মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

কেশবপুর পৌর সভার ট্রাকচালককে মারধর, পরিচ্ছন্নকর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ২২:০৮

যশোরের কেশবপুর পৌর সভার ট্রাকচালক নাজমুল হোসেনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। 

রোববার (৭ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা কেশবপুর প্রেস ক্লাবের সামনে ময়লা ফেলার গাড়ি ও সরঞ্জাম নিয়ে ওই অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। ফলে শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা-আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে।

জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ট্রাকচালক নাজমুল হোসেন ও ডেকোরেটর মালিক পবিত্র সাহাকে ডেকে নিয়ে শহরের কোথাও মেয়রের তোরণ, ব্যানার-ফ্যাস্টুন থাকবে না বলে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় পবিত্র সাহা থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন পৌরসভার বাজিতপুর এলাকার দেলোয়ার হোসেন রকি (২৮) ও তেঘরি এলাকার এরশাদ মোড়ল (৩০)।

এদিকে রোববার দুপুরে পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম কেশবপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে পৌর পরিষদ ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৌর শহরের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তোরণ নির্মাণ করা হয়। এসব তোরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি ও মেয়র রফিকুল ইসলামের ছবি সম্বলিত প্যানা লাগানো হয়। শনিবার দুপুরে জেলা পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান ও রকির নেতৃত্বে ওই প্যানা নামিয়ে পদদলিত করা হয়। পরে তারা পৌর সভার ট্রাকচালক নাজমুল হোসেন ও ডেকোরেটর মালিক পবিত্র সাহাকে শহরের বকুলতলা এলাকায় ডেকে নিয়ে মারধর করে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পৌর সভার নির্বাহী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, প্যানেল মেয়র মনোয়ার হোসেন মিন্টু, কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, কামাল হোসেন খান, আব্দুল হালিম, খাদিজা খাতুনসহ পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ডেকোরেটর মালিক পবিত্র সাহা বলেন, আমাকে দোকান থেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে জেলা পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান ও রকি নামের এক যুবক মারধর করে। ঘটনা উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এর সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমস্ত ডেকোরেটরের কাজ বন্ধ রাখা হবে।

ট্রাকচালক নাজমুল হোসেন বলেন, শহরের কোথাও মেয়রের তোরণ, ব্যানার-ফ্যাস্টুন থাকবে না বলে ওরা আমাকে মারধর করে। আমি রোজা রেখেছি জানালেও তারা মারতে থাকে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা পরিষদের সদস্য টিপু সুলতান বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে সেটি সঠিক নয়। আমি কাউকে মারধর করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

কেশবপুর থানার ওসি জহিরুল আলম বলেন, ডেকরেটর মালিক পবিত্র সাহার অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা হয়েছে। দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/পিও