বিখ্যাত ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান ‘দ্য বোরিং কোম্পানি’ আয়োজন করে 'নট অ্যা বোরিং কম্পিটিশন' শীর্ষক ব্যতিক্রমী এক প্রতিযোগিতা। নিত্যনতুন চিন্তা ও প্রযুক্তির মিশেলে মাটির নিচে টানেল তৈরির অত্যাধুনিক যন্ত্র নির্মাণের উদ্দেশ্য থাকে এই প্রতিযোগিতার। এবার বাংলাদেশের তরুণদের দল ‘বোরড টানেলার্স’ এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্তপর্বে সেরা তিনে থাকার গৌরব অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রথম দল হিসেবে জিতেছে সম্মানসূচক 'রুকি' পদক। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলের ২০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে তৈরি হয়েছে দলতই, যাদের ৭ জন গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে।
মাস্কের ‘দ্য বোরিং’ কোম্পানির কাজ মূলত স্বয়ংক্রিয়ভাবে মাটি খনন করে সুড়ঙ্গ তৈরি করা। ইলন মাস্ক মনে করেন, একসময় পৃথিবীতে যাতায়াত ব্যবস্থা বদলে যাবে, তখন রাজত্ব করবে সুড়ঙ্গের নেটওয়ার্ক। আর তাই হাইপারলুপের মতো প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে তার প্রতিষ্ঠান। একইসঙ্গে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকেও প্রাধান্য দিয়ে এসব কাজে যুক্ত করা হচ্ছে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।
২০২১ সাল থেকে ‘নট অ্যা বোরিং কম্পিটিশন’ হয়ে আসছে। দুইটি ধাপে অনলাইন পর্ব পেরিয়ে ফাইনালে পৌঁছায় বিশ্বের সেরা দশ দল। প্রতি আসরে কমবেশি ৪০০ আবেদন পড়ে, যার মধ্যে ম্যাসাচুসেটস্, ভার্জিনিয়া টেকের মতো বিশ্বজোড়া প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরাও থাকেন। আট দিনের ফাইনাল রাউন্ডের প্রথম সাতদিন নিজেদের প্রকল্পের খুঁটিনাটি দেখাতে হয়। পাশাপাশি চলে নিরাপত্তাসংক্রান্ত পরীক্ষা। প্রতিযোগিতার শেষদিনে নিজেদের তৈরি যন্ত্র দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেখাতে হয়। এতে ৩০ মিটার লম্বা ও ৫০ সেন্টিমিটার চওড়া একটি সুড়ঙ্গ খনন করতে হয়। এত ক্ষুদ্র ব্যাসার্ধের সুড়ঙ্গ খননকারী যন্ত্র বানানোই যেখানে চ্যালেঞ্জিং বিষয়, সেখানে, সবথেকে কম সময়ে, সবচেয়ে কার্যকরী উপায়ে ও সুনিপুণ দক্ষতার সাথে সুড়ঙ্গ খনন করার উপযোগী যন্ত্র বানানো তো আরও দুরূহ! আবার তা বাজারের বিদ্যমান অন্যান্য যন্ত্রের চেয়েও দ্রুতগতির হওয়া বাধ্যতামূলক। এসব বাংলাদেশের তরুণরা অনেকখানি সফল হয়ে দেখিয়েছেন বলা চলে!
‘বোরড টানেলার্স’–এর তৈরি করা যন্ত্রটি দেশের জন্যও কাজে লাগবে বলে মনে করেন দলটির সদস্যরা। রাস্তা না খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করা- যেমন ওয়াসার পানির লাইনের সংস্কার বা অন্যান্য কেবল কানেকশনের প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হতে পারে। বাংলাদেশে রাস্তায় যেকোনো অভ্যন্তরীণ সমস্যা দেখা দিলে একেবারে ওপরের স্তর থেকে রাস্তা খুঁড়ে, তারপর ভেতরের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়। এতে প্রচুর যানজট ও ভোগান্তি পোহাতে হয়। ছোট ব্যাসার্ধের খননযন্ত্র বানানো গেলে রাস্তার ওপরের স্তর নষ্ট না করেই অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করা যাবে।
‘বোরড টানেলার্স’–এর সদস্যরা জানিয়েছেন, এশিয়ার প্রথম দল হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় তারা এতো ভালো অবস্থানে গেছেন। প্রথমবার অংশ নিয়েই নিজেদের দক্ষতা, মেধা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রাখায় দেওয়া হয়েছে 'রুকি' পুরস্কার। এছাড়া তাদের যন্ত্রটি নির্মাণে কারিগরি সহায়তা করেছে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)। গিগাবাইট ও সুপার স্টার গ্রুপও সহযোগিতা করেছে। দলের উপদেষ্টা ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক সালমান প্রমন। শিল্প উপদেষ্টা ছিলেন বিটাকের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুনুর রশীদ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. আশরাফুজ্জামান।

রাস্তা না খুঁড়ে ভেতরে ঢুকে সমস্যার সমাধান করবে এই প্রযুক্তি