সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

প্রথম ভোটের উচ্ছ্বাস

অনুষ্ঠিত হলো দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবার নির্বাচনে নতুন ভোটার হয়েছেন ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার। নানা আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ভোটের মাঠে উপস্থিত হয়েছিলেন নবীন ভোটাররা। ইত্তেফাক প্রজন্মকে নিজেদের প্রথমবার ভোট দেওয়ার অনুভূতি ও চাওয়া-পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন তরুণ। গ্রন্থনা করেছেন সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার, শাকিরুল আলম শাকিলতামীম হাসান

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫০

জান্নাতুল ফেরদৌস
সন্ত্রাসমুক্ত সুষম রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে উঠুক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অংশ নিতে ঢাকা থেকে ব্রাক্ষণবাড়িয়া এসেছিলাম। চলমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেনি। সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আমার গণতান্ত্রিক অধিকারের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পেরে আমি আনন্দিত। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি দেশের অবকাঠামো অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তবে আমার প্রত্যাশা থাকবে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের দিকেও আগামীর সরকার গুরুত্বারোপ করবে। আগামীর বাংলাদেশে যেন প্রযুক্তি নির্ভর ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার ঘটে। আমি চাইবো অসুস্থ রাজনৈতিক পন্থা বদলে দেশে মাদক-সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত রাজনৈতিকচর্চা গড়ে উঠুক। সকল রাজনৈতিক দলগুলো যেন মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যবৃদ্ধি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, শোষণমুক্ত একটি সুন্দর দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে একযোগে কাজ করে। দেশের মেডিকেল, প্রকৌশল পেশার মানুষজন ও মেধাবী তরুণরা দেশে থাকতে নারাজ। কারণ স্বল্প মজুরি, চাকরির সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে তারতম্য তাদের দেশ ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে। আগামীর সরকার এই দিকগুলোতে সজাগ দৃষ্টি দিলে দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।


মোস্তফা কামাল
নতুন প্রজন্মের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে

এবছর প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলাম। দেশের নাগরিক হিসেবে, শান্তিপূর্ণভাবে জীবনের প্রথম ভোটে অংশ নিতে পেরেছি। ভোট উত্সব নিয়ে সব নাগরিকদের মাঝে আলাদা একটা উদ্দীপনা তৈরি হয়। আমার মধ্যেও সেই উদ্দীপনা কাজ করছে। জীবনের প্রথম সবকিছুতেই এক অজানা শিহরণ জাগে। প্রথমবার ভোট দিতে গিয়েও আমার তেমন অনুভব হয়েছে। কিন্তু সব ফর্মালিটি পালন করে নিজের ভোট নিজেই দিতে পেরে বেশ আনন্দিত বোধ করছি। নবীন ভোটার হিসাবে আমার প্রত্যাশা থাকবে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সরকার নতুন প্রজন্মের চাওয়া-পাওয়ার দিকে দৃষ্টি  দেবে। নতুন প্রজন্ম আগামী দিনের ভবিষ্যত্, তাদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে হবে।
মোস্তফা কামাল, শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।


মো. মাহমুদুর হাসান
চাই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ

স্বাভাবিক পরিবেশে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ছাড়াই জীবনে প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়ে এসেছি। প্রথম ভোট নিজের পছন্দের প্রার্থীকে দিতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত! জীবনের প্রথম সবকিছুতে মনের মধ্যে অজানা ভয় কাজ করে। ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের পর আমারও ঠিক তেমন অনুভব হয়েছে। একজন নবীন ভোটার হিসাবে চাওয়া একটাই-আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক; যেখানে মৌলিক অধিকারগুলো মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে যাবে। স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক কোন্দল, সাম্প্রদায়িকতা উপেক্ষা করে জনপ্রতিনিধিরা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করবে এমনটি প্রত্যাশা রইল। 
মো. মাহমুদুর হাসান, শিক্ষার্থী, যশোর সরকারি সিটি কলেজ।


নীলিমা রহমান জেসি
শিল্প, সাহিত্য, সংষ্কৃতির প্রসার ঘটাতে হবে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি এবার প্রথম ভোটার। নির্বাচনের আগে প্রথমদিকে বেশ ভয় হচ্ছিল নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসতে পারব কিনা। কিন্তু কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই বাসার সবাই মিলে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে এসেছি। নবীন ভোটাররা দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা রাজনৈতিক সচেতন। তাদের এই সচেতনতা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রত্যাশা রাখি আগামীর সরকার দৃশ্যমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের শিল্প-সাহিত্য-সংষ্কৃতির দিকে নজর দেবে এবং শিল্প-সংষ্কৃতির বোদ্ধা মানুষদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন করবে। কেননা শৈল্পিকতা ছাড়া কোনো জাতির মনন ও বোধ গড়ে উঠতে পারে না। এজন্য এখাতে যথাযথ গুরুত্ব ও বরাদ্দ দেওয়ার দিকে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
নীলিমা রহমান জেসি, শিক্ষার্থী, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।


শ্রাবন্তী ভৌমিক
অনেক আগ্রহ আর কৌতূহল ছিল

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৫২ হাজার নতুন ভোটার। তাদের মধ্যে আমিও একজন। সকাল সকাল ভোট দিতে যাওয়াতে আমি ভিড়ের মুখোমুখি হইনি। সবকিছু ছিল সুশৃঙ্খল। শান্তিপূর্ণ অবস্থা, নিরিবিলি পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পেরেছি। শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং নিরাপদে নির্বাচন কার্য সম্পাদন হচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পেরে খুবই আনন্দিত ও গর্বিত বোধ করছি। পদ্মা সেতু, কর্ণফুলী টানেল বা মেট্রোরেলের সুবিধা; দেশের অবকাঠামোর এই পাল্টে যাওয়াটা আমাদের তরুণ প্রজন্মের চোখের সামনে। দেশের নতুন প্রজন্মের একজন ভোটার হিসেবে, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি দেখতে চাই। আগামীর বাংলাদেশ আরো উন্নত ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে যাক-এমনটাই প্রত্যাশা।
শ্রাবন্তী ভৌমিক, শিক্ষার্থী, গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সাইন্স।


সৈকত ভৌমিক
প্রথম ভোটের  অনুভূতি অসাধারণ

শনিবার রাতে বিছানায় যাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরও ঘুম আসেনি, কারণ রবিবার জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে যাবো। কাকে ভোট দিবো, রাতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। উত্তেজনায় ঘুম আসছিল না! যখন ঘুম থেকে উঠি, ততক্ষণে সাড়ে ৯টা বেজে গেছে। না খেয়ে শার্ট প্যান্ট পরেই দিলাম দৌড়। ভোটকেন্দ্রে থাকা এক পরিচিত বন্ধুর কাছ থেকে সিরিয়াল নম্বর ও বুথ নম্বর জেনে নিলাম। কেন্দ্রে গিয়ে দেখি লাইন রাস্তা পর্যন্ত। দেড় ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বুথের ভেতরে ঢুকতে পারলাম। ভেতরে থাকা একজন লোক আমাকে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া বুঝিয়ে দিলেন।  অবশেষে আমি সিল দিলাম ব্যালটে, যার মাধ্যমে দেওয়া হলো আমার জীবনের প্রথম ভোট। সত্যি বলতে, এই অনুভূতি ছিল অসাধারণ। আরেকটা মজার ব্যাপার ছিল, আমার ভোট কেন্দ্র ছিলো আমার ছোটবেলার স্কুলে। ৮৩ নং দক্ষিণ লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বরুড়া উপজেলা, কুমিল্লা। সত্যিই এই অভিজ্ঞতা ভোলার নয়!
সৈকত ভৌমিক, শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।


সাদিয়া জাহান রথি
নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ুক

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রথম ভোটার হয়েছি। নির্ধারিত ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখি উত্সবমুখর পরিবেশ। প্রথম ভোট দিতে গিয়ে কিছু বিষয়ে বেগ পেতে হলেও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ দারুণ সহযোগিতামূলক আচরণ করেছেন। এরপর খুব সহজে সম্পন্ন হয় পুরো প্রক্রিয়া। একজন তরুণ ভোটার হিসাবে আমার প্রত্যাশা ও চাওয়া-পাওয়া অনেক। নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ও পরিবেশদূষণ রোধে সরকারের ভূমিকা প্রত্যাশা করি। পাশাপাশি তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের জাগ্রত করতে পারলে দেশের উন্নয়নের যাত্রা আরো ত্বরান্বিত হবে।
সাদিয়া জাহান রথি, বোর্ড পরিচালক, ইকো-নেটওয়ার্ক গ্লোবাল।

ইত্তেফাক/এসটিএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন