মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ক্ষতবিক্ষত ডাহুক নদ, হারিয়ে যাচ্ছে চিরচেনা রূপ

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৩০

ড্রেজারের পর ট্রাক্টর দিয়ে তেঁতুলিয়ার ডাহুক নদ থেকে নির্বিচারে পাথর তোলা হচ্ছে। এতে হারাতে বসেছে নদটির চিরচেনা রূপ। বছর কয়েক আগে ড্রেজার মেশিনে পাথর তোলায় নদটি ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে। আর এখন ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের সময় জানা যায়, শালবাহান ইউনিয়নের লোহাকাচি-বালাবাড়ী এলাকায় ডাহুক নদ থেকে ট্রাক্টর দিয়ে তোলা হচ্ছে পাথর। একটি ট্রাক্টরে পাথর তুলতে ৮-১০ জন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। একই ভাবে মাঝিপাড়া, কালিতলা, লোহাকাচী, বালাবাড়ী, বুড়াবুড়ির কাটাপাড়াসহ বেশ কিছু জায়গায় ট্রাক্টর দিয়ে পাথর তোলার খবর পাওয়া যায়। জানা যায়, ট্রাক্টরের ইঞ্জিনের সাহায্যে ডাহুক নদের গভীর থেকে তোলা হচ্ছে হাজার হাজার সিএফটি পাথর। নদের বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে ৮০ থেকে ১০০টি পাথর তোলার সাইট। এসব সাইট নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা।

স্থানীয়রা জানান, চাষাবাদে ডাহুক নদের রয়েছে ব্যাপক অবদান। বর্ষাকালে পলিমিশ্রিত পানি ছড়িয়ে দেয় এই নদ। শুষ্ক মৌসুমে ডাহুকের পানি দিয়ে চাষাবাদের কাজ চলে। তাছাড়া এ নদে রয়েছে নানা প্রজাতির দেশি মাছ। সারা বছর ডাহুক থেকে মাছ আহরণ করেন দুই ইউনিয়নের শতাধিক জেলে। এলাকার হাজার হাজার মানুষের আমিষের চাহিদা মেটায় এই মাছ। ক্রমাগত পাথর উত্তোলনের কারণে নদ হারাচ্ছে গতিপথ, হারাচ্ছে নিজের চিরচেনা রূপ। বলা চলে, অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে এখন ডাহুক।

কারা কারা এসব সাইট চালাচ্ছেন এমন প্রশ্ন করলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শ্রমিক বলেন, ‘আমরা শুধু পাথর তোলার কাজ করি। এসব সাইট চালানোর জন্য মহাজন রয়েছেন। মহাজনদের আবার সিন্ডিকেট রয়েছে। এসব সিন্ডিকেট সব কিছু ম্যানেজ করে সাইট চালায়।’ পাথরশ্রমিকরা আরো বলছেন, ডাহুকে শত শত শ্রমিক পাথর উত্তোলন করে নিজেদের সংসার চালান। অন্যদিকে দেশের রাস্তাঘাট, ভবন নির্মাণে কাজে লাগছে এই পাথর। তারা স্বীকার করেন, অপরিকল্পিতভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে ডাহুকের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তবে সাইট মালিকরা যেভাবে আমাদের পাথর তুলতে বলেন, আমরা সেভাবেই তুলি।’ পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা  থেকে  জানা যায়, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডাহুক নদের মহাল ইজারা বন্ধ। অথচ সরকারি সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে শ্রমিক নামিয়ে পাথর উত্তোলন করেই যাচ্ছে। শালবাহান ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের সথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমার কিছু ট্রাক্টর আছে, তা দিয়ে পাথর লোড-আনলোড হয় সত্য। তবে এ অঞ্চলের শত শত শ্রমিক সাধারণভাবে পাথর তুলে জীবিকা নির্বাহ করছে। এ পাথরের উপরেই তাদের জীবন জীবিকা।’

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি সুজয় কুমার রায় বলেন, ‘আমি এ থানায় কিছু দিন হলো যোগদান করেছি। কোথায় পাথর উত্তোলন হচ্ছে, সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে ট্রাক্টর দিয়ে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে রাব্বি বলেন, ‘কোনোভাবেই ডাহুক নদে  ট্রাক্টর দিয়ে যাতে কেউ পাথর তুলতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন তত্পর রয়েছে। এর আগেও ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এটি অব্যাহত রয়েছে।’

ইত্তেফাক/এসটিএম