সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ২০২৩’ যাদের ঝুলিতে

গত ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হলো ইয়াং বাংলা আয়োজিত জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডের সপ্তম আসর। এ বছর দক্ষতা ও কর্মসংস্থান, শিল্প ও সংস্কৃতি, সম্প্রদায়ের সুস্থতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, জলবায়ু ও পরিবেশ উদ্ভাবন এবং যোগাযোগ এই ছয় ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছে দেশসেরা ১২ সংগঠন। তাদের গল্প শোনাচ্ছেন শাকিরুল আলম শাকিল

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৩, ০০:২১

টিম অ্যাটলাস
সানির রোবটিক্স দল ‘টিম অ্যাটলাস’
রোবটিক্স এবং স্পেস এক্সপ্লোরেশন নিয়ে কাজ করতে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ যাত্রা শুরু করে টিম অ্যাটলাস। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ শিক্ষার্থী এই দলে কাজ করছেন। তাদের আবিষ্কৃত উল্লেখযোগ্য রোবটের মধ্যে রয়েছে আগুন নেভানোর রোবট ‘ডিফেন্ডার’, কৃষকদের জন্য ‘রোবট ফিমো’, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ‘ইলেকট্রা’। এবছর ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশনে স্বর্ণপদক পেয়েছে তাদের দল। টিম অ্যাটলাসের দলনেতা সানি জুবায়ের ইত্তেফাক প্রজন্মকে বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড আমাদের কাজ করার স্পৃহা, গবেষণা, তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তির শিক্ষায় তাদেরকে এগিয়ে নিতে আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে’।

 

ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে শহিদুলের ‘ডব্লিউএসআরটিবিডি’
বিপদগ্রস্ত বণ্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও সংরক্ষণের সচেতনতার জন্য পঞ্চগড়ের মো শহিদুল ইসলাম গড়ে তুলেছেন ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)। এযাবৎকালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচশোর অধিক সাপ উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করেছে তার সংগঠন। শহিদুল বলেন, ‘সাপ অবহেলিত একটি প্রাণী, যাকে দেখলেই মানুষ মারতে আসে। আমাদের সংগঠন সারাদেশে সাপ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে’।

 

ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবাল
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় মৃধার ‘ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবাল’
ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবালের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শামীম আহমেদ মৃধা। আগামীর বিশ্বকে বাসযোগ্য ও নিরাপদ করে তুলতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৫টি দেশের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন তারা। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ গতবছর পেয়েছেন ডায়না অ্যাওয়ার্ড। সংগঠনটির বোর্ড পরিচালক সাদিয়া জাহান রথি ইত্তেফাক প্রজন্মকে জানান, ‘২০১৮ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ইকো-নেটওয়ার্ক। এই পুরস্কার আমাদেরকে একটি জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দারুণ উৎসাহিত করবে’। 

 

ক্লিয়ার কনসেপ্ট
ওষুধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হিরোকের ‘ক্লিয়ার কনসেপ্ট’
ক্লিয়ার কনসেপ্ট সাধারণ মানুষের ওষুধ বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সচেতনতা তৈরি করছে। তাদের সাথে যুক্ত রয়েছে ফার্মাসিস্ট ও ডাক্তারগণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষার্থী মো. হিরোক শেখের হাত ধরে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ক্লিয়ার কনসেপ্ট। হিরোক বলেন, ‘করোনার সময়ে মানুষের মাঝে ওষুধ নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা কাজ করছিলো। তখন থেকে  ওষুধের সঠিক ব্যবহার, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে পরিষ্কার ধারণা দিতে কাজ করছি। ভবিষ্যতে একটি অ্যাপ বানানোর ইচ্ছা রয়েছে’।

 

ঋতু হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং ফাউন্ডেশন
পিরিয়ডের ট্যাবু ভাঙতে শারমিনের ‘ঋতু’
মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে ২০১৬ সাল থেকে কাজ করছেন এনজিও কর্মী উম্মে শারমিন কবির। বিভিন্ন স্কুলে, গ্রামে, এবং বস্তিতে সেশনের মাধ্যমে কিশোরী এবং নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও বয়ঃসন্ধি নিয়ে সচেতন করছে ঋতু। সেই সঙ্গে তারা প্রকাশ করেছে সচেতনতামূলক কমিক বই। শারমিন বলেন, ‘আমরা মাসিকসহ বয়ঃসন্ধিকালীন সচেতনতার বার্তা পৌঁছেছি প্রায় ৫০ হাজার কিশোরীর কাছে’।

 

উইমেনস ড্রিমার ক্রিকেট অ্যাকাডেমি
ক্রীড়াঙ্গনের নারীদের জন্য আরিফার ‘উইমেনস ড্রিমার ক্রিকেট অ্যাকাডেমি’
ক্রিকেট প্রেমী আরিফা জাহান রংপুরে গড়ে তুলেছেন নারী ক্রিকেট একাডেমি। শহরের বিভিন্ন স্কুলে ঘুরে ঘুরে ৩০ জন মেয়েকে নিয়ে ২০১৯ সালে শুরু করেন একাডেমির কাজ। তাদের লক্ষ্য ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধ, নারীর ক্ষমতায় নিশ্চিত করা। আরিফা বলেন, ‘শুধু রংপুর নয়, দেশের বিভিন্ন জেলায় নারীদের ক্রিকেট প্রশিক্ষণ দিচ্ছি আমরা’।

 

টঙ্গের গান
সম্প্রীতির সুরে মাহমুদুলের ‘টঙ্গের গান’
মাহমুদুল হাসান আবির মিয়ার গানের দল টঙ্গের গান। তারা গায় সম্প্রতীর গান, সচেতনতার গান। দেশের শিল্প সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনকে উজ্জীবিত রাখতে তাদের এই প্রচেষ্টা। টঙ্গের গানের ব্যবস্থাপক নাজমুল হুদা নিমু বলেন, ‘টঙ্ দোকানে চা খাওয়ার সময় উঁচু-নিচু, ধনী-গরিব, সাদা-কালো সবাই সমান। টঙ্গের গান নামটির মাঝেই সম্প্রীতির উল্লেখ রয়েছে। আমরা গানের মাধ্যমে সুন্দর বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছি।’

 

অভিনন্দন ফাউন্ডেশন
হতদরিদ্রদের পাশে কাঞ্চনের ‘অভিনন্দন ফাউন্ডেশন’
উত্তর অঞ্চলের কর্মহীন, হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য কাজ করছে অভিনন্দন ফাউন্ডেশন। ২০১৭ সাল থেকে নীলফামারী ও রংপুর অঞ্চলে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে আসছে সংগঠনটি। বর্তমানে তাদের শতাধিক সক্রিয় সদস্য রয়েছে। পরিচালক কাঞ্চন চন্দ্র রায় বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড আমাদের কাজের অনুপ্রেরণাকে আরো বেশি বাড়িয়ে দিল’।

 

এপিওয়াইও
পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে মালাচিং’র ‘এপিওয়াইও’
পিছিয়ে পড়া ম্রো জনগোষ্ঠীর মাঝে সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে মালাচিং মারমার সংগঠন আলট্রাস্টিক পিউপিলস ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (এপিওয়াইও)। তাদের যাত্রা ২০১৭ সালে। বর্তমানে তারা রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইত্তেফাক প্রজন্মকে মালাচিং মারমা বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার পরে মনে হয়েছে আমাদের স্বপ্নের এক ভাগ পূরণ হয়ে গেছে। এই অ্যাওয়ার্ড আমাদের কমিউনিটি ইয়ুথদের আরো বেশি অনুপ্রাণিত করবে’।

 

ভালো কাজের হোটেল
ছিন্নমূল মানুষের জন্য আরিফুরের ‘ভালো কাজের হোটেল’
ভালো কাজের হোটেলে খাবার খেতে কোন পয়সা লাগে না তবে দিনে একটি ভালো কাজ নজির থাকতে হবে। এখানে খেতে আসেন দিনমজুর, রিকশা চালক, পথচারী, ছিন্নমূল শিশুসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আরিফুর রহমান। ভালো কাজের হোটেলের প্রতিনিধি আসিফ বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে মানবতার কোন দেয়াল হয় নাহ। ভালো কাজের হোটেলকে আমরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে চাই’। 

 

নুপম ফাউন্ডেশন
আদর্শ সমাজ গঠনে রেজাউলের ‘নপম ফাউন্ডেশন’

একটি গ্রামের স্কুল মাঠে দৈনিক পত্রিকা পড়ানোর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে পাবনার নপম ফাউন্ডেশন। সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ, রক্তদান কর্মসূচি, বই মেলা, পত্রিকা-ভাজপত্র প্রকাশ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তা, রাস্তা মেরামত, বৃক্ষরোপনসহ নানা মনন ও সমাজ উন্নয়ন মূলক কাজ করে যাচ্ছে তারা। পাশাপাশি অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিখা একাডেমি নামে একটি স্কুল পরিচালনা করছে। নপমের পরিচালক রেজাউল করিম ইত্তেফাক প্রজন্মকে বলেন, ‘জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড অর্জন আমাদের জন্য ভীষণ আনন্দের। আমরা দীর্ঘ ১২ বছর ধরে পাবনার তরুণদের শিল্প-সাহিত্য ও সমাজ উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ করে আসছি’।

 

সম্ভাবনা
নারীর ক্ষমতায়নে মুশফিকার ‘সম্ভাবনা’
২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে মুশফিকা নিশাত। তাদের যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালে। মুশফিকা বলেন, ‘সম্ভাবনা সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। আমাদের স্বপ্ন একটি বিভেদহীন দেশ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। এই পুরস্কারটি নিঃসন্দেহে আমাদের সম্ভাবনার দ্বারকে আরো উন্মোচিত করবে’। 

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন