মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

দাবদাহে চা-গাছে লাল মাকড়সার আক্রমণ

উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা

আপডেট : ০৪ মে ২০২৪, ০৪:১৪

গত কয়েক দিনের প্রচণ্ড দাবদাহে চা-গাছে লাল মাকড়সার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলার অধিকাংশ চা-বাগানের সেকশনসমূহে এ চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। বাগানের চা-গাছসমূহ লালচে রং ধারণ করছে। মাকড়সা ও মড়কের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। তবে চা-বাগান ম্যানেজমেন্ট এই রোগের প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে ওঠা গেছে বলে দাবি করেছেন।

সরেজমিন কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরসহ কয়েকটি চা-বাগান ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলেও প্রচণ্ড দাবদাহে রেড স্পাইডারের (লাল রোগ) আক্রমণ শুরু হয়েছে। কঁচি চা-গাছ শুকিয়ে মাকড়সা ও মশার উপদ্রবে পাতা লালচে হয়ে মরে যেতে শুরু করেছে। উপজেলার ২২টি চা-বাগানের অধিকাংশ বাগানেই এ রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। কিছু কিছু স্থানে সেচের সুবিধা থাকলেও চা-বাগানের পার্শ্ববর্তী নদী, ছড়া ও জলাশয়সমূহে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চায়ের টিলায় যথাযথভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব হয়নি। চা-বাগানের টিলাভূমিতেও ছায়াবৃক্ষের পরিমাণ মারাত্মক হারে কমেছে। ছায়াবৃক্ষ প্রচণ্ড দাবদাহ, অতিবৃষ্টি রোগবালাই থেকে চা-গাছকে রক্ষা করে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) ও ডানকান ব্রাদার্সের চা-বাগানের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জন কর্মকর্তা জানান, সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে চা-বাগানের প্ল্যান্টেশন এলাকার চা-গাছ কাটিং করা (আগাছা ছেটে দেওয়া) হয়। আর এসব কাজের পর নিয়মিত সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। তবে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় সেচের অভাবে এবং প্রচণ্ড হিটে বিভিন্ন চা-বাগানে লাল রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। এটি চায়ের উত্পাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশ টি বোর্ড (বিটিবি)-এর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়ায় দীর্ঘ দুই-তিন মাস যাবত্ চা-বাগানের বিভিন্ন টিলায় পাহাড়ি ছড়া, লেক ও গভীর নলকূপ থেকে সেচ দেওয়া হয়। বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির স্তর নিচে নামতে শুরু করে এবং বিভিন্ন নদী, ছড়া শুকিয়ে যাওয়ায় পানির অভাবে চা-গাছে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। চা-শিল্পে কর্মরত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে চা-শিল্পেও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। গাছ চোরদের কারণে চা-বাগানের ছায়াদানকারী মূল্যবান গাছগাছালি উজাড় হচ্ছে।

শমশেরনগর কানিহাটি চা-বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, চা-বাগানের বিভিন্ন টিলাভূমিতে এখন দেখা যায় বৃক্ষশূন্য। একদিকে চা-বাগানে গাছগাছালি কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে অতিরিক্ত গরমে চা-গাছে লাল রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে উত্পাদনও কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শমশেরনগর চা-বাগান ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন ও সহকারী ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, এটি চা-গাছে লাল রোগের আক্রমণ। তবে এখন নিয়ন্ত্রণের দিকে চলে আসছে। এই মৌসুমে সাধারণত চা-গাছে লাল রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে।

ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ডিজিএম মো. শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে চা-গাছে লাল মাকড়সার আক্রমণে গাছের পাতা লালচে হয়ে গেছে। এত দিন সেচ দিয়ে ও বালাইনাশক ব্যবহার করে চা-গাছ ও চায়ের চারা কিছুটা রক্ষার চেষ্টা করলেও তা রোধ করা যায়নি। এ অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম