সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪, ৯ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

এপেক্স বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি-সামিট অ্যান্ড শো অনুষ্ঠিত

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৮:৩১

বৈশ্বিক ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঐতিহ্য, উদ্ভাবন ও টেকসই নির্মাণকে উদ্বুদ্ধ করে দেশীয় ফ্যাশনকে এগিয়ে নিতে শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মত রাজধানীর আলোকি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয় এপেক্স বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি-সামিট এবং শো। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি। দেশ-বিদেশের ফ্যাশন উদ্যোক্তা, ভোক্তা এবং অনুরাগীদেরকে একত্রিত করতে প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি যাত্রা শুরু করেছে।

সংগঠনটির দূরবর্তী অভিলক্ষ্যের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হল একটি ফ্যাশন সামিট। দেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির গতিপথ নিয়ে দিক-নির্দেশনামূলক আলোচনার পরে আমন্ত্রিত দর্শকেরা উপভোগ করেন মনোমুগ্ধকর ফ্যাশন শো। 

বিকেল ৫টায় শুরু হয় এপেক্স বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি- সামিট ২০২৪-এর। শুরুতেই শুভেচ্ছা বক্তব্যের পরে ছিল তিনটি প্যানেল আলোচনা। যাতে উঠে আসে সাম্প্রতিক সময়ে ফ্যাশন শিল্পের নানামুখী চ্যালেঞ্জ, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ফ্যাশন মার্কেটিং-এর বিবর্তন এবং দেশের সম্ভাবনাময় বিউটি মার্কেটের হালচাল। 

আয়োজনের প্রথম প্যানেলে আলোচক হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি মডেল এবং ইনফ্লুয়েন্সার সোবিয়া আমিন, দেশীয় অভিজাত ব্র্যান্ড জুরহেম-এর ক্রিয়েটিভ হেড মেহ্‌রুজ মুনির, আর্কা ফ্যাশন স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা আসাদ সাত্তার এবং এপেক্সের হেড অফ প্রোডাক্ট সালমান এ. খান। বিশিষ্ট কলামিস্ট এবং ফ্যাশন লিখিয়ে শেখ সাইফুর রহমান ছিলেন আলোচনাটি সঞ্চালনার দায়িত্বে। প্যানেলে বক্তাদের আলোচনায় উঠে আসে ‘লিগ্যাসি’ ফ্যাশনের সাথে সাম্প্রতিক ফ্যাশনের ‘জেনারেশনাল গ্যাপ’ বিষয়টি। একই সাথে আলোচনা হয় সাম্প্রতিক সময়ের রিটেইল এবং বুটিক ব্র্যান্ডগুলো কীভাবে দেশীয় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে উদ্ভাবনী উপায়ে তুলে ধরতে পারেন- তা নিয়েও। 

পরবর্তী প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এপেক্সের মার্কেটিং ইন-চার্জ মো. রায়হান কবির, ডেকো-ইশো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল গ্রুপের হেড অফ কম্যুনিকেশনস তারিফ মোহাম্মদ খান এবং গো-দেশির কর্ণধার এবং ফ্যাশন ডিজাইনার সাবেরা আনোয়ার। এই প্যানেল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দিগন্তসঞ্চারী প্রভাবের ফলে রিটেইল এবং বুটিক ব্র্যান্ডগুলো বিপণনের ক্ষেত্রে কি কি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়- তা নিয়ে। একই সাথে নতুন ফ্যাশন উদ্যোক্তাদের বিপণনে সাফল্য লাভের উপায়গুলো কী কী হতে পারে- তা নিয়েও আলোচনা হয়। প্যানেলটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসির কো-ফাউন্ডার তৌহিদুর রশিদ। 

 

তৃতীয় ও সন্ধ্যার শেষ আলোচনাটিতে বক্তা হিসেবে ছিলেন সাজগোজের মার্কেটিং এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট বিভাগের প্রধান ফারহানা প্রীতি। তিনি আলোচনা করেন সাম্প্রতিক বিউটি মার্কেটে দেশীয় পন্যের উত্থান এবং নারীদের সৌন্দর্য ভাবনার নানা বিবর্তন নিয়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে ভোক্তাদের সাথে বিউটি ব্র্যান্ডগুলো কীভাবে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পৃক্ত হচ্ছে তাও উঠে আসে তার আলোচনায়। 

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে ছিল মনোজ্ঞ ফ্যাশন শো। ফ্যাশন শোতে এপেক্সের বিভিন্ন সাব-ব্র্যান্ড মুচি, নিনো রসি, ভেঞ্চুরিনি, ম্যাভেরিক-তাদের প্রি-ঈদ কালেকশন প্রদর্শন করেন। একই সাথে প্রদর্শিত হয় নারীদের পছন্দের সমসাময়িক পোশাক লাইন, যাটারিয়ার ঈদ কালেকশনও। সব ঋতুতে, যেকোন উপলক্ষ্য বা অনুষ্ঠানে পরার উপযোগী এপেক্সের জুতো। এই ফ্যাশন শো’র মাধ্যমে তা-ও তুলে ধরা হয়। পুরো ফ্যাশন শোয়ের প্রতিটি ব্র্যান্ডের পোশাকের সঙ্গেই মডেলরা এপেক্সের জুতো পরে র‍্যাম্পে হাঁটেন যা এই ফ্যাশন শো-এর জন্যে বিশেষভাবে নির্মিত হয়েছে।

এপেক্স ছাড়াও চমন চৌধুরী, সানায়া কুচোর, লুসো বেলা এবং আনযারার মতো ব্র্যান্ডের কালেকশন প্রদর্শিত হয় র‌্যাম্পে। আসিফ তাজউদ্দীন মার্চেন্ট এবং মুকেশ কুমার দুবে’র মতো স্বনামধন্য ভারতীয় ডিজাইনাররাও তাদের পোশাক প্রদর্শন করেন এ অনুষ্ঠঅনে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিন ছিলেন শো-স্টপার। 

এ আয়োজন সম্পর্কে বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসির ফাউন্ডার আশিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশি ফ্যাশনকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমাদের প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ডিজাইনারদের সাথে শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরি করা। সেই উদ্দেশ্যকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি কাজ করে যাবে।’ এপেক্স বাংলাদেশ ফ্যাশন লিগ্যাসি-সামিট এবং শো ২০২৪- ফ্যাশন শোটি পরিচালনাও করেন তিনি।

 

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন