রোববার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

ক্রিকেটই বিথীর নেশা ও পেশা

ক্রিকেটের জাতীয় দলে খেলার ইচ্ছা ছিল বিথীর। শারীরিক অক্ষমতার জন্য পূরণ হয়নি সে স্বপ্ন। পরে শত নারীর স্বপ্ন পূরণে গড়ে তুলেছেন নারীদের জন্য দেশের একমাত্র বিনা মূল্যে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ‘উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’। বিথীর সেই গল্পই জানাচ্ছেন শাকিরুল আলম শাকিল

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:১৬

রংপুরের নূরপুরে বেড়ে উঠেছেন আরিফা জাহান বিথী। ৪ ভাই বোনের দরিদ্র সংসারে উপার্জনের হাতিয়ার ছিলেন বাবা। তিনি চাকরি করতেন একটি পেট্রল পাম্পে। সে চাকরি চলে গেলে অসহায় হয়ে পড়ে পরিবারটি। সংসারের হাল ধরতে মায়ের সঙ্গে মিলে বাসার পাশে একটি মুদির দোকান দেণ বিথী। পড়াশোনার পাশাপাশি এই অল্প বয়সেই সংসারের হাল ধরতে হয় বিথীকে। কিন্তু বিথীর ঝোঁকটা ছিল অন্যদিকে। খেলাধুলা বিশেষ করে ক্রিকেট তাকে খুব করে টানত। স্কুলের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে জিতেছেন পুরস্কার।

একসময়ে অনেক কষ্টে বাবা-মাকে বুঝিয়ে একটি ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি হন বিথী। অল্পদিনেই সাফল্যের দেখা মেলে। খেলার সুযোগ পেয়েছেন ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাবসহ বেশ কিছু ক্লাবে। কিন্তু হঠাৎ দেখা দেয় এক বিপত্তি। ২০১৭ সালে একবার খেলার সময় নাক দিয়ে রক্ত আসে। চিকিৎসক ইনজুরির কারণে খেলাধুলা না করার পরামর্শ দেন। এখানেই থেমে যেতে হয়। তবে ক্রিকেট ছেড়ে দিলেও স্বপ্ন দেখতে ভোলেননি বিথী। স্বপ্নবাজ কিছু মেয়েদের নিয়ে ২০১৯ সালে গড়ে তুলেছেন ‘উইমেন্স ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি’। যেটি দেশের একমাত্র বিনামূল্যে নারী ক্রিকেট একাডেমি।

৩০জন মেয়েকে নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তাদের সদস্য ৩০০জন। বিথীর নির্দেশনায় সপ্তাহে ৬দিন রংপুর স্টেডিয়ামে প্রশিক্ষণ নেন তারা। বিথী জানান, ‘একজন নারীকে ক্রীড়া অঙ্গনে আসতে গেলে নানা প্রতিবন্ধকতা পেরুতে হয়। আমি নিজেই এগুলোর ভুক্তভোগী। এজন্য সবসময়ে চেয়েছি যেসব মেয়েরা উদ্যম নিয়ে, সাহস নিয়ে এপথে আসতে চান তাদের পাশে দাঁড়াতে। আমাদের একাডেমিতে ভর্তি, মাসিক বেতন সবই ফ্রিতে চলে।’

বিথী আরো বলন, ‘আমার ইচ্ছা ছিল জাতীয় দলে খেলা করার। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে তা তো হয়নি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন আমার একাডেমির মেয়েরা জাতীয় দলে সুযোগ পায়।’ এইচএসসি পাস করার পর পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিল বিথীকে। কিন্তু অদম্য বিথী বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে এসে ক্রিকেটেই সঁপেছেন নিজেকে। এবছর বিথী সোশ্যাল ইনক্লুশন বা সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ক্যাটাগরিতে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। ইয়ং বাংলার বিবৃতিতে বলা হয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন, তাদের ক্রীড়া ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বাল্য বিবাহ হ্রাস করায় ভূমিকা রাখছে বিথীর উইমেনস ড্রিমার ক্রিকেট একাডেমি।

ইত্তেফাক/এসটিএম