উৎসব মানেই খাবার-দাবাড়ের ধুম। নানা খাবারের আয়োজনে মেতে উঠে বাড়ি থেকে শুরু করে পূজা মণ্ডপ পর্যন্ত। রসনা বিলাসে ভিন্নতা আনতে রইলো বুলা রানী দাসের ৪ পদ।
নারকেল নাড়ু
উপকরণ
নারকেল ২টি (কুরানো), গুড় ৫০০ গ্রাম (কুচিয়ে নেওয়া), গুড়ো দুধ ১/২ (হাফ কাপ), কর্পূর কয়েক ফোঁটা, এলাচ গুড়ো ১চা চামচ।
প্রণালী
গুড় ও নারকেলের আলো ভাবে মেখে চুলায় অল্প তাপে আস্তে আস্তে জ্বাল দিন। ঘনঘন নাড়তে হবে, পুড়ে লেগে যেন না আসে। ১০/১৫ মিনিট পর আঠালো পাক এসে যাবে। হাতের তালুতে সামান্য পরিমাণে নিয়ে পাকিয়ে দেখতে হবে গোল হয় কিনা। তোলার আগে কয়েক ফোঁটা কর্পূর বা এলাচের গুড়ো দিয়ে নেড়েচেড়ে তুলতে হবে। কিছু পরিমাণে পাটায়, বাকিটা ঢেকে রাখতে হবে। একবার শুধু বেটে নিতে হবে, পাশাপাশি দ্রুত হাতে নাড়ু তৈরি করতে হবে। দু হাতে ঘি লাগিয়ে নিতে হবে। দুজনে মিলে করলে ভালো হয়। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে পাক ছেড়ে যাবে।
ফুলকো লুচি
উপকরণ
ময়দা ৫০০ গ্রাম, সয়াবিন তেল ১/২ কাপ, লবণ ১/২ চা চামচ, চিনি ১ চা চামচ, পানি আন্দাজ মতো।
প্রণালী
বড় খোলামেলা পাত্রে ময়দা, লবণ, চিনি মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে তেল দিয়ে ময়দায় ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার একটি পাত্রে পানি নিয়ে অল্প অল্প ময়দার মধ্যে দিয়ে মেখে নিতে হবে। অতিরিক্ত পানি একবারে দিতে হবে না। প্রয়োজন মত পানি দিয়ে সুন্দর ভাবে ময়ান দিতে হবে। এবারে ছোট ছোট লেচি কেটে নিন। চাকি বেলুনে সামান্য তেল মাখিয়ে লুচি বেলতে হবে। তাহলে গোল হবে। এবারে ডুবো তেলে ভেজে নিন। প্রথম দিকে জোর জ্বাল দিতে হবে। তাহলে লুচি ফুলবে ভালো।
রাজকীয় পায়েস
উপকরণ
লিকুইড গরুর দুধ ২ কেজি, চিনি গুড়া চাল দুই মুঠো (৫০ গ্রাম), গুড়ো দুধ ১ কাপ, চিনি নিজের পছন্দ মতো, এলাচ ৪টি, তেজপাতা ২টি, কাজু বাদাম কুচি ৪টি, ঘি সামান্য।
প্রণালী
প্রথমে চাল ধুয়ে রাখতে হবে। বড় হাড়িতে দুধ লো ফ্লেমে জ্বাল দিতে হবে। দুধ ফুটে কিছুটা কমে এলে চাল দিন। অনবরত নাড়িয়ে দিতে হবে। দুধ বলক উঠে পড়ে না যায়। চামচ দুধের সড় নেড়ে নেড়ে ভেঙে দিতে হবে দুধের সঙ্গে। ঘন হয়ে এলে চিনি ও বাদাম কুচি দিতে হবে। এটা রেখে অন্য কাজ করা যাবে না। হয়ে আসার আগে অন্য পাত্রে ঘিয়ে আস্ত কাজু গুলো ভেজে নিন। পায়েসে ঢেলে দিন। দারুণ ফ্লেভার আসবে৷ সুন্দর পাত্রে পরিবেশন করতে হবে। ওপরে পছন্দ মতো কাজু, কিশমিশ সাজিয়ে দিন।
লাবড়া
উপকরণ
শর্ষের তেল ৫০ মিলিগ্রাম (বড় ২ চামচ), পাঁচফোড়ন ১ টেবিল চামচ, তেজপাতা ২টি, শুকনা মরিচ ৪টি, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদ ১ টেবিল চামচ, মরিচ ১ টেবিল চামচ, জিরে ১ টেবিল চামচ, নারকেল কোড়া ১/২ হাফ কাপ, চিনে বাদাম (আধা) বাটা ১/২ হাফ কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদ মতো ও সামান্য জল, ঘি সামান্য, মৌরি ও এলাচের গুড়ো ১/২ চা চামচ, আলু ৪টি (ডুমো করে কেটে ভেজে নেওয়া), কাঁকরোল, পটল, বরবটি, মূলা, শিম, পেঁপে, কুমড়ো, ডুমো ডুমো করে কাটা ২০০ গ্রাম (প্রতিটি), বেগুন ২টি, ঝিঙে ২ টি, বাঁধাকপি (থাকলে) কুচি ১ কাপ, পুঁই শাক কুচি হাফ কাপ।
প্রণালী
কড়াইয়ে তেল গরম হলে পাঁচফোড়ন, শুকনো মরিচ ও তেজপাতা ফোড়ন দিন। নারকেল কোড়া, আদা বাটা ও বাদাম বাটা দিয়ে কিছুটা ভাজা ভাজা করে, সামান্য জল হলুদ, মরিচ, জিরের গুড়ো, লবণ দিয়ে কষিয়ে শক্ত সবজিগুলো দিতে হবে। কিছুক্ষণ ঢেকে রান্না করে বাকি নরম সবজি ও শাক দিতে হবে। কিছুক্ষণ পর পর নেড়ে , চিনি দিতে হবে। জল শুকিয়ে গা মাখা হবে। এমন পর্যায়ে সার্ভ করুন।
