বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১১ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

মৌসুমের প্রস্তুতিতে 'হুরেইন ফ্রেবিক সপ্তাহ'

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪:২২

২৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধন করা হয়েছে ‘হুরেইন ফ্রেব্রিক উইক-২০২৪’। বসন্ত ও গ্রীষ্মের উপযোগী সাড়ে চার হাজার ফেব্রিকের পোশাকের সমারোহে আয়োজনটি পেয়েছে ভিন্নমাত্রা। সাড়ে চার হাজার ফেব্রিকের মধ্যে হুরেইন উদ্ভাবিত নতুন ১৬৫ ধরণও ঠাঁই পেয়েছে। 

উদ্বোধনপর্ব শেষে যমুনা গ্রুপের পরিচালক সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম জানান, ‘প্রতিবছর হুরেইন এইচটিএফ দু’বার ফেব্রিক উইকের আয়োজন করে। এবার ২০২৫ সালের স্প্রিং (বসন্ত) ও সামার (গ্রীষ্ম) মৌসুমকে সামনে রেখে এই আয়োজন সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে বর্ষা ও শীতের আয়োজন নিয়ে আসবো আমরা। মৌসুম শুরুর আট মাস আগেই সেই মৌসুমে ব্যবহার উপযোগী নতুন রঙ ও ডিজাইনের হুরেইন উদ্ভাবিত ফেব্রিক সম্পর্কে ধারণা দিতে এর আয়োজন করা হয়। এভাবে বিদেশি ক্রেতা ও ডিজাইনারদের অর্ডার দিতে সুবিধা হয়। আর ক্রেতা ও ডিজাইনারদের কথা ভেবেই মূলত এই ফেব্রিক সপ্তাহ উদযাপন করা হয়’। 

পুরো আয়োজন গোছানোর ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ছোঁয়া দেখা গেছে। যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল ৭-এ হুরাইন ফেব্রিক উইক চলবে আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে পোশাক ও কাপড়ের প্রদর্শনী। ফেব্রিক প্রদর্শনীতে ক্রেতা ও আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন জোন রয়েছে। একদম শুরুতেই প্রদর্শনীর সারসংক্ষেপ দেখা যাবে। সারসংক্ষেপের পর পর্যায়ক্রমে থাকা জোনগুলো: সাসটেইনেবল জোন, ফ্লাক্স ফাইবার, কটন, পাইনআপেল ফাইবার হেম্প ফাইবার, ডেনিম কাটিং ফাইবার ডবি জোন, ব্লেন্ডেড বটম, স্ট্রেস বটম, শেপিং টেকনোলজিস, লিলেন ব্লেন্ডস, নিউ ব্লেন্ডস, ইয়ার্ন ডাইড বটমস, রিজিড টুইল, স্ট্রাকচারাল জোন, ওভার ডাই জোন (আরএফডি), ক্লিনিক্যাল ফ্যাশন, টেনসিল ব্লেন্ডস, স্ট্রেট টুইলস। এগুলো দেখতে আসছেন বিভিন্ন গার্মেন্টসের প্রধান, বিপণন কর্মকর্তা ও বায়িং হাউজ সংশ্লিষ্টরা। আয়োজনের সঙ্গে থাকা সংশ্লিষ্টরা জানান, হুরেইন ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা ব্র্যান্ড যেমন– সিঅ্যান্ডএ, জারা, আমেরিকান ঈগল, টম টেলর, এস অলিভার, লেভিস, বারশকাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে ফেব্রিক নিয়ে। 

হুরেইন বিশেষায়িত ফেব্রিক উৎপাদন করে। এ বিষয়ে সুমাইয়া রোজালিন ইসলাম তার উদ্বোধনী ভাষণে যোগ করেন, ‘বাংলাদেশের অন্যান্য টেক্সটাইল মিল এমন ফেব্রিক উৎপাদন করে না যা হুরেইন করে থাকে। আমাদের উৎপাদিত ফেব্রিকের ব্যাপারে বিদেশি ক্রেতা ও ডিজাইনারদের জানাতে চাই। সেজন্য ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি আমরা বিদেশি প্রদর্শনীতে ফেব্রিক প্রদর্শন করে থাকি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকায় ইতোমধ্যে আমরা ক্রেতাদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। এ বছরের শেষ নাগাদ সিনথেটিক ফেব্রিক যেমন পলিয়েস্টার, নাইলন, শিফন ও জর্জেট ফেব্রিক উৎপাদন শুরু করবো আমরা। সামনে আমাদের আরও অনেক অর্ডার আসবে। জানুয়ারিতে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার প্রণোদনা কমিয়ে দিয়েছে। এদিকে সরকার নজর দিলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। তাছাড়া এলসি সংক্রান্ত যেসব সমস্যা আছে সেগুলো খুব দ্রুতই সমাধান করতে পারলে সবার জন্যই সুবিধা হবে।’

হুরেইনের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, ‘দেশে এখন বিশ্বমানের ফেব্রিক উৎপাদন হয়। হুরেইনের ফেব্রিক গুণগত মানসম্পন্ন হওয়ায় আমেরিকা, শ্রীলঙ্কা, নিকারাগুয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতে সরাসরি রফতানি হচ্ছে। এছাড়া দেশের গার্মেন্টসগুলোর মাধ্যমে প্রচ্ছন্ন রফতানিও হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যে বাংলাদেশের এই সক্ষমতার কথা জানান দিতে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। যদিও সরকার প্রতিবছর রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) মাধ্যমে টেক্স ওয়ার্ল্ড প্যারিস প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়। তবে দেশে ক্রেতাদের সামনে যেন এ বিষয়ে স্পষ্ট ধারনা গড়ে ওঠে সেজন্য আরও বেশি আয়োজন জরুরি। যেসব দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর আছে, সেসব দেশে সরকার নিজ উদ্যোগে প্রদর্শনীর আয়োজন করতে পারে। সেসব প্রদর্শনীতে টেক্সটাইল মিলগুলো ফেব্রিক প্রদর্শন করলে বাংলাদেশ নিয়ে বিদেশি বায়ারদের চিন্তা বদলে যাবে।’

ইত্তেফাক/এআই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন