মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
The Daily Ittefaq

তাড়াশে সড়ক মেরামতে অনিয়ম ও ভোগান্তির অভিযোগ 

আপডেট : ০৭ মে ২০২৪, ১৭:৫১

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও নাটোরের গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের মাঝখানে উপকরণ সামগ্রী ফেলে রেখে মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দুই উপজেলার মানুষের। এদিকে সড়কের কাজ দায়সারাভাবে করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। 

জানা গেছে, চুক্তি মোতাবেক সড়কের কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের মে মাসে। চট্টগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের চুক্তি হয়। পরে জেলা নওগাঁর ইথিলা এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ কাজটি কিনে নেয়। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী রাসেল আহমেদ কাজটি নাটরের বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম গোকুলের কাছে বেচে দেন।

কুন্দইল গ্রামের অটোচালক রুবেল হোসেন, আব্দুল মান্নান, সিলিম হোসেন, সোহাগ হাসান, ব্যাটারিচালিত অটোচালক আব্দুল লতিব ও উম্মুর আলী বলেন, কুন্দইল সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পাথর, বালু ও সিমেন্ট সড়কের মাঝে ফেলে রাখা হয়েছে। মেরামত কাজের মেশিন সড়কে রেখে উপকরণ সামগ্রী মেশানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে এ সড়কে যাতায়াতের সময় কিছু গাড়ি উল্টে গেছে। 

ভুক্তভোগীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কের মাঝ থেকে উপকরণ সামগ্রী সরিয়ে নিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
 
সরেজমিনে দেখা গেছে, তাড়াশ-গুরুদাসপুর মৈত্রী সড়কের কুন্দইল সেতুর ঢালুতে সড়কের মাঝখানে পাথর, বালু, সিমেন্ট, মিক্সার মেশিন রেখে দেওয়া হয়েছে। কামারশন গ্রামের পাশের সড়কের মাঝে পাথর ঢেলে রাখা হয়েছে। সড়কের এসব জায়গা দিয়ে চলাচলের সময় অধিকাংশ যানবাহন পাথরে আটকে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে যাত্রী সাধারণ গাড়ি থেকে নেমে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি পার করে দিচ্ছেন। তা ছাড়া কুন্দইল সেতুর পূর্ব পাশের ঢালুতে কালো পাথরের সঙ্গে সাদা পাথর মিশিয়ে মেরামত কাজ করা হচ্ছে।


 
অপরদিকে স্থানীয়রা কুন্দইল সড়ক মেরামত কাজে অনিয়মের অভিযোগ করে বলেন, মেরামত কাজে কালো পাথরের সঙ্গে সাদা পাথর মেশানো হচ্ছে। পাথর ও সিমেন্ট কম রেখে পরিমাণে বালি বেশি মেশানো হচ্ছে। ঢালাই কাজের শেষে ঢালায়ের উপর পানির ব্যবহার কম রয়েছে। বিশেষ করে ঢালাই শুকাতেই সড়কের কোনো কোনো স্থানে চিকন ফাটল দেখা দিচ্ছে। তাদের ধারণা এভাবে সড়ক মেরামত করা হলে বেশি দিন টেকসই হবে না। এ ছাড়া ধীরগতিতে মেরামত কাজ করা হচ্ছে। চলতি মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা। অথচ এখনো পর্যন্ত ৫ ভাগের একভাগ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।

ঠিকাদার ও বাগাতিপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. অহিদুল ইসলাম গকুল সড়ক মেরামত কাজে ধীরগতির কথা স্বীকার করে বলেন, তিন গাড়ি সাদা পাথর মেরামত কাজের শুরুর দিকে দেওয়া হয়েছে। তারপর থেকে কালো পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। পাথর, বালি ও সিমেন্ট ইস্টিমেট অনুযায়ী মেশানো হচ্ছে। পানির ব্যবহারে কিছু কম রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।


  
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজুলল হক ভোগান্তির কথা স্বীকার করে দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, গুরুদাসপুর-তাড়াশ মৈত্রী সড়কের মেরামত কাজ নির্ধারিত সময়ে শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রভিষণে সড়কের বাইরে নির্মাণসামগ্রী রেখে কাজ করার ব্যয়ভার ধরা নাই। 

ইত্তেফাক/পিও