বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

৭ই মার্চের ভাষণ: ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রার এক  আবেগময় প্রক্ষেপণ

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৩, ১৭:৪৪

বঙ্গবন্ধুর ৭ ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতাপ্রিয়, মুক্তিকামী, মানুষের কাছে ছিল উদ্দীপনাদায়ী ও যুদ্ধজয়ের জন্য অনুপ্রেরণামূলক এক লক্ষ্যভেদী নির্দেশনা। ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙ্গালির ওপর পাকিস্তানি সেনা শাসকদের পরিচালিত শোষণ, নির্যাতন ও বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

পুরো ভাষণটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামের জন্য একটি ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসকে জাতির সামনে তুলে ধরেছেন এবং মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলন সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য ছাত্র-যুবক, শ্রমিক, কৃষক, মেহনতি জনতা ও পেশাজীবীদের সংগঠিত হওয়ার জন্যে উদ্দীপিত করেছেন। গরিব ও সাধারণ মানুষের সার্বিক পরিস্থিতিকে আমলে নিয়ে তিনি তার আন্দোলনের রূপরেখা দিয়েছেন। জনগণের জান মালের নিরাপত্তা, সার্বিক আয় রোজগার- বিশেষ করে সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা যেন ব্যাহত না হয়, বেতন ভাতা যাতে নিশ্চিত হয়, সেই দিকটাও তিনি ভাষণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

এমনকি তার অনুপস্থিতে কীভাবে একটি আন্দোলন ভবিষ্যতে গতিশীল থাকবে, তার একটি রূপরেখাও তিনি বর্ণনা করে গেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথের লড়াই সংগ্রামকেই বেছে নেওয়ার ওপর  গুরুত্ব আরোপ করেন। গতানুগতিক আন্দোলন সংগ্রামে নেতার অনুপস্থিতি আন্দোলনকে স্তিমিত করে দিলেও, বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পর সেটা লক্ষ্য করা যায়নি। বঙ্গবন্ধু সামরিক জান্তাদের হাতে গ্রেপ্তার হলেও, বাঙালি জাতি তার ৭ই মার্চের ভাষণকে চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রধান নেতাকে জেলে রেখে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হয়েছে, এমন ইতিহাস পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি আছে বলে মনে হয় না।

২০১৭ সালের ৩০শে অক্টোবরে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে “ডকুমেন্টারি হেরিটেজ” (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ইউনেস্কো পুরো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ দলিলকে সংরক্ষিত করে থাকে। ‘মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রারে (এমওডব্লিউ) ’৭ মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭ টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে। তারমধ্যে এই ভাষণটিকে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হিসেবে ঐতিহাসিকগণ এবং গবেষকরা স্বীকার করে নিয়েছেন। কেননা, এরকম একটি যুগসন্ধিক্ষণের ভাষণ যথাযথ পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি না হলে কখনো দেওয়া সম্ভব হয় না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু এই যুগ সন্ধিক্ষণ তৈরি করেছেন এবং তার কারিগর হিসাবে মুক্তির সনদের চিত্রাঙ্গণ করে গেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একে ‘ইতিহাসের প্রতিশোধ’ হিসেবে তুলনা করেছেন। কারণ স্বাধীন দেশে- বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাযজ্ঞের পরে, পাকিস্তানি ভাবধারায় পরিচালিত স্বৈরাচারী সরকার, দীর্ঘসময় এই ভাষণের প্রচার নিষিদ্ধ করে রেখেছিল।

৭ই মার্চের ভাষণের শেষ কথা ছিল”এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”। মুক্তির সংগ্রাম বলতে বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির রাজনৈতিক- অর্থনৈতিক-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তিসহ সার্বিক মুক্তির কথা বলেছেন, আর বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে দেশ মুক্ত করার বা দেশকে স্বাধীন করার কোন বিকল্প ছিল না। তাই তিনি অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সঙ্গে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বিকাল ৩.২০ মিনিটে ১০ লক্ষ জনতার উদ্দেশ্যে বজ্রকন্ঠে ১৮ মিনিটব্যাপী ভাষণে তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ উন্মোচিত করেন। তিনি পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে ঐতিহাসিক ভাষণটি দিয়েছিলেন, সেটি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি ঘুমন্ত জাতিকে জাগিয়ে তোলার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। পুরো ভাষণটিতে ৫২ থেকে ৭০ এর নির্বাচন পর্যন্ত এবং ছয় দফার রাজনৈতিক তাৎপর্য ও এর বাস্তবায়ন এবং স্বাধীনতা অর্জনের স্পষ্ট ঘোষণা ছিল। মাত্র ১৮ মিনিটের অনর্গল বক্তৃতায় তিনি সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বঞ্চনার ইতিহাসই তুলে ধরেননি, পাশাপাশি এই বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক নির্দেশনাও তুলে ধরেছিলেন, যা মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রামকে বেগবান করার জন্য স্ফুলিঙ্গ হিসাবে কাজ করেছিল।

ভাষণে তার তেজস্বিতা ও সম্মোহনী ক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। একটি বক্তৃতায় যে ধারাবাহিক কাব্যের বিন্যাস থাকে তা বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিটি বাক্য এবং কথায় জনগণ যেমন উল্লসিত হয়েছে তেমনি ভিতরে ভিতরে রাগে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে; নিজেদের অধিকার ও বঞ্চনার ইতিহাস শুনে। এই ভাষণটি পাল্টে দিয়েছে একটি দেশের মানচিত্র, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত। এ ভাষণ মানুষকে জাতীয়তাবাদী এবং স্বাধীনতাকামী করে তোলে। এ ভাষণ ছিল বহুমাত্রিকতায় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। শুধু বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্বমানবতার জন্যও অবিস্মরণীয়, অনুকরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল। এই ভাষণ শুধু বাঙালির জাতিই নয়, যেকোনো স্বাধীনতাকামী এবং মুক্তি পিপাসু জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবে। এই ভাষণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এবং গ্রন্থে বিশেষ গুরুত্ব বিবেচনায় সংগৃহীত হয়েছে। গণতন্ত্র, উচ্চ মানবিকতা, ত্যাগ ও দেশপ্রেমের উজ্জ্বল আদর্শ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রাম, জাতিভেদ-বৈষম্য ও জাতি-নিপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্বমানবতার মুক্তির সংগ্রামে যুগে যুগে এ ভাষণ অনুপ্রেরণা জোগাবে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতা, রাষ্ট্রনায়ক, সমরকুশলী- সবার জন্যই এ ভাষণে অনেক কিছু শিক্ষণীয়। শুধু তাই নয়, এই ভাষণটির স্বরূপ উন্মোচনের জন্য গবেষক এবং ঐতিহাসিকগণ বিভিন্নধর্মী বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর তাৎপর্য  এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে চারটি শর্ত আরোপ করেন। তিনি প্রস্তাব দেন পূর্ব পাকিস্তান থেকে মার্শাল ল’ প্রত্যাহার এবং সেনাবাহিনীকে তাদের নিজস্ব ব্যারাকে ফেরত নেওয়া। শুধুই তাই নয় তিনি আরও বলেন নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা এবং যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা। তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মানুষকে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে বলেন। তিনি তার ভাষণে বলেন ”আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। দেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশের কোর্ট-কাচারী, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।” এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ক্ষমতায় যাওয়ার বদলে দেশকে স্বাধীন করে একটি স্বতন্ত্র জাতি সত্তার উন্মেষের কথা চিন্তা করেছেন। এই ভাষণের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির জন্য নিবেদিত প্রাণ হবার ঘোষণাটি ছিল সবার জন্য শিক্ষণীয়। 

 বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনের জন্য  বঙ্গবন্ধু নিজের সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে  প্রস্তুত ছিলেন।  তিনি বলেছিলেন- "আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা সব কিছু বন্ধ করে দেবে"। বঙ্গবন্ধুর মনে সংশয় ছিল যে, পাকিস্তানিরা তাকে মেরে ফেলতে পারে। কারণ পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অভিযানের শুরু থেকেই বাংলাদেশে পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছিল। তারা এদেশে মানুষ চায়নি, মাটি চেয়েছে। প্রতিটি সেনা কর্মকর্তার অন্তরে এ কথাটি ছিল। তারা বেসামরিক মানুষকে হত্যা থেকে শুরু করে নারী ধর্ষণ, অর্থ লুট, বাড়িঘর পোড়ানোসহ এমন কোন অপকর্ম নেই- যা করেনি। এজন্যই বঙ্গবন্ধু সবাইকে সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

১৯৭১ এর ৭ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ এই ১৮ দিনে এই ভাষণ বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষকে প্রস্তুত করেছে মুক্তির সংগ্রামে, স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে। জন রিড (John Reed) রচিত বিশ্বখ্যাত ‘Ten Days That Shook the World’ বইতে উল্লেখিত যে ক'টি দিনে রাশিয়ায় লেলিনের নেতৃ্ত্বে অক্টোবর বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি নতুন রাষ্ট্রের জন্ম দেয় মাত্র ১৮ দিনে স্বাধীনতার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে। একটি ভাষণে মাত্র ১৮ দিনে একটি জাতিকে মুক্তির সংগ্রাম তথা যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার প্রস্তুতি গ্রহণের প্রেক্ষাপট তৈরি করা শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব ছিল। ৭ই মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধুকে আঞ্চলিক নেতা থেকে বিশ্বনেতায় পরিণত করে এবং দুটি পরাশক্তিকে মুখোমুখি সংঘর্ষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দেয়। শীতল যুদ্ধের সময় এই ভাষণটি বাঙালি জাতির শুধু মুক্তির সনদই ছিল না, এটি ছিল দেশকে সমাজতান্ত্রিক ধারায় প্রতিষ্ঠা করার এবং মেহনতী মানুষের মুক্তির জন্য- নতুন একটি সংগ্রাম বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠা করার দলিল।

১৯৭২-এর ১৮ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে এনডব্লিউ টিভির জন্য দেওয়া এক সাক্ষাতকারে ৭ই মার্চের ভাষণ সম্বন্ধে বিশ্লেষণ প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন যে, ৭ই মার্চের ভাষণে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে কী অনাচার ও নির্যাতন ঘটছিলো তারই স্পষ্ট বর্ণনা দেন, পাশাপাশি তিনি বিশ্বকেও এ ব্যাপারে অভিহিত করেন। তিনি তার কৌশলের অংশ হিসেবে জনগণকে প্রস্তুত করেন এবং আঘাতপ্রাপ্ত হলে সীমিত সম্পদের মাধ্যমে তার প্রত্যাঘাত করার জন্য আন্দোলন সংগ্রামের প্রস্তুতি এবং স্বাধীনতার ঘোষণাটি এই বলে প্রতিষ্ঠা করেন যে “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ জ্যাকব এফ ফিল্ড ৪৩১ খ্রিস্ট পূর্বাব্দ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন জাতীয় নেতা, বীর ও সেনাপতিদের মধ্য থেকে ৪১ জনকে নির্বাচিত করে Speeches that Inspired History শিরোনামের একটি মূল্যবান গ্রন্থ সংকলন করেন । এই গ্রন্থে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর এই মূল্যবান ভাষণটিকে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং ইতিহাসের পাতায় একটি উল্লেখযোগ্য বক্তৃতা হিসেবে নির্বাচন করেন।

১৯৬৬ সালের ৬ দফার মাধ্যমে বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনের যে সূত্রপাত তিনি করেছিলেন, তারই পরিসমাপ্তির পথ তৈরি করে দেয় ৭ই মার্চের ভাষণ। এই ভাষণেই বাঙালি জাতি মুক্তির সংগ্রামে রক্তঝরা দিনগুলো পেরিয়ে মুক্ত স্বাধীন দেশের গন্ধ পায়। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এই ভাষণ বাঙালি জাতিকে একটি শতফুলের বৃন্তে নিয়ে আসে।আজকের প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখে হাসিনার নেতৃত্ব যে উন্নয়ন,সেই উন্নয়নের মূল শক্তিই ছিল ৭ই মার্চের ভাষণ। কেননা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত মুক্তির সংগ্রামকে অর্থনৈতিক মুক্তির সোপান হিসেবে এই ভাষণে চিহ্নিত করা হয়েছে। জয় বাংলার স্লোগানের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের বাঙালি মুক্তিকামী মানুষের অন্তরের বাগানে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করে, যার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পথ নিরঙ্কুশ হয়ে যায়। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর এই সাতই মার্চের ভাষণের কাছে ঋণী, এবং একটি মুক্ত স্বাধীন দেশ রচনায় বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ একটি ঘুমন্ত জাতিকে আলোকিত করেছে, এবং সঠিক পথ দেখিয়েছে।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু। 

ড. আব্দুল ওয়াদুদ
ফিকামলি তত্ত্বের জনক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, 
প্রেসিডিয়াম সদস্য - বঙ্গবন্ধু পরিষদ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক- বাংলাদেশ মনোবিজ্ঞানের সমিতি।

ইত্তেফাক/এআই