নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ইচ্ছুক প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাইসহ ৩ জনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফুল হাবীবের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন লুৎফুল হাবীব। রোববার পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ মনোনয়নপত্র দাখিল করেননি। সোমবার সকালে অনলাইনে মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য দেলোয়ার নাটোর স্টেশন এলাকার একটি কম্পিউটারের দোকানে আসেন। এ সময় তার বড় ভাই ও কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক এবং কলম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুন্সি ব্যাংকে জামানতের টাকা জমা দেওয়ার জন্য বের হন। তারা কোড নম্বর জানার জন্য নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে এলে কালো মাইক্রোবাসে করে কয়েকজন যুবক তাদের পথরোধ করেন। এ সময় তাদের জোর করে ওই মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ায় দেলোয়ার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি জানান। এরপর দেলোয়ার হোসেনকে বেধড়ক মারপিট করে গাড়িতে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় অপরহণকারীরা। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে পরিবারের লোকজন প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর ভাই এমদাদুল হক জানান, অপহরণের পর আমার ভাইকে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে। তাকে উদ্ধারের পর নাটোর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।
এ বিষয়ে লুৎফুল হাবীবের মোবাইলে একাধিকার ফোন করলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
সিংড়া থানার কর্মকর্তা ওসি আবুল কালাম বলেন, ঘটনাটি নাটোর সদরের, সিংড়ার নয়। তারা সিংড়ার বাসিন্দা হলেও ঘটনাটি ঘটেছে সদরে ঘটেছে। আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার পরই কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে পুলিশ দুর্বৃত্তদের আটক করার জন্য ও অপহৃত দেলোয়ারকে উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করেছে।
