এ বছর ইউরোপের মর্যাদাপূর্ণ মঙ্গলযান প্রতিযোগিতা ‘ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জ ২০২৩’র চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের দুটি দল। একটি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) টিম ইন্টারপ্ল্যানেটার, অন্যটি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) প্রজেক্ট আলতাইর।
প্রাথমিক পর্বে ১৬তম অবস্থানে আছে আইইউটির প্রজেক্ট আলতেয়ার, যা এশীয় দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয়। অন্যদিকে বুয়েটের টিম ইন্টারপ্ল্যানেটারের অবস্থান ২৫তম।
টিম ইন্টারপ্ল্যানেটারের মেক্যানিকাল সাবটিম মেম্বার অজয় কুমার সরকার ইত্তেফাককে জানান, প্রথম রাউন্ডে বিশ্বব্যাপী সব দলকে নিজেদের প্রজেক্টের ওপর একটি রিপোর্ট জমা দিতে হয়েছে। চূড়ান্ত পর্বের অংশ হিসেবে একটি ভিডিও জমা দিতে হবে, যা পোল্যান্ডে চূড়ান্ত মূল্যায়নের সাথে যোগ হবে।
টিম লিডার নাফিজ ইমতিয়াজ বলেন, ‘ইআরসির মতো একটি তুমুল প্রতিযোগিতাপূর্ণ ইভেন্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাওয়া সত্যিই আনন্দের।’
একই অনুভূতি প্রকাশ করেন প্রজেক্ট আলতাইর দলের ইলেক্ট্রিক্যাল টিম লিড মো. সাদি মোবাশশির ও সিনিয়র মেম্বার রাইয়ান ইবনে হোসেন।
উল্লেখ্য, এ বছরই আরেকটি মর্যাদাপূর্ণ ইভেন্ট ‘ইন্টারন্যাশনাল রোভার ডিজাইন চ্যালেঞ্জ (আইআরডিসি) ২০২৩’-এ বাংলাদেশি দল হিসেবে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্থান দশম হয়ে দেশকে গর্বিত করে প্রজেক্ট আলতাইর।
দলের আরেক সদস্য মেকানিক্যাল টিম লিডার আরাফাত আহমেদ বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দেশে রোভার ডিজাইনিং জনপ্রিয় হয়েছে এবং বিশ্ব মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে আসছে রোভার টিমগুলো। তবে টেকনিক্যাল রিসোর্স আর ফান্ডিং সুবিধা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সেই সাথে সরকারকে এ সম্ভাবনাময় খাতে আরও নজর, সমর্থন দেওয়া উচিত। এতে দেশকে গর্বিত করার এ ধারা আরও গতিবেগ পাবে।’
প্রতি বছর পোল্যান্ডের কিয়েলস শহরে এ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। উদ্ভাবনের এ লড়াইয়ে অংশ নেয় বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মেধাবীসব তরুণ শিক্ষার্থী। এবারের আসরের প্রাথমিক পর্বে গোটা বিশ্ব থেকে মোট ৫৪টি দল অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে ২৫টি দল চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে ডাক পেয়েছে পোল্যান্ডে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যাচ্ছে বুয়েট ও আইইউটির দুটি দল।
এবার আসরের চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত হবে সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ থেকে ১৭ তারিখ। ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে নিজেদের তৈরি রোবটযান বা রোভার নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হয়। সেখানে মার্সের আদলে তৈরি করা এক জায়গায় (সিমুলেশন) বিভিন্ন ধরনের কাজ বা টাস্ক করতে হয় রোভারকে।
ভারবহন করা, বৈজ্ঞানিক ও গাণিতিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়। গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশের তরুণরা এতে অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করছেন এবং দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন।

