রোববার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কুমিল্লায় দু’গ্রুপের টেঁটাযুদ্ধে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা নিহত, পরিস্থিতি থমথমে

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২৩:০৬

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে মো. নিজাম সরকার নামে এক জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের চালিভাঙ্গা গ্রামে সোমবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

নিহত মো. নিজাম সরকার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এবং স্থানীয় নলচর গ্রামের মো. আব্বাসের ছেলে। তিনি মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই। 

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।  

জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা-২ আসনের এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর অনুসারী জেলা পরিষদ সদস্য (মেঘনা উপজেলা) আবদুল কাইয়ুম গ্রুপ এবং মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে সোমবার সকাল ৮টার দিকে চালিভাঙ্গা, নলচর, ফরাজীকান্দি গ্রামের দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে চালিভাঙ্গা গ্রামের বাঘবাজার এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, গুলি বিনিময়, টেঁটা ও লাঠিশোটা দিয়ে আঘাত-পাল্টা আঘাতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র টেঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেন। আহতদের বেশির ভাগকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবিরের ছোট ভাই চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আহত নিজাম সরকার মারা যান। 

স্থানীয়রা জানায়, আহতদের বেশিরভাগ টেঁটাবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছে। এছাড়া কয়েকজন গুলিবিদ্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন- মো. ইব্রাহীম (২৭), শাকিল (২১), খালেদ হাসান (১৮), টিটু (২৯), রমজান (৩৪), দেলোয়ার (৩০), আনিছ সরকার (২৪), সুমন (২২), ওয়াসিম (৩৫), হানিফ (৪৫)। অপর আহতদের সোনারগাঁ ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া হয়েছে। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা জানান, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলাটি কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের যুক্ত থাকলেও স¤প্রতি মেঘনা উপজেলাটি কুমিল্লা-২ (হোমনা-মেঘনা) সংসদীয় আসনের অধীন যুক্ত হয়েছে। এর পর থেকে কুমিল্লা-২ আসনের মেঘনা উপজেলা এলাকায় এমপি সেলিমা আহমাদ মেরীর পক্ষে আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা চালান জেলা পরিষদ সদস্য মো. আবদুল কাইয়ুম। তবে মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চালিভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও তার ভাই নিহত নিজাম সরকার মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলমের অনুসারী। উভয় পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে দুই পক্ষ অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও চালিভাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বলেন, জেলা পরিষদ সদস্য আবদুল কাইয়ুম ও তার লোকজন আমার ছোট ভাই নিজাম সরকারকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল কাইয়ুম সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুনের লোকজন নিজেরা মারামারি করে আমাদের উপর দায় চাপাচ্ছে। এতে আমাদের লোকজন আহত হয়েছেন। 

মেঘনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, এমন হামলা ও হত্যার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি। নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি পক্ষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। 

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জিএস সুমন সরকার বলেন, হামলা ও হত্যাকারী তাদের মদদদাতা যেই হোক না কেন তাদেরকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক। 

মেঘনা থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় হুমায়ুন চেয়ারম্যানের ছোট ভাই নিজাম সরকার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। 

কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও