বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

স্যোশাল মিডিয়া আসক্তি

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩০

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে স্যোশাল মিডিয়া (ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ইউটিউব ইত্যাদি) ব্যবহার করতে না পারাটা সেকেলে ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আমাদের শিক্ষার্থীদের অবস্থান একটু বেশিই পরিলক্ষিত হয়। স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই এই প্লাটফর্মে রয়েছে। স্যোশাল মিডিয়া আমাদের জন্য অভিশাপ হওয়ার আগে আশীর্বাদ হিসেবে এসেছিল। কারণ অতীতে আমাদের যোগাযোগব্যবস্থায় অনেক সময় অপচয় হতো। প্রাচীনকালে মানুষ কবুতরের মাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদান করত। এরপর এলো ডাক যোগাযোগ। মোবাইল ফোন আবিষ্কার যোগাযোগব্যবস্থাকে এক লাফে ভিন্ন এক সারিতে নিয়ে এসেছিল। বর্তমানে স্যোশাল মিডিয়াগুলো এই যোগাযোগব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে প্রায় ৬০-৭০ ভাগ মানুষই এগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিয়ে সচেতন না। আমরা এগুলোতে আসক্ত হয়ে যাই। বিশেষ করে আমাদের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। আমাদের নিজেদের ব্যবহারের জন্যই স্যোশাল মিডিয়া আমাদের কাছে আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে রূপান্তরিত হয়েছে। এখন কোনো মানুষের আসলে ব্যক্তিগত জীবন বলতে কিছু নেই। আমরা প্রতিনিয়ত, প্রতিটি মুহূর্ত যাই করি না কেন, তা স্যোশাল মিডিয়াতে দিয়ে দেই। স্যোশাল মিডিয়ার সিকিউরিটি অনেক সময় আমাদের জীবন ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে বর্তমানে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) যুক্ত হয়ে এর মাত্রাকে চরম রূপ দিয়েছে। স্যোশাল মিডিয়ার আসক্তি আমাদের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে যেমন দূরে নিয়ে যাচ্ছে তেমনি তাদের সুষ্ঠু বিকাশে অনেক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে স্যোশাল মিডিয়ার কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা। যারা স্যোশাল মিডিয়াতে বিভিন্ন কন্টেন্ট নিয়ে কাজ করেন তাদের আমরা এক প্রকারের সামাজিক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে ধরে নিলে ব্যাপারটা ভুল হবে না। আর আমাদের শিক্ষার্থীদের সামান্য জ্ঞানটুকু নেই যে তারা নিজেরা বেছে নিতে পারবে কি ধরনের কন্টেন্ট তাদের ফলো করা উচিত আর কোনগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। তাই শিক্ষার্থীরা নিজেদের খেয়ালখুশি মতো স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্ত হওয়া নতুন শিক্ষা কারিকুলাম যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে না পারলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে আরো দূরে নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০-এর করোনার প্রভাব শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে ঠেলে নিয়ে অনলাইন প্লাটফর্মে যে আসক্তি জন্মিয়েছিল তার রেশ এখনো কাটেনি।

স্যোশাল মিডিয়ার ভালোটুকু আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তবে এটি নেওয়ার প্রবণতা আমাদের মধ্যে খুবই কম। কাজেই একটা নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অবকাশ দেওয়া উচিত এসব ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার থেকে। একটা সময় পর শিক্ষার্থীরা উপলব্ধি করে যে স্যোশাল মিডিয়াকে কীভাবে নিজের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে বানিয়ে নিতে হয়, কীভাবে ডিজিটাল ডিভাইসকে ব্যবহার করতে হয়। কাজেই সেই সময় পর্যন্ত তাদের একটু অবকাশ দেওয়া উচিত এবং তাদের দিকে সুনজর দেওয়া উচিত। তাই আমরা সবাই যেন আজকে থেকে প্রতিজ্ঞা করি ডিজিটাল ডিভাইস ও স্যোশাল মিডিয়াকে আমরা ব্যবহার করব, এগুলো যেন আমাদের ব্যবহার করতে না পারে।

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন