসরে বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে ৫টি বিভাগে দেশের ১০ সংগঠনকে প্রদান করা হয় এ অ্যাওয়ার্ড। বিজয়ী এসব সংগঠনের গল্প শোনাচ্ছেন শাকিরুল আলম শাকিল ফরিদ উদ্দিন রনি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২২, ০২:৩২

হাত হারানো মানুষের পাশে লাবলুর ‘রোবোলাইফ টেকনোলজিস’
রোবোলাইফ টেকনোলজিসের যাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালে। জন্মগত, দুর্ঘটনা বা যেকোনো কারণে হাত হারানো ব্যক্তিদের স্বল্পমূল্যে রোবটিক হাত প্রতিস্থাপনের কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও জয় বড়ুয়া লাবলু বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত ২০ জন অসহায় মানুষকে সাহায্য করেছি। বর্তমানে মাত্র ৩০ হাজার টাকায় কৃত্রিম হাত প্রতিস্থাপন করতে পারছি।’

 

বিজন কুমারের ‘বিকে স্কুল অব রিসার্চ’
বিকে স্কুল অব রিসার্চ’র প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক বিজন কুমার। সামাজিক মূল্যবোধ, মানবিকতা ও অর্থনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, নারী ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, মানসন্মত শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য, অভিবাসন ও শরণার্থী, পরিকল্পিত নগরব্যবস্থাসহ নানা ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বিকে স্কুল অব রিসার্চ। সম্প্রতি তারা রোহিঙ্গা, নারী ও কিশোরদের ওপর করোনার প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে। যেটি ইউনিসেফের উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন রিসার্চ লাইব্রেরিতে ফিচার হয়েছে।

 

বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মাজেদুরের ‘বোসন বিজ্ঞান সংঘ’
বিজ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছে বোসন বিজ্ঞান সংঘ। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের গণিত ও বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তুলতে নিয়মিত আয়োজন করছে বিজ্ঞান ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মশালা ও প্রকাশ করছে বিজ্ঞান ম্যাগাজিন। ২০১৯ সালে সেরা গণিত ক্লাব পুরস্কার পায় সংগঠনটি।  বোসন বিজ্ঞান সংঘের সভাপতি মুহাম্মদ মাজেদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।’


সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে প্রসেনজিৎ কুমারের ‘উচ্ছ্বাস’
অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করছে ‘উচ্ছ্বাস’। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ সাহার হাত ধরে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে ‘উচ্ছ্বাস’। বর্তমানে তারা ৩টি টেকসই প্রজেক্টের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের ৩টি জোনে (বরিশাল, ঢাকা, ভোলা) চলমান রয়েছে তাদের এই কার্যক্রম। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করছে একটি স্কুল। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের দক্ষতা উন্নয়নে, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত আয়োজন করছে কর্মশালা।

 

নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ও মাহমুদুলের ‘ইয়ুথ প্ল্যানেট’
নারীদের বিষয়ে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, নারীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে ইয়ুথ প্ল্যানেট। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইসিটি এবং যুব নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, নারী উদ্যোক্তা এবং ডিজিটাল মার্কেটিং প্রশিক্ষণের আয়োজন করে তারা। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের নারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে স্বাস্থ্য সচেতনতা। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা এবিএম মাহমুদুল হাসান।

 

বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়তে শাওনের ‘বিজ্ঞানপ্রিয়’
বিজ্ঞানকে আনন্দময় ও বিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞান সহজে সবার কাছে পৌঁছানোর লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ২০১৮ সালে কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে ‘বিজ্ঞানপ্রিয়’ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু করেন মুহাম্মাদ শাওন মাহমুদ। তাদের কার্যক্রমের ৮০ শতাংশ কনটেন্টভিত্তিক। শাওন জানান, বিজ্ঞানের একটি প্রিন্টেড ম্যাগাজিন প্রকাশ করার মাধ্যমে সহজ ও অপ্রাতিষ্ঠানিক গবেষণাকে উত্সাহিত করার উদ্দেশ্যে বছরে ৪টি ম্যাগাজিন প্রকাশসহ আরো বেশ কয়েকটি বিজ্ঞান প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে।

 

পথশিশুদের শিক্ষায় আরিফের ‘মজার ইশকুল’
২০১৩ সালে ১৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ‘মজার ইশকুল’। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে এ আয়োজন। বর্তমানে তারা রাজধানীতে এধরনের ১০টি স্কুল পরিচালনা করছে। যার মাধ্যমে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।

‘মজার ইশকুল’র প্রজেক্ট ইনচার্জ আরিয়ান আরিফ বলেন, ‘আমরা পথশিশুদের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করি। বর্তমানে কারিগরি শিক্ষার জন্য একটি নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করছি।’

 

গ্রামীণ মানুষকে বই পড়াতে আতিফের লাইব্রেরি
গ্রামীণ মানুষকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে স্টেশন ও গ্রামভিত্তিক পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে নিজ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে জ্ঞান ও সক্ষমতা বিকাশে সহয়তার জন্য কালচার অ্যান্ড কম্যুনিকেশন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন আতিফ আসাদ। আতিফ শুরুর দিকে গ্রামীণ মানুষকে বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করতে সাইকেলে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই বিতরণ, যাত্রাবিরতিতে রেলযাত্রীদের জন্য স্টেশন লাইব্রেরি পরিচালনা ও এলাকাভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন করে সুনাম কুড়িয়েছেন। জামালপুরের সরিষাবাড়িতে তার কল্যাণে বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠেছে স্মৃতিমিলন পাঠাগার। ২০টি বই নিয়ে যাত্রা শুরু করা আতিফ বর্তমানে সপ্তাহে ২-৩ দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বই দিয়ে আসেন এবং পড়া শেষে পরের সপ্তাহে সেই বই ফেরত নিয়ে আসেন।

 

অধিকারবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে মুইনুলের ‘সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন’
২০১১ সাল থেকে অধিকারবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বস্ত্র এবং আশ্রয়ের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করছে সুইচ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়া সংগঠনটি পরিচালনা করেন মো. মুইনুল আহসান ফয়সাল। তারা একুশে বইমেলায় শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং বয়স্কদের জন্য হুইলচেয়ার সরবরাহ করে। সংগঠনটি বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর ও গাবতলীতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য দুটি স্কুল পরিচালনা করছে।

 

জান্নাতুল মাওয়ার নারী উন্নয়ন সংগঠন ‘বিন্দু’
নারীদের প্রতি সহিংসতা, যৌতুক, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ এবং শিশু অধিকার রক্ষায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলায় কাজ করছে নারী উন্নয়ন সংগঠন ‘বিন্দু’। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জান্নাতুল মাওয়া। নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন নিয়েও কাজ করছে সংগঠনটি।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন