বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ক্যাম্পাস হোক মাদকমুক্ত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:৩০

অবৈধভাবে মাদক গ্রহণ এমনিতেই সামাজিক বিচ্যুতি ঘটায় কিন্তু তা যদি হয় অবাধ ও সমপূর্ণ জনসম্মুখে তাহলে তা অবশ্যই আমাদের জন্য শঙ্কার বিষয়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমাদের ঢাকার রাস্তায় ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজগুলোর দিকে তাকালেই এমন অপ্রীতিকর চিত্র সবার নজরে পড়ে। আমাদের বেশির ভাগ ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজ এখন মাদকসেবীদের দখলে।

ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করে, ঠিক ব্রিজের নিচ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া আমাদের নগরের বেশির ভাগ অধিবাসীরই অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করার ক্ষেত্রে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল ও অসচেতন জনগণকেই দোষারোপ করা হয়। কিন্তু মানুষের ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার না করার পেছনেও মাদকসেবীদের ভূমিকা রয়েছে। রাতের বেলা এসব ফুটওভারব্রিজ ব্যবহার করা পথচারী, বিশেষ করে মহিলা, শিশু বা কলেজপড়ুয়া ছাত্রীদের জন্য খুবই অনিরাপদ। রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনা এড়াতে শুধু ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করলেই চলবে না, পথচারীদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব।

আমরা চাই ফুটওভারব্রিজগুলো মাদক সেবনকারীদের দখল থেকে অচিরেই মুক্ত করা হোক। এই মাদকসেবীদের বিচরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যেও অনেক বেশি লক্ষ করা যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামপাসের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল থেকে দোয়েল চত্বর, চানখাঁরপুল বার্ন ইউনিট সংলগ্ন রাস্তা, ঢাকা মেডিক্যাল বহির্বিভাগ গেইট ও শহিদমিনার সংলগ্ন, সলিমুল্লাহ হল সংলগ্ন রাস্তার ফুটপাতে সবসময়ই কতিপয় ভিক্ষুককে বসে থাকতে দেখা যায়।

তাদেরকে যখন তখন প্রকাশ্যে গাঁজা, প্যাথেড্রিন ও সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহার করে নানা ধরনের মাদক সেবন করতে দেখা যায়। যেখানে সবসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পদচারণা থাকে সেখানে মাদক সেবন কখনোই কাম্য নয়। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটে এবং স্বাধীনভাবে চলাচল ব্যাহত হয়। সুতরাং এসব ফুটপাত থেকে মাদকসেবীদের উচ্ছেদ করে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল টিমের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সেইসঙ্গে নগরীর সকল ফুটপাত ও ফুটওভারব্রিজগুলো থেকে মাদক সেবনকারীদের হটিয়ে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এতে করে জনগণ ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহী হবে এবং সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটের মতো প্রাত্যহিক সমস্যা কিছুটা হলেও কমে আসবে।

 শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন