তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাভারের একটি বিপণী-বিতানের ব্যবসায়ীদের হামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় সাভারের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার রাজ্জাক প্লাজার তৃতীয় তলায় মোবাইল মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাভার মডেল থানায় রাজ্জাক প্লাজা দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলছে।
গুরুতর আহত শিক্ষার্থী হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রথম বর্ষের (৫১তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তার মাথায় দশটি সেলাই দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দু’দিন আগে রাজ্জাক প্লাজার সিয়াম টেলিকম নামের দোকানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৫১তম ব্যাচের এক ছাত্রী মোবাইল ফোনের প্রোটেক্টর গ্লাস লাগাতে দেন। তবে ওই ছাত্রী ক্যাম্পাসে ফিরে দেখেন মোবাইল ফোনের পেছনে নতুন আঠা লাগানো ও ক্যামেরা ঝাপসা। তখন তিনি বিষয়টি তার সহপাঠীদের জানান। তার প্রেক্ষিতে দু’জন ছাত্রীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী ফের রাজ্জাক প্লাজায় যান। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। এরপর মারধরের খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে যান। তখন ব্যবসায়ীরা সংঘবদ্ধ হয়ে ফের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ উল হাসান ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক রুমানা রইছসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা এবং রাজ্জাক প্লাজা দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ সময় ব্যবসায়ীরা শিক্ষার্থীদের যেসব ক্ষতি হয়েছে, সেসবের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের দেখতে যান দু’পক্ষ। সেখানে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তার প্রেক্ষিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ.স.ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসি। এখন ব্যবসায়ীরা তাদের ভুল স্বীকার করেছেন। তারা শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ দিতে চাচ্ছেন। তবে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে, তাদের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
রাজ্জাক প্লাজার দোকান মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির হিমু বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবো। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যেসব ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মিথুন বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলামের মাথা কেটে গিয়েছিল। আমরা সিটিস্ক্যান করে দেখেছি, তবে ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়নি। আশা করি, ওষুধের মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।’
সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) নয়ন কারকুন বলেন, ‘মার্কেটে উত্তেজনার খবরে ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করি। এখন উভয় পক্ষের সঙ্গে বসে সমঝোতার চেষ্টা করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। তবে কেউ যদি আইনগত পদক্ষেপ নিতে চায়, তাহলে আমরা সহযোগিতা করবো।’

জাবি ছাত্রীকে হেনস্তার অভিযোগ, পুলিশ কনস্টেবলকে থানায় সোপর্দ
জবি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক সাঈদ, সদস্য সচিব অপূর্ব
জাবি কর্মচারীদের অবস্থান ধর্মঘট, তালা ভেঙে ঢুকলেন উপাচার্য