সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে একসঙ্গে কাজ করবে কোডার্সট্রাস্ট ও নিউইয়র্ক সিটি কলেজ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ১৭:৫৯

বৈশ্বিক ডিজিটাল-প্রকৌশল ভিত্তিক দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্ট নিউইয়র্কের ঐতিহ্যবাহী সিটি কলেজের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতার অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। এই সহযোগিতার আওতায় শিক্ষার্থীদেরকে চাকরির বাজারের প্রয়োজনীয় চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চাকরির জন্য প্রস্তত করে তুলবে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে শিক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের মাধ্যমে সিটি কলেজের সম্প্রসারন ঘটবে। এই উদ্যোগের ফলে ২০,০০০ এরও বেশি শিক্ষার্থী এবং সদ্য পাশ করা স্নাতকদের উপকারে আসবে।

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) এর মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। কোডার্সট্রাস্টের চেয়ারম্যানআজিজ আহমদ এবং সিটি কলেজের ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ বিভাগের  ডিন অধ্যাপক ড. জুয়ান কার্লোস মেরকাডো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (কিউনি) এর এশিয়ান আমেরিকান/এশিয়ান রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক ড. জয়েস ময়, বাংলাদেশ সরকারের সাবেক শিক্ষা সচিব এনআই খান, জাতিসংঘের একটি চুক্তিবদ্ধ সংগঠন ইউনিভার্সিটি ফর পিসের বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক মেলিসা ওয়াইড এবং কোডার্সট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল হক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সিটি কলেজ ও কোডার্সট্রাস্টকে অভিনন্দন জানিয়ে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার বলেন, এই অংশীদারিত্ব উভয় প্রতিষ্ঠানের মহতি লক্ষ্যসমূহকে আরও শক্তিশালী করবে ও তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করবে। তিনি বাংলাদেশ এবং বিশ্বব্যাপী, বেকার বা অর্ধবেকার যুব সমাজকে বিশেষ করে বেকার নারীদের দক্ষ কর্মীশক্তিতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে কোডার্সট্রাস্টের নিরলস ভূমিকা ও প্রয়াস সমুহের প্রশংসা করেন।

কিউনির ইন্টারডিসিপ্লিনারি স্টাডিজ বিভাগের ডিন ড. জুয়ান মেরকাডো কোডার্সট্রাস্টকে অবহেলিত, বেকার, অর্ধবেকার বা পিছিয়ে পড়া যুবক এবং নারীদের দক্ষতা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল চাকুরির বাজারে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা ও নিবেদিত থাকার জন্য প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, 'কোডার্সট্রাস্টের সাথে এই চুক্তি আমাদের, বিশেষ করে সিটি কলেজের  কন্টিনিউিং অ্যান্ড প্রফেশনাল স্টাডিজ বিভাগের জন্য অত্যন্ত  গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদেরকে আজকের চাকুরির বাজারের জন্য ক্রমবর্ধমান  চাহিদাধীন ক্ষেত্রগুলিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেবে, বিশেষ করে বিশ্বব্যাপী চাকুরীর বাজারে প্রবেশ করার ক্ষেত্রে তাদেরকে সহায়তা করবে।' 

কোডার্সট্রাস্টের চেয়ারম্যান আজিজ আহমদ বলেন, সিটি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে এই অংশীদারিত্ব তার জন্য ব্যক্তিগতভাবে বিশেষ অর্থ বহন করে এবং তিনি সিটি কলেজের কর্তৃপক্ষের কাছে এই সুযোগ পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞ। এই সুযোগ তাকে বেকার, অর্ধবেকার বা যুব সমাজকে দক্ষ কর্মী হিসেবে রুপান্তর করার অংশীদারিত্ব মুলক দায়িত্ব পালন করার পথ তৈরি করে দিয়েছে। এর ফলে তিনি নিউইয়র্ক ও বাংলাদেশ যৌথ বাসিন্দা হিসেবে উভয় স্থানের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।

জাতিসংঘ শান্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা  অধ্যাপক মেলিসা ওয়াইল্ড বলেন, চলমান বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে এমন অত্যাবশ্যকীয় উপাদান যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগড্যাটা বা বড় উপাত্ত ইত্যাদি যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিবেচনায় নিয়ে দক্ষতা উন্নয়নের কর্মে  লাগানো এখন সময়ের দাবি এবং বহুধা বিভক্ত বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এগুলো অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও অত্যাবশ্যক।

বিশেষ অতিথি ড. জয়েসময় তার বক্তব্যে বলেন, আজিজ আহমদ একজন স্বপ্নদ্রষ্টা ও একজন নীরব সৃজনশীল ব্যক্তিত্ব। সেই সাথে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে জনকল্যাণ মূলক কর্মে নিবেদিত প্রাণ আজিজ আহমদ যেই কাজ শুরু করেছেন সেখানেই তিনি সার্থকতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন তার আন্তরিকতা, একাগ্রতা ও নিষ্ঠার জন্য। কিউনি ও কোডার্সট্রাস্টের মাঝে সদ্য সৃষ্ট অংশিদারীত্বের বিষয়ে ড. জয়েসময় বলেন এই অংশিদারীত্বের মুল প্রতিপাদ্য বিষয় হল যুবসমাজের উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ যেখানে সমুহ বিশাল সম্ভাবনা লুকায়িত রয়েছে যার ওপর নির্ভর করে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি। তিনি আরও বলেন, মানুষের মনে তার জীবন ও জিবীকার মান উন্নয়নের আশার বাণী জাগৃত করে সৃজনশীল  কর্ম প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে দিলে মানুষ অসাধ্য সাধন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা সুযোগ এবং সম্পদ ভাগাভাগি করে নিয়ে যৌথ সম্পর্ক তৈরির মাধমে পৃথিবীকে আমাদের মতো করে চলার কথা আরও বেশি করে চিন্তা করতে পারি এবং এই সহযোগিতার আওতায়, প্রাথমিকভাবে, আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য কারিগরি এবং ব্যবসায়িক দক্ষতার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা, সাইবার সিকিউরিটি, ক্লাউড এবং ব্লকচেইন এর মতো প্রায় ২৫ এর বেশী দক্ষতা অর্জনের ও শিক্ষা অর্জনের নতুন পথ খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

ইত্তেফাক/এআই