বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

দ্বিতীয় বিয়ে! 

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৩:১৫

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমাজে বেশ কিছু কৌতুক প্রচলিত আছে। তার মধ্য থেকে একটি হলো, বল্টু একবার টেলিফোনে লোকজনকে বিয়ের পরামর্শ দেওয়ার সেবা খুলেছে। তো যথারীতি এক লোক টেলিফোন করলো। ফোন রিসিভ করে ওপাশ থেকে শুরুতেই জানতে চাওয়া হলো, পাত্র বা পাত্রী চাইলে ১ চাপুন, অ্যানগেজমেন্টের জন্য ২ চাপুন। লোকটি জানতে চাইলো, দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে কি করব? বল্টুর সোজাসাপটা জবাব, প্রথম বউয়ের গলা চাপুন। কিন্তু বাস্তবে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলে কাউকে প্রথম বউয়ের গলা চাপতে হয় না, ডিভোর্স দিতে হয়।

বর্তমানে সমাজ ও সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের কাপে যে বিষয়টি ঝড় তুলছে সেটি হলো দ্বিতীয় বিয়ে। আর এই আলোচনার সম্প্রতি সূত্রপাত ঘটিয়েছেন পশ্চিম বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তিনি আরেক জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী অনুপম রায়ের সাবেক স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীকে বিয়ে করে বাংলার নারী সমাজের হূদয় ভেঙে খান খান করে দিয়েছেন। অন্তত দেশীয় সামাজিক মাধ্যমের পরিবেশ দেখে তাই মনে হচ্ছে।

আজ থেকে বছর পাঁচেক আগে জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী তাহসানের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিথিলার। বিচ্ছেদের প্রায় দু বছরের মাথায় মিথিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ওপার বাংলার জনপ্রিয় পরিচালক সৃজিত মুখার্জির সঙ্গে। তাদের বিয়ের পর মিথিলাকে সবচেয়ে বেশি হেয় করেছেন নেটিজেনরা যা এখনও চলমান।

দুটো ঘটনায় ভিন্ন চিত্র দেখেছি। যেমন প্রথম ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যে কথাটা দেখা গেছে সেটি হলো, এক জীবনে কতটা সৌভাগ্য নিয়ে আসলে একজন মানুষ অনুপম ও পরমব্রত, দুজনকেই জীবনসঙ্গী হিসেবে পায়। আর দ্বিতীয় ঘটনার পর মিথিলা শুনতে হয়েছে উল্টো ধুয়ো, মেয়েটার চরিত্রের দোষ!

সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাত্কারে ভবিষ্যতে ফের বিয়ের পরিকল্পনা সম্পর্কে কথা বলেছেন নায়িকা অপু বিশ্বাস। তিনি বলেন, ‘প্রথম বিয়েটা আমি ভেবে করিনি। তবে দ্বিতীয় বিয়ের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ভেবে করতে চাই। যখন কোনো মেয়ে ভাবে সে ফের বিয়ে করবে এবং তার একটি সন্তান রয়েছে। এমন অবস্থায় ওই মেয়েটা হয়তো সুখী হবে, সে একজন নতুন জীবনসঙ্গী পাবে কিন্তু সন্তান একজন অন্য মানুষকে পাবে। যে তার বাবা নয়, বা যার সঙ্গে তার কোনো রক্তের সম্পর্ক নেই। ফলে সে কিন্তু সুখী হবে না।’

নায়ক শাকিবের সঙ্গে প্রথম সংসার ভাঙনের পর বিগত ৫ বছরে ছেলে ও কাজ নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করেছেন অপু বিশ্বাস। তার বক্তব্যে পরিষ্কার বোঝা গেছে আপাতত নিজের ছেলের সুখ ও ভবিষ্যতকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। যা খুবই বাস্তবসম্মত একজন মায়ের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কোনো মা নিশ্চয়ই চান না তার সন্তানের ভবিষ্যত অসুন্দর হোক।

তারকাদের কথা বাদ দিলেও দ্বিতীয় বিয়ে বিষয়টা যেন সমাজে দিন দিন বহুল কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠছে। মজার ছলেই হোক অথবা সিরিয়াস, সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই একাধিক বিয়ে নিয়ে মজার পোস্ট, মিম ইত্যাদি শেয়ার করে থাকেন। এখন যেহেতু ইন্টারনেটের যুগ আমরা অনেক কিছু সহজেই দেখতে পাই সামাজিক মাধ্যমগুলোর বদৌলতে। আজকাল তো একাধিক বউ নিয়ে ভ্লগ করতেও দেখা যায় অনেককে। এই সংস্কৃতি দিন দিন আমাদের সমাজেও ঢুকে যাচ্ছে।

বিয়ে নিয়ে আবার হতাশায় আছে এক প্রজন্ম। অনেকে আবার বিয়ে কেন করছো না, প্রশ্নটি শুনতে শুনতে হয়রান হয়ে গেছেন। এ নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শও দিয়েছেন কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে হয় তা নিয়ে। বঙ্কিম চন্দ্রের ভাষায় বলতে গেলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেউ মরে বিল সেঁচে কেউ খায় কৈ। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে একদল তরুণের মধ্যে আবার নানা কল্পনা কাজ করে। তারা দুটোতে নয়, চারটি বিবি চায় নবাবি ঘরানার।

বিয়ে কোনো ছেলে খেলা নয়। সমাজ স্বীকৃত উপায়ে পরিবার গঠনের পথ হলো বিয়ে। একেক ধর্মে বিয়ের রীতি একেক রকম। মুসলমান সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশের বাসিন্দা হওয়ায় আমরা মুসলিম রীতি মেনেই বিয়ে করি। বিয়ে, তালাক এসব বিষয়ে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। নিয়ম মেনে যে কারো বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটতে পারে এটা শরিয়ত সম্মত। কিন্তু আমাদের সমাজে বিপত্তি বাধে দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে। অনেকে এক্ষেত্রে ধর্মের নিয়ম না মেনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান কিংবা করেন। বিয়ে কেবল শারীরিক চাহিদা মেটানোর কোনো পন্থা নয়।

ইসলামে প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে জায়েজ করেছে এটা সত্য কথা। কিন্তু একাধিক বিয়েকে কখনও উত্সাহিত করেনি। সূরা নিসার তিন নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা ভয় কর যে, এতীম মেয়েদের হক যথাথভাবে পুরণ করতে পারবে না, তবে সেসব মেয়েদের মধ্যে থেকে যাদের ভাল লাগে তাদের বিয়ে করে নাও দুই, তিন, কিংবা চারটি পর্যন্ত। আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনেই সন্তুষ্ট থাক।’ আয়াতটি নাজিল হয় ওহুদ যুদ্ধের পরক্ষণেই।

 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন