শুক্রবার, ০১ মার্চ ২০২৪, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নরসিংদীতে একসঙ্গে লড়ছেন স্বামী-স্ত্রী ও ভাই

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ২০:৪৫

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য একসঙ্গে লড়ছেন স্বামী-স্ত্রী ও ভাই। তারা হলেন নৌকার প্রার্থী ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান (দিলীপ), স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তার স্ত্রী ও পলাশ উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি আফরোজা সুলতানা (আফরোজা দিলীপ) এবং ছোট ভাই সাবেক সংসদ সদস্য ও পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি কামরুল আশরাফ খান পোটন।

জানা যায়, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির ড. আব্দুল মঈন খানের দখলে ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান (দিলীপ) প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচন করে আসনটি নৌকার দখলে আনেন।

পরবর্তীতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মহাজোট হয়ে নির্বাচন করে। এ নির্বাচনে মহাজোট থেকে জাসদের জায়েদুল কবীরকে প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক দিয়ে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়। জাসদের জায়েদুল কবীরকে নৌকা দেওয়ায় ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপের ছোট ভাই কামরুল আশরাফ খান (পোটন) স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করে নৌকাকে পরাজিত করেন। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে এ আসনটিতে পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান (দিলীপ) মনোনয়ন পেয়ে জয়লাভ করেন।

অপরদিকে, নরসিংদী-৩ শিবপুর আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট যুদ্ধে নেমেছেন স্বামী-স্ত্রী। তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও শিবপুরের সাবেক সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং তার স্ত্রী শিবপুর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফেরদৌসী ইসলাম। ইতিমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. বদিউল আলম।

এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়ে ভোট যুদ্ধে লড়বেন শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি খান। তিনি হলেন শিবপুরের সাবেক এমপি এবং ১৯৮৬ সালে ২৮ এপ্রিল দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত শহীদ রবিউল আউয়াল খান কিরনের ছেলে এবং ২০২৩ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত শিবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও শিবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদ হারুন অর রশিদ খানের ভাতিজা।

এর আগে ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়াকে পরাজিত করে নৌকা প্রতীকে জহিরুল হক ভূঁইয়া মোহন নির্বাচিত হন। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বর্তমান সংসদ সদস্য জহিরুল হক ভূইয়া মোহনকে পরাজিত করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। 

এবারের নির্বাচনে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা এবং তার স্ত্রী ফেরদৌসী ইসলাম অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রী দুজনেই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ফজলে রাব্বি খানের বিরুদ্ধে। স্বামী-স্ত্রী দু জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কেউ জানতো না। তবে নির্বাচন কমিশনে দুজনেই বৈধতা পেয়েছেন। 

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, আমার স্ত্রী ও আমার মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে। দু’জনেই ভোটে লড়বো। কেউ কাউকে প্রতিযোগী মনে করছি না। আমরা বাদেও অনেকে প্রার্থী হয়েছেন। জনগণ যাকে ভোট দিবে সেই বিজয়ী হবে। 

ইত্তেফাক/এবি