বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কাজে আসছে না ২৭ কোটি টাকার হাসপাতাল

সাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০০

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামোসহ হাসপাতাল সম্পন্ন করা হলেও তিন বছরেও পূর্ণাঙ্গ চালু হয়নি। মাত্র বহির্বিভাগে দুই জন চিকিৎসক নিয়মিত এই উপজেলার আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই হাসপাতালটিতে ২৮ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এর মধ্যে কনসালট্যান্ট, মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি, শিশু, কার্ডিওলজি, এনেসথেসিওলজি, চক্ষু ও চর্মরোগসহ ১০ জন বিশেষজ্ঞের পদ রয়েছে। এছাড়া ১৭ জন মেডিক্যাল অফিসার, ৩১ জন নার্স, টেকনোলজিস্টসহ ৭৩ জন তৃতীয় শ্রেণি এবং ২৮ জন চতুর্থ শ্রেণির পদ সেখানে সৃষ্টি করা হয়েছে। চালুর তিন বছর পরও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয় থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ফলে এই উপজেলার দুই লক্ষাধিক মানুষ নিরাপদ ডেলিভারি, সিজার, অপারেশনসহ সুচিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে আশপাশে গড়ে ওঠা ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন অনেকে। যে পরীক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজন নেই, সেটাও করিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগও রোগীরা করছেন।

এদিকে জনবল না থাকায় হাসপাতাল ভবনে রোগী নয়, সাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। এই চিত্র দেখে বোঝা যায়, মফস্বলে চিকিৎসাসেবার করুণ চিত্র। এ কারণে সাধারণ চিকিৎসার জন্য জেলা-উপজেলার মানুষ ঢাকায় ভিড় করছেন। যে চিকিৎসা উপজেলায় করা সম্ভব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাই অন্যতম কারণ। তারা ঢাকার বাইরে থেকে জনবল নিয়োগসহ বিভিন্ন প্রস্তাব আসলেও গুরুত্ব দেন না। এমন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, প্রতি ফাইলের সঙ্গে উৎকোচের প্যাকেট না দিলে ফাইল নড়ে না। অথচ এই কাজটি দ্রুত করলে ঐ এলাকার দুই লক্ষাধিক মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হতো না। নলডাঙ্গা উপজেলার মতো সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবার করুণ অবস্থা বিরাজ করছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার সোবহান আলী ইত্তেফাককে বলেন, জনবল না থাকায় ৫০ শয্যার হাসপাতালটির সম্পূর্ণ কার্যক্রম চালু করা হয়নি। দুই চিকিৎসক দিয়ে কষ্টে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। এই দুই চিকিৎসক পালাক্রমে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে এসে উক্ত হাসপাতালে বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ইত্তেফাককে বলেন, কার্যক্রম চালু না থাকায় হাসপাতালটি এখন ধুলো আর সাপের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। জনবল নিয়োগসহ পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা চালুর নিবেদন নিয়ে তিনি নিজেও চেষ্টা করেছেন। তবে ফল আসেনি। হাসপাতালটির কার্যক্রম চালুর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। 

নাটোর সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ভবন অবকাঠামো নির্মাণ হলেও নলডাঙ্গা উপজেলায় ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিসেবে জনবলের অনুমোদন এখনো পায়নি। ফলে পুরোপুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। জনবল নিয়োগসহ হাসপাতালটি চালু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/এমএএম