মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য 

গোপনে নিয়োগের চেষ্টা আওয়ামী লীগ নেতার, তোপের মুখে বন্ধ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ২৩:০১

আদালতের নিষেধাজ্ঞা, জোষ্ঠ্যতা লঙ্ঘন এবং চাকরি প্রার্থীদের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গুরুদাসপুরের খলিফাপাড়া রেজাউল করিম দাখিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধে।  

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সুপার পদসহ অন্তত ছয়টি পদে গোপনে নিয়োগ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে কমিটি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বোর্ড গঠনসহ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল গোপনীয়তা রক্ষা করেই। সবশেষ ১৯ এপ্রিল শুক্রবার পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ পরীক্ষা নিতে গিয়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়েন নিয়োগ বোর্ডের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগদানের চেষ্টা করেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন।

মাদ্রাসা সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালের মাদ্রাসা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী ৬টি পদে নিয়োগদানের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি। ওই বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য পদে সুপারিনটেনডেন্ট, সহকারী সুপার, এবতেদায়ি প্রধান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং সৃষ্ট পদে নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদে আবেদন আহবান করা হয়। এতে মোট ৪৯ জন প্রার্থী আবেদন করেন। অথচ অধ্যক্ষ পদ নিয়ে গুরুদাসপুরের সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন ওই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী তাছির উদ্দিন। ওই মামলায় ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর আদালত সুপার পদে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন।

সূত্র বলছে, এসব পদে নিয়োগ দিতে ডিজি প্রতিনিধি হিসেবে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) পরিচালক মো. জিয়াউল আহসান, গুরুদাসপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আখতার, সদস্য সচিব হিসেবে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুর রউফ, সভাপতি হিসেবে ডা. মোহাম্মদ আলী এবং অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে নিয়োগ বোর্ডের জন্য মনোনীত করা হয়।  
 
মামলার বাদী তাছির উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, সুপার পদে নিয়োগদানের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে খুব গোপনে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনা কমিটির বিরুদ্ধেও আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলাতেও কমিটির বিরুদ্ধে আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন গত বৃহস্পতিবার। 

এদিকে এসব পদে মনোনীত প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে বেশিরভাগ আবেদনকারীকে পরীক্ষায় ডাকা হয়নি। আবেদনকারীদের মধ্যে মহাসীন আলী, উজ্জল ফকির, আব্দুল মজিদ, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল রানাসহ অন্তত ২০জন অভিযোগ করেন, তারা চাকরির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই আবেদন করেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) পরিচালক মো. জিয়াউল আহসান ইত্তেফাককে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি তিনি হাতে পাননি। তবে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন এবং আবেদনকারীদের নিয়োগ পরীক্ষার প্রবেশপত্র না দেওয়াসহ বিভিন্ন ত্রুটির কারণে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছেন।

ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুর রউফ ইত্তেফাককে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা তিনি জানতেন। তবে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে সভাপতির নির্দেশেই নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা।

গুরুদাসপুরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম আখতার ইত্তেফাককে বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে পাশের উপজেলায় পরীক্ষার ভেন্যু নির্বাচন করা হয়েছিল। সেখানে তারা নিয়োগ দিতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন।

পরিচালনা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি তিনি বা প্রতিষ্ঠান পাননি। বরং স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বানচাল করেছেন।

ইত্তেফাক/পিও