সরকার একটি ভুয়া নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, যে দেশ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না সে দেশও বাংলাদেশের মতো প্রকাশ্যে ভোট চুরি করে না। সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেখুন, খেলায় কারা জেতে।
শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিজয় দিবসের র্যালি শুরুর আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মঈন খান বলেন, প্রহসনের নির্বাচনী খেলা যেটা সরকার করছে, টাকা-পয়সা আদান প্রদান করে, আসন ভাগাভাগি করছে। এটা কোনো নির্বাচন হতে পারে না। বিশ্বের যে দেশ গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না সে দেশও বাংলাদেশের মতো প্রকাশ্যে ভোট চুরি করে না।
গণতন্ত্রকে হত্যা করে সরকার আজ বিজয় দিবসকে পরাজয় দিবসে পরিণত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এ নেতা বলেন, ১৯৭১-এর বিজয় এনেছিল গণতন্ত্র। সেই গণতন্ত্রকে আজকে হত্যা করে আওয়ামী লীগ সরকার বিজয় দিবসকে পরাজয় দিবসে পরিণত করেছে। আজকের সত্যিটাই জনগণের সামনে তুলে ধরছি আমরা। সঠিক পথে থেকে তারাই নির্ধারণ করেছে কার কাছে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার দেবে। সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে দেখুন, খেলায় কারা জেতে।
তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে ২২টি পরিবার পুরো পাকিস্তানে লুটপাটের রাজত্ব তৈরি করেছিল। আমরা চেয়েছিলাম একটি স্বাধীন দেশ, যেখানে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি হবে। আওয়ামী লীগ সরকার আজ ২২০টির অধিক পরিবারকে দিয়ে দেশের সব সম্পদ লুট করে নিয়েছে। এভাবেই বর্তমান সরকার বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে পরাজয় দিবসে পরিণত করেছে।
এর আগে সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়াপল্টনে জড়ো হতে থাকেন নেতা-কর্মীরা। র্যালি ঘিরে নয়াপল্টনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য। দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ নয়াপল্টনের বিভিন্ন অলি-গলিতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে।
ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যানার ফেস্টুনের সঙ্গে জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে র্যালিতে যোগ দিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। বিভিন্ন স্লোগানে মুখর করছেন রাজপথ।
গত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার দেড় মাস পর নয়াপল্টনে এটিই বিএনপির প্রথম জমায়েত। দীর্ঘদিন পরে কর্মসূচি ঘিরে নয়াপল্টনে নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ দেখা গেছে।
