জাবিতে প্রথম বর্ষের সশরীরে ক্লাস শুরুর দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৭:০৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের (৫২ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রম সশরীরে শুরু করাসহ তিনদফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। 

তাদের অন্য দু'টি দাবি হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দ্রুত নেওয়া। 

মানববন্ধনে বক্তারা ভর্তি কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় পিছিয়ে পড়া ও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস শুরু করতে না পারার সমালোচনা করেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিব জামানের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন চিরকুটের সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান লাবীব বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত সকল বিষয় সমন্বয় করে যথাসময়ে পাঠদান নিশ্চিত করা। কিন্তু জাবি প্রশাসন পাঠদান ব্যতীত সকল কিছু করতে আগ্রহী। তারা হল থেকে অছাত্রদের বের করতে পারে না। একটি বা দু'টি বিজ্ঞপ্তি দেয়ালে টাঙিয়ে দিয়ে তারা তাদের দায়িত্ব শেষ করে।'

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক সোহাগি সামিয়া বলেন, ‘অনলাইনে পাঠদানের কারণে শিক্ষার গুণগতমান নিচে নেমে গেছে। নেটওয়ার্কের দুর্ভোগ, ইন্টারনেট খরচ বহন করার সামর্থ্য দেশের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নেই। জাবির নবীনতম শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস নিলে তাদের পড়াশোনার গুণগত মান হারাবে।'

তিনি আরো বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগে থেকেই বলেছে নতুন ছয়টি হল তৈরি হয়ে গেলে আর গণরুম থাকবে না। দুর্ভাগ্যবশত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থীদেরকে এখনও গণরুমে থাকতে হচ্ছে। ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থীদের গণরুমের মাধ্যমেই সশরীরে ক্লাস শুরু করতে হয়েছে। আর এখন ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থীদের ছয় মাস ঘরে বসিয়ে রেখে অনলাইনে ক্লাস শুরু করেছে।'

বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের আহ্বায়ক আলিফ মাহমুদ বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাজ ভালো গবেষক তৈরি করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। কিন্তু জাবি প্রশাসন যেসব উপায়ে অর্থ উপার্জন করা যায় সেগুলো নিয়েই ব্যস্ত। অথচ তারা ভর্তি পরীক্ষার পরে ছয় মাস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ঘরে বসিয়ে রেখেছে।'

সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক কনোজ কান্তি রায় বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী অনেক আনন্দ নিয়েই নতুন হলগুলো উদ্বোধন করলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলো এখনও চালু করতে পারেনি। প্রশাসন তার নিজের স্বার্থের জন্য যেকোনও কাজে যুক্ত হতে পারে। এই প্রশাসনের মাথায় তড়িঘড়ি করে রাতের আঁধারে গাছ কেটে নতুন ভবন নির্মাণ এবং কীভাবে অর্থ লুটপাট করা যায় সে বুদ্ধি আসে। কিন্তু এটা আসে না কীভাবে দ্রুততম সময়ে ক্লাস শুরু করা যায়।'

ইত্তেফাক/এআই