নবম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বড় চমকের নাম আফগানিস্তান। পুরুষদের বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো সেমিফাইনাল খেলার যোগ্যতা অর্জন করেন রশিদ খানরা। সেটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত দেশটির নারী ক্রিকেটাররাও। তবে প্রদীপের আলোর নিচে অন্ধকারের মতো অবস্থায় রয়েছেন আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেটাররা। তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তারা দেশ থেকে বিতাড়িত হয়েছেন।
এই মুহূর্তে বেশির ভাগ অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। কেউ কেউ যুক্তরাজ্য ও কানাডাতে অবস্থান করছেন। নিজ দেশ থেকে বের হওয়ার পরে তারা কোনো টুর্নামেন্টেও খেলতে পারছেন না। রশিদদের খবর চারপাশে নজর কাড়ার পরে নারী ক্রিকেটাররাও সামনে আসার চেষ্টা করেছেন। বিদেশে বসে ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে চিঠি লিখে একটি শরণার্থী দল গড়ার আকুতি জানিয়েছেন ১৭ জন ক্রিকেটার। বিষয়টি নিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ২০২০ সালে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) ১৭ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসে। কিন্তু তালেবানদের হাতে ক্ষমতা গেলে নারী ক্রিকেটের ওপরে নেমে আসে নিষেধাজ্ঞা। এখন তারাই অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক একটি শরণার্থী দল গঠনের জন্য আইসিসির সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। খেলোয়াড়রা গত ২৯ জুন আইসিসির সভাপতি গ্রেগ বার্কলের কাছে এই চিঠি লেখেন। যেহেতু এসিবি তাদের স্বীকৃতি দিতে অক্ষম সেহেতু আইসিসির ‘সমর্থন এবং নির্দেশনা’ জরুরি বলে ক্রিকেটাররা জানিয়েছেন।
খেলোয়াড়রা স্বীকার করেছেন যে, আফগানিস্তানের সরকারি নীতির কারণে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসি তাদের একটি জাতীয় দল হিসাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে না। তারা চিঠিতে লিখেছেন, ‘আফগানিস্তান নারী দলে পূর্বে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড় হিসেবে ছিলাম আমরা। আইসিসি পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের অর্জনে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত। রশিদ খান ও তার দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছানোর জন্য অভিনন্দন জানাতে চাই। কিন্তু গভীর দুঃখের বিষয় যে, আমরা নারী হিসেবে পুরুষ ক্রিকেটারদের মতো আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি না। এই মুহূর্তে আইসিসি কোনো সহায়তা না পেলে আমাদের ক্রিকেট আর আলোর মুখ দেখবে না।’
২০২০ সালের নভেম্বরে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে ২৫ জন নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে রাখার বিষয়ে এসিবি সম্মতি প্রকাশ করেছিল। তাদের প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট হিসেবে ওমান সফরের কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু তার নয় মাস পরে তালেবানরা ক্ষমতায় এসে দেশটিতে নারীদের খেলাধুলাসহ জনজীবনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এরপরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তারা। অস্ট্রেলিয়া এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলা থেকে বিরত থেকেছে। তারা শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে।
