আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে নাটোরের এক পরিবহন মালিকের ভাতিজার পায়ে গুলি করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় কুপিয়ে আহত করা হয় বাস মালিক সমিতির আরেক কর্মীকে। এ ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা বন্ধ থাকে বাস চলাচল।
শুক্রবার (২১ জুন) রাতে নাটোরের বড়হরিশপুর বাস টার্মিনালে ঘটে এই ঘটনা।
জানা যায়, নাটোর বাস মালিক সমিতির ৩৫০ জন সদস্যের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ১৫টি করে বাস যাত্রী পরিবহনের জন্য সড়কে দেওয়ার কথা। কিন্তু সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান নিয়ম না মেনে তার মালিকাধীন রাজকীয় পরিবহনের ২০টি বাস সড়কে ছাড়েন। এ নিয়ে এই পথে চলাচলকারী অন্য বাস মালিকদের সঙ্গে বিরোধ বাধে। এই বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে নাবিলা পরিবহনের মালিক বাবুল আখতার ও রাজকীয় পরিবহনের ম্যানেজার খোকার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন লোক বড়হরিশপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে হামলা চালান। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে এলোপাতাড়ি গুলি করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হন রোকেয়া পরিবহন মালিকের ভাতিজা সুবেল(২৭)। এ ছাড়াও কুপিয়ে আহত করা হয় মালিক সমিতির কর্মী নীরেন্দ্র নাথকে(৪৫)। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
আহত ব্যক্তিদেরকে প্রথমে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল ও পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুব্রত ঘোষ বলেন, গুলিবিদ্ধ একনজসহ কুপিয়ে যখম হওয়া এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
নাটোর বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এহিয়া চৌধুরী জানান, টার্মিনালে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দুজনকে আহত করা হয়েছে। পরিস্থিতি উতপ্ত হলে নাটোর পুলিশ সুপার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এসে শ্রমিকদের শান্ত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে বাস মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও রাজকীয় পরিবহনের মালিক মজিবর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকালে আমার কিছু বাস আটকে দেওয়া হয়েছিল টার্মিনালে। প্রশাসনকে জানানোর পর আবার ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মারামারির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরেই বাস টার্মিনালে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।
