রোববার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২২ মাঘ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বনসাইপ্রেমী রায়হান

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:১৯

অনেকের জীবনে করোনা মহামারির সময়টা আশীর্বাদ হয়ে এসেছে! তাদেরই একজন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী এনামুল রায়হান। তিনি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৫-১৬ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাসা যশোর জেলার মণিরামপুরের ঝাঁটা গ্রামে। করোনা মহামারিকালে যখন অবসর সময় কাটছিল না, তখন হতাশা ভর করেছিল। সেই সময়গুলো কাটত স্মার্ট ফোনে ফেসবুক স্ক্রল স্ক্রল করতে করতে। সেখানেই একদিন নজরে এলো বনসাই’র গল্প। এটি দেখার পর অনলাইনে বনসাই সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। তারপর নেমে পড়লেন বনসাই’র খোঁজে। বনসাই করার বাসনা থেকে  অনলাইন মাধ্যম ও খুলনা বিভাগের ৩৫টি নার্সারি ঘুরে সংগ্রহ করতে লাগলেন বনসাই।

ছোটবেলা থেকেই তিনি বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন, প্রকৃতির প্রতি তার ভালোবাসাকে বাস্তবে রূপ দিতে বাসার ছাদে গড়ে তুলেন নার্সারি। সেই থেকে রায়হানের অবসর কাটে ছাদ বাগানে। এক এক করে ছাদ বাগানে বিশের অধিক বনসাই যুক্ত করলেন। বনসাই’র পাশাপাশি সেখানে ফলজ ও সবজি দিয়ে বাগান পূর্ণ করেন।

এদিকে ছাদ বাগানের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হতেই না হতেই, সময় ঘনিয়ে এলো বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়, মায়ার বন্ধন বনসাই ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে হয়। এক সময় ভাবলেন ইবিতেও বনসাই বাগান করার। তিনি থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে, এর দুইটি ব্লক রয়েছে। ২য় তলায় এক ব্লক থেকে আরেক ব্লকে আসা যাওয়ার রাস্তা রয়েছে। সেই জায়গাটি কাজে লাগালেন তিনি। বনসাই সংগ্রহ করে চলাচলের দুপাশে রেখে পরিচর্যা শুরু করলেন। তারপর সেখানে গড়ে তুলেন বনসাই বাগান। রায়হানের বাড়ি আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ বাগান মিলে ৪৫টি বনসাই ও ৩০টি ফলজ বৃক্ষ রয়েছ। ছাদ বাগানের পাশাপাশি তিনি ইনডোরও সাজিয়েছেন বনসাই দিয়ে।

বৃক্ষগুলো টিকিয়ে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বনসাই টিকিয়ে রাখা সহজ কাজ নয়। এক্ষেত্রে জৈব সার, নিচ কুটি, হাড়ের গুঁড়া, ডিমের খোসা, খৈল পচাসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়।’ ভবিষ্যতে জেলার বৃক্ষ মেলায় তার একক প্রদর্শনীতে ২০০ গাছ রাখার ইচ্ছা রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন